স্বরূপকাঠিতে সমবায় সমিতির নামে চলছে জমজমাট সুদের ব্যবসা স্বরূপকাঠিতে সমবায় সমিতির নামে চলছে জমজমাট সুদের ব্যবসা - ajkerparibartan.com
স্বরূপকাঠিতে সমবায় সমিতির নামে চলছে জমজমাট সুদের ব্যবসা

1:00 am , March 6, 2022

লাখপতি অফার প্রলোভনে

মো. নজরুল ইসলাম, স্বরূপকাঠি ॥ স্বরূপকাঠিতে সমবায় সমিতির নামে অবাদে চলছে জমজমাট সুদের ব্যবসা। উপজেলা সমবায় দফতর থেকে রেজিষ্ট্রেশন নিয়ে ক্ষুদ্র ঋন দান সমিতি, সঞ্চয় ও ঋন দান সমবায় সমিতির বাহারী নামে শত শত ঋনের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে ওই উপজেলায়। কেউ কেউ ‘লাখপতি অফার’ নামে দিচ্ছেন লোভনীয় অফার। গড়ে ওঠা শতশত (কথিত এনজিও) সুদ ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে গোটা স্বরূপকাঠি। সাদা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে ইচ্ছেমত টাকা বসিয়ে মামলা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অহরহ। ভরা সভায় এলাকার সংসদ সদস্যের নির্দেশকেও উপেক্ষা করে নির্বিকার সমবায় দফতর। সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকাঘুরে সাধারন মানুষের সাথে কথা বলে জানাগেছে এসব তথ্য। স্বরূপকাঠি উপজেলার সর্বত্র ব্যাঙের ছাতার মত রাতারাতি গড়ে ওঠছে শতশত সমবায় সমিতি নামক তথা কথিত এনজিও। উপজেলার মাদ্রা, আতা কুড়িয়ানায় প্রতিদিন বিকেলে সমিতি হাট বসে। ঋন গ্রহীতা আর এনজিও কর্মীদের পদচারনায় ওই এলাকার রাস্তাঘাটে চলাচল করাও মুশকিল হয়ে দাড়ায়। এছাড়া উপজেলা সদর, কামারকাঠি, জলাবাড়ী, পূর্ব জলাবাড়ী, জৌসার ,জিনুহার, ইদিলকাঠি, বাটনাতলা, গনকপাড়া, ডুবি, চৌদ্দরশিসহ উপজেলার সবত্রই রয়েছে নানা প্রকার বাহারী নামের সমবায় সমিতি। শান্তিরহাট বাজারের একসময়ের সব্জি বিক্রেতা আবুল কালাম বলেন, ওসব সমিতি থেকে ঋন নিয়ে গ্রামের হতদরিদ্র থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা হচ্ছেন সর্বশান্ত। ইতোমধ্যে বহু মানুষ ঘরবাড়ী বিক্রি করে দেশান্তরী হয়েছেন। অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। অপর দিকে এনজিও মালিক নামক সুদ ব্যবসায়ীরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ নয় তাল গাছ হয়ে ওঠছেন অনেকে। হচ্ছেন বিশাল অর্থ সম্পদের মালিক। ওইসব সুদের ব্যবসায়ীদের দাপটে গোটা স্বরূপকাঠি কাঁপছে। সমুদয়কাঠি এলাকার সাবেক শিক্ষক মো. সুলতার হোসেন বলেন, এনজিও গুলোর দাপটে এলাকায় টেকা দায়। রাস্তাঘাটে সর্বত্রই এনজিও কর্মীদের পদচারনায় মানুষ অতীষ্ট। বাড়ীবাড়ী ঝগড়া বিাদ লেগেই রয়েছে।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সম্পাদক মো. মহিবুল্লাহ বলেন, ওই উপজেলায় সমবায় সমিতির নামে আইন বহির্ভূত ভাবে ২০% – ৩০% পর্যন্ত সুদ নিয়ে ঋন দিয়ে কিস্তি আদায় করছেন। রেজিষ্ট্রেশন নিতে দেখানো ২০-৩০ জন সদস্য ছাড়াও শতশত মানুষকে তাদের সমিতির তাৎক্ষনিক সদস্য বানিয়ে ব্যাংকের চেক জমা রেখে ঋন দিচ্ছে অহরহ। অনেকগুলো সমিতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আবার কেউ কেউ অন্য উপজেলাতেও অসংখ্য শাখা অফিস খুলে চালাচ্ছেন ব্যবসা। সমবায়ে রেজিষ্ট্রেশনে গড়ে ওঠা ওইসব এনজিও ( সুদী ব্যবসায়ী)গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যাক্তিদের ম্যানেজ করে নিরবিচ্ছিন্ন ব্যবসা করে চলছেন। জলাবাড়ী ইউনিয়নের মাদ্রা বাজারে গিয়ে দেখাযায়। ওই বাজারে প্রবেশের রাস্তার দুধারে সারিসারি সমবায় সমিতি নামক কথিত এনজিও রয়েছে। ছোট্ট ওই বাজারে ২২ টি সমিতি রয়েছে। যে খানে প্রতিদিন বিকেলে পুরোপুরি হাট বসে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই এলাকার এক সমাজ সেবক আইনজীবি বলেছেন, সুদ ব্যবসায়ীদের দাপটে রাস্তায় বেরোনোই দায়। একই ইউনিয়নে আতা বাজারের চেহারাও এক। আরামকাঠির শান্তিরহাট বাজারের রহমত সর্বেসর্বা। একসময়ের চা দোকানের মেসিয়ার থেকে আজ সে অঢেল অর্থ বৈভবের মালিক বনেগেছেন। ওইখানে নামিধামী এনজিওসহ অণ্যান্য সমিতিগুলোও তার দাপটে টেকা দায়। রহমতের সমিতির দাপটে তিন /চার বছর আগেই অফিস গুটিয়ে স্বরূপকাঠি সদরে চলে গিয়েছে আশা এনজিও। ওই ইউনিয়নের কামারকাঠির মোল্লাবাড়ী বাজারে সজল নামে এক ব্যাক্তি সমবায় থেকে রেজিষ্ট্রেশন নিয়ে দক্ষিন বাংলা সঞ্চয় ও ঋনদান সমবায় সমিতি লিঃ নামে লাখপতি বানানোর কারখানা খুলে বসেছেন। তিনি লোভনীয় অফারের সাইনবোর্ড ব্যানার টানিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করছেন টাকা জমা রাখতে। ‘লাখপতি অফার’ নামে ব্রুশিয়ার, লিফলেট বিতরনের মাধ্যমে মানুষকে আকৃষ্ট করে নেওয়া হচ্ছে আমানত। ব্যাংকিং কায়দায় পাঁচ বছর, সাত বছর ও দশ বছর মেয়াদী আমানত সংগ্রহ করছেন সজল। ভুক্তভোগী রুস্তুম আলীসহ অনেকেরই অভিযোগ সজল সাধারন মানুষের কাছ থেকে ডিপিএস জমা করান প্রলোভন দেখিয়ে। কোন সদস্য ২/৩ কিস্তি টাকা জমা দিতে না পারলেও তেমন কোন চাপ থাকে না। কিন্তু তিন চার বছর হওয়ারপর ওই খেলাপীর দায়ে হঠাৎ তার ডিপিএস কেটে দেওয়া হয়। কোন ডিপিএসকারী বিপদে পড়ে যদি ঋন নিতে যায় তাহলে তার কাছ থেকে চড়া সুদ আদায় করা হয়। এ বিষয়ে সজল বলেন, লাখপতি অফার এখন চলাই না। তার টেবিলে সর্বত্রই পাওয়া যায় ওই অফারের ব্রুশিয়ার ও লিফলেট কেন এ প্রশ্নে জবাবে চুপ করে থাকেন। সে হাজার হাজার সদস্য সৃষ্টি করে ক্ষুদ্র ঋনের ব্যবসা,ডিপিএস, দৈনিক সঞ্চয় প্রকল্প,মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প, মাসিক মুনাফা প্রকল্প চালানোর কোন অনুমোদন কোন কর্তৃপক্ষের আছে কিনা এর জবাবে তিনি সমবায় দফতরের একটি কাগজ বের করে দেন। যার কোথাও ওইসব অফার দেওয়ার কোন নিয়ম নেই। তার এক হাজার সদস্য রয়েছে বলে স্বীকার করেন। জলাবাড়ী বাজারে ন্যাশনাল সঞ্চয় ও ঋনদান সমবায় সমিতি নামে অফিস খুলে নানা প্রকার লোভনীয় অফার দিয়ে সুদের ব্যবসা করছেন সঞ্জু ঘোষ। সমুদয়কাঠি এলাকার রিপন মাঝি নামে এক জেলে অভিযোগ করেন তিনি ন্যাশনাল সঞ্চয় ও ঋনদান সমবায় সমিতি থেকে সাত হাজার টাকা ঋন নিয়ে জাল কিনেন। এজন্য প্রতি মাসে ৭০০/- টাকা করে সুদ দেন আটমাস পর্যন্ত। এরপর ২ মাস সুদ দিতে না পারায় তাকে ধরে অফিস ঘরে নিয়ে একটা বইয়ে টিপ সই নিয়ে তাতে ২০ হাজার টাকা ঋন হিসেবে লিখে নিয়েছে। এ বিষয়ে সঞ্জু ঘোষ জোর করে টিপসই নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। ওইসব সমিতি গুলো উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অফিস খুলে অবাদে ব্যবসা চালাচ্ছেন। ওইসব সমিতির বেশিরভাগ কালেক্টর হিসেবে কাজ করেন নারী কর্মীরা। নারী কর্মীদের কেন্দ্র করে নানা অসামাজিক কর্মকান্ডে অভিযোগ ওপেন সিক্রেটে পরিনত হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা কামরুল হাসানের সাথে কথা বললে, তিনি বলেন যত খুশি সদস্য বানিয়ে উপজেলার সর্বত্রই ক্ষুদ্র ঋন দিতে পারবে। শাখা খুলে সমিতি চালানো যাবে। এ বিষয়ে সরকারী নির্দেশনা দেখতে চাইলে তার নিজের রুমে থাকা আলমিরার মধ্যে কাগজপত্র রয়েছে। কিন্তু তার কাছে চাবি নেই সুপারভাইজারের কাছে চাবী থাকার কথা বলে কাগজ দেখাতে পারেননি। ব্যাংকিং পদ্ধতিতে বা লাখপতি বানানোর অফার নামে বা অন্য কোন নামে লোভনীয় অফার দেওয়া যাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, লোভনীয় অফার দেওয়া যাবে না। যারা দিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, টাকা লগ্নি না করলে সদস্যদের মুনাফা দিবেন কি করে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT