ঝালকাঠির থামছে না সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর বালু সিন্ডিকেটের জমজমাট অবৈধ বানিজ্য ঝালকাঠির থামছে না সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর বালু সিন্ডিকেটের জমজমাট অবৈধ বানিজ্য - ajkerparibartan.com
ঝালকাঠির থামছে না সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর বালু সিন্ডিকেটের জমজমাট অবৈধ বানিজ্য

3:35 pm , February 26, 2022

 

রিয়াজুল ইসাম বাচ্চু, ঝালকাঠি ॥ সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে থামানো যাচ্ছেনা বালু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ব। বালু মহল ঘোষনা না হলেও সরকারকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হচ্ছে অবৈধ বালু উত্তোলন করে। সম্প্রতি ঝালকাঠির ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে কোটি টাকার বাণিজ্যের হিসেব পাল্টে যেতে বসেছে। এ বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে সিন্ডিকেট সদস্যরা নড়েচড়ে বসেছে। অভিযান বন্ধে এবার তদবীর বাণিজ্যে নেমেছে তারা।এ তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রের। এই বানিজ্য করে কলাবাগান এলাকার একজন নৌকার মাঝি এখন বিলাশ বহুল বাড়ির মালিক। যিনি এখন একাধিক ড্রেজার এবং ট্রলার মালিকও। এভাবেই রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে বিশাল বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছে এ বালু সিন্ডিকেটের সদস্যরা। অবৈধ ড্রেজার গুলোর কোন বৈধ কাগজপত্র না থাকায় অভিযানের সময় এগুলো জব্দ করার দাবি ভাঙ্গন এলাকার মানুষের।
এসব ড্রেজারে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করায় হুমকীর মুখে ঝালকাঠি শহর রক্ষা বাঁধ। অপর দিকে নদী তীরের আবাদি জমি, বসত ঘর সবকিছু হারিয়ে সর্বহারা হয়েছে শত শত পরিবার। বালু সিন্ডিকেটের সদস্যরা চড়া দামে এ বালু বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। প্রতি মাসে কোটি টাকার এই অবৈধ বানিজ্যের কমিশন বিভিন্ন স্থানে দিয়ে ম্যানেজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চালানো হচ্ছে বালু বানিজ্য। ইতিপূর্বে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের অবৈধ বালু উত্তোলন দিনের বেলায় বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু তাতেও থেমে নেই সিন্ডিকেট। এরপর শুরু করেছে রাতের বাণিজ্য। একটানা মাসের পর মাস রাতে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে নির্বিঘেœ। কিন্তু সম্প্রতি ঝালকাঠিতে বদলী হয়ে আসেন জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট বশির গাজী। তিনি ঝালকাঠির কর্মস্থলে যোগ দিয়েই গত ১ মাসে ৩ বার রাতে সুগন্ধা নদীতে অভিযান পরিচালনা করেন। এসব অভিযানের মাধ্যমে সিন্ডিকেট সদস্যদের বড় অংকের জরিমানা, কারাদন্ড করেছেন। যা ছিল সাধারণ মানুষের কল্পনাতীত। অভিযানের সময় ধরা পরে এরা এ কাজ থেকে বিরত থাকার হলফনামা দিলেও থেমে নেই। ফাঁকে ফাঁকে তারা ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করেই যাচ্ছে। নদীতে হারানো সর্বহারা মানুষের দাবি যতদিন এদের ড্রেজার যন্ত্রপাতি জব্দ করে মামলা দেয়া না হবে ততদিন এই অবৈধ কার্যক্রম থামানো যাবেনা। যদিও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট বশির গাজী জানিয়েছেন এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঝালকাঠির সুগন্ধা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে তিন শ্রমিককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ বছরের গত ২৪ জানুয়ারি রাত ৮ টার দিকে শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ দন্ড প্রদান করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বশির গাজী। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, পটুয়াখালীর বিঘাই গ্রামের মো. ফজলুল খানের ছেলে মো. রাসেল খান (২৪), বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের সাংটিভাঙ্গা এলাকার আকলেছুর রহমোনের ছেলে মো. অমিনুল ইসলাম (৪২) ও বরগুনার আমতলীর ফকিরখালী এলাকার মানজের আলমের ছেলে মো. মহসিন (৩৬)। দন্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এরপর গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ৮ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুগন্ধা নদীতে অভিযান চালিয়ে রাতে অবৈধ ভাবে ড্রেজারে বালু উত্তোলন করায় ৩ জনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. বশির গাজী এ অভিযান চালান।
উল্লেখ্য দীর্ঘ দিন ধরে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে রাতের আধারে অবৈধ ভাবে একটি সিন্ডিকেট ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে। যা ওপেন সিক্রেট হলেও এদের বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয়ায় সন্ধ্যার পরে শুরু করে সারা রাত এরা বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে নদী তীরের শত শত মানুষ প্রবল ভাঙ্গনের কারনে আবাদী জমি ও বসত বাড়ি হারিয়ে সর্বহারা হয়েছে। ঝালকাঠি শহর রক্ষাা বাাঁধও এখন হুমকীর মুখে। বালু উত্তোলন এবং বন্ধের প্রতিবাদে এলাকার মানুষ মানববন্ধনসহ লিখিত অভিযোগ করেও কোন সুফল পাচ্ছিলনা।
তৃতীয় অভিযান চালানো হয় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১০ টার কিছু আগে। ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সিন্ডিকেটের বালু উত্তোলন প্রতিরোধে এ নিয়ে ৩টি অভিযান পরিচালনা করা হয় সুগন্ধা নদীতে। এ অভিযানে পাঁচ জন ড্রেজার ও বাল্কহেডের মালিককে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮৬০ টাকা জরিমানা করা হয়। অর্থদন্ড প্রাপ্তরা হলো বালু ব্যাবসায়ী আব্দুল কাইউম, মোহাম্মদ কামাল হোসেন, মোহাম্মদ এরশাদ, আব্দুল আউয়াল এবং মোহাম্মদ ইব্রাহিম। তখন নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছিলো সিান্ডকেট চক্র।
এ প্রসঙ্গে ঝালকাঠির রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ বশির গাজী বলেন, সুগন্ধা নদী থেকে প্রায় সময়ই অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে একটি অসাধু মহল। প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে একটি চক্র রাতের আধারে বালু উত্তোলন করছে। এতে সুগন্ধার বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। আমরা বিভিন্ন সয়য় একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। তাদেরকে প্রমানসহ ধরে আইন অনুযায়ী অর্থদন্ড দেয়া হচ্ছে। এলাকাবাসির অভিযোগ নদীর মাঝখান থেকে বালু উত্তোলনের কারনে ঝালকাঠি লঞ্চঘাট থেকে কাটপট্টি পর্যন্ত বেড়িবাঁধটি ভেঙ্গে যাচ্ছে। তীব্রতর হচ্ছে নদী ভাঙন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT