স্বরূপকাঠি উপজেলা সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ স্বরূপকাঠি উপজেলা সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ - ajkerparibartan.com
স্বরূপকাঠি উপজেলা সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

3:42 pm , March 10, 2022

 

স্বরূপকাঠি প্রতিবেদক ॥ স্বরূপকাঠি (নেছারাবাদ) উপজেলা সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে ডিজি অফিসের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করাসহ নানা ধরনের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুয়া তথ্য দিয়ে চাকুরী নেওয়া (মাত্র ১৮ বছর ৩ মাস ৩ দিনে সরকারী চাকুরীতে যোগদান), ডিজি অফিসের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে ভুঁয়া চিঠি বানিয়ে নিজের স্থগিত হওয়া উচ্চতর বেতন স্কেলে বেতন ও ইনক্রিেেমন্ট উত্তোলন ও তা পুনরায় ফেরৎ দেওয়া, একই ভাবে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে বিভিন্ন জনকে চাকুরী দেওয়া, নিজ অফিসে চাকরি সংক্রান্ত তথ্যাদি জমা না দেওয়া, বেশিরভাগ সময় অফিসে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ রয়েছে। জানাগেছে মো.হুমায়ুন কবির ১৯৬৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর জন্ম গ্রহন করে ১৯৮৭ সালের ১ মার্চ টি,এফ,পি,এ পদে চাকুরীতে যোগদান করেন। সে অনুযায়ী চাকুরীতে যোগদানের তারিখে তার বয়স হয়েছিল ১৮ বছর ২ মাস ৩ দিন। প্রশ্ন দাড়ায় কতদিন আগে চাকুরীর বিজ্ঞপ্তি হয়েছে এরপর লিখিত, মৌখিক পরীক্ষা নিয়োগপত্র দিতে কতদিন সময় লাগা প্রয়োজন। সে অনুযায়ী ২ মাস ৩ দিনে সব কার্যক্রম শেষ হওয়া সম্ভব কিনা। চাকুরীর কোটা অনুযায়ী জন্মস্থান ও নিজ জেলা বরগুনা থেকে চাকরি হওয়ার কথা। কিন্তু তিনি চাকরি নিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলার কোটা থেকে। পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের তার ব্যাক্তিগত ডাটা থেকে দেখাযায়, তার স্থায়ী ঠিকানা বরিশালের কোতওয়ালী থানার ২৪ নংওয়ার্ডের (রূপাতলী) আব্দুল হামিদ খান সড়কে। তিনি ১৯৮৬ সালে এইচ এসসি পাশ করে ১৯৮৭ সালে চাকুরীতে যোগদান করেন। চাকরিরত অবস্থায় ১৯৮৯ সালে বিএ, ১৯৯২ সালে এমএ এবং ১৯৯৫ সালে এলএলবি পাশ করেন। এসব পরীক্ষা সমুহে অংশগ্রহনে তিনি বিভাগীয় অনুমতি নিয়েছেন কিনা। বরিশাল বিভাগীয় কর্মকর্তার নির্দেশে তার চাকুরি সংক্রান্ত তথ্যাদি ও যাবতীয় কাগজপত্রাদি প্রেরনের জন্য মো. হুমায়ুন কবির সাহেবের এসএসসি পাশের সনদ, টিএফপিএ হিসেবে প্রথম যোগদানপত্র, চাকুরির সার্ভিস বই, সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতিপত্র, যোগদানপত্র, স্থায়ী ঠিকানা সম্বলিত তথ্যাদি চেয়ে মেডিকেল অফিসার (এমসিইচ-এফপি) ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়ীত্ব) ডা. মো. গিয়াসউদ্দিন খান বারবার চিঠি দিলেও তিনি কোন কাগজপত্র জমা দেননি। ডা. গিয়াসউদ্দিন খান বলেন, উপজেলা সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কাই করেন না। আমি বর্তমানে অবসরে গিয়েছি। সুতরাং এখন আর কি বলব। গোপালগঞ্জে চাকুরি রত সময়ে তার স্থগিত হওয়া উচ্চতর বেতন স্কেল ও ইনক্রিমেন্ট ডিজি অফিসের কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে ভুঁয়া চিঠি তৈরি করে উপজেলা হিসাবরক্ষন অফিস থেকে টাকা উত্তোলন করেন। ওই চিঠি সঠিক নয় মর্মে ডিজি অফিস থেকে বার্তা পেয়ে হিসাব রক্ষন অফিস থেকে টাকা ফেরত দিতে বললে তিনি উত্তোলন করা টাকা ফেরত দেন। উপজেলা হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন । এ বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক গত ২৪ ফেব্রুয়ারী তদন্ত করেছেন। এছাড়াও ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলার গৌরিপুরে ফার্মাসিষ্ট পদে মো. শহিদুল ইসলাম, কাউখালী উপজেলার সয়না রঘুনাথপুরে ফার্মাসিষ্ট পদে শাহানাজ আক্তার ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে অফিস সহায়ক পদে মো. আসাদুল আলম এবং গৌরনদী উপজেলায় ফার্মাসিষ্ট পদে মো.মাহাবুবুর রহমানকে চাকুরী দেন। এরা সকলেই হুমায়ুন কবিরের নিজ এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে ওই ব্যাক্তিদের কাগজপত্রও তিনি তৈরি করে দিয়েছেন। বিষয়টি ধরা পড়ার পর ওইসব ব্যাক্তিরা পালাত করয়েছেন। উপজেলা সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো.হুমায়ুন কবির মাসের মধ্যে ২/৩ দিনের বেশী অফিসে আসেন না। মাঠে থাকার তথ্য দিয়ে অফিস থেকে চলে যান। এ সব অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য স্থানীয় সাংবাদিকরা ৩ দিন তার অফিসে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ৪র্থ দিনে অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়। ওই দিন তার ভূয়া জিওর মাধ্যমে বাতিল হওয়া উচ্চতর বেতন উত্তোলন বিষয়ের বিভাগীয় তদন্ত হচ্ছিল। এসময় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়ীত্ব)জহর বালার উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের সাথে স্বাক্ষাতকার দেওয়ার জন্য নিজেই ১ মার্চ তারিখ নির্ধারন করেন। বিষয়টি তদন্তে আসা উপ সচিব মোহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক মহোদয়ের সামনে পিরোজপুরের উপ পরিচালক দীলিপ কুমার দাসকে জানানো হয়। ১ মার্চ তিনি অফিসে আসেননি। বহুবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। হঠাৎ করে ঘন্টা দুয়েক পরে তাকে ফোনে পাওয়া গেলে তিনি বলেন, আমি ছুটিতে আছি। অভিযোগ সমুহের ব্যাপারে মতামত জানার কথা বললে তিনি ফোনেই মতামত নেওয়ার জন্য বলেন। তিনি বলেন, তার নিজ জেলা বরগুনা, লেখাপড়া করেছেন সিরাজগঞ্জ থেকে। সে কারনে সিরাজগঞ্জ জেলা কোটায় তিনি চাকুরী পেয়েছেন। ব্যাক্তিগত ডাটায় স্থায়ী ঠিকানা বরিশাল শহরে কেন? এমন প্রশ্নে বলেন তিনি ওখানেও বাড়ী করেছেন। জন্ম তারিখ, চাকুরীতে যোগদানের তারিখ সম্পর্কে পরে জানাবেন বলেই ফোন কেটে দেন। এরপর বেশ কিছুদিন তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি বিধায় আর কোন মতামত পওয়া যায়নি। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়ীত্ব) জহর বালা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে স্বীকার করে বলেন আমি অতিরিক্ত দায়ীত্বে আছি তাই বেশি কিছু বলতে চাইনা। তিনি জানান জেলা অফিসে সভা চলাকালীন সময়ে একটি ছুটির দরখাস্ত দিয়ে গেছেন। পিরোজপুরের উপপরিচালক দীলিপ কুমার দাসের সাথে কথা বললে, তিনি জানান, লোকটি কোন কথা শোনেন না বলে উপজেলা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অফিসিয়াল নির্দেশ মানতে কর্মকর্তা কর্মচারীগন বাধ্য। কিন্ত তার বিষয়টি এখনো বুঝে উঠতে পারছি না। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে এবং এগুলোর পর্যাক্রমে তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত শেষে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT