কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চে বরিশাল পৌছেছে দুর্ঘটনা কবলিত সুরভী-৯ এর যাত্রীরা কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চে বরিশাল পৌছেছে দুর্ঘটনা কবলিত সুরভী-৯ এর যাত্রীরা - ajkerparibartan.com
কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চে বরিশাল পৌছেছে দুর্ঘটনা কবলিত সুরভী-৯ এর যাত্রীরা

3:44 pm , February 17, 2022

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্থ ঢাকা থেকে বরিশালগামী এমভি সুরভী-৭ লঞ্চ মেরামতের জন্য মুন্সীগঞ্জের একটি ডক ইয়ার্ডে নেয়া হয়েছে। এছাড়াও ওই লঞ্চের যাত্রীরা নিরাপদে এমভি কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চে নিরাপদে বৃহস্পতিবার বরিশালে পৌঁছেছেন। লঞ্চের যাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৯টায় ঢাকার সদরঘাট থেকে ৫৩৯ জন যাত্রী নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। পথিমধ্যে ধলেশ্বর নদীতে রাত ১০টার দিকে সুরভী-৭ লঞ্চের ধাক্কায় একটি বাল্ক হেড ডুবে যায়। পরে লঞ্চটি তীরে থামিয়ে তলদেশ পরীক্ষা করে দেখা যায়, তলানীতে পানির স্তরের উপরে ফাঁটল ধরেছে। খবর পেয়ে কোস্টগার্ড সহ সংশ্লিস্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা ওই লঞ্চটি পরিদর্শন করে। তারা লঞ্চটি ঝূঁকিপূর্ন হওয়ায় যাত্রা স্থগিত করেন। পরে এ রুটের এমভি কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চে যাত্রীদের বরিশাল পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক কবির হোসেন জানিয়েছেন, সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে নিরাপদে সুরভী-৭ লঞ্চের যাত্রীদের এমভি কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চে বরিশাল নদী বন্দরে পৌঁছেছে। এমভি সুরভী-৭ লঞ্চের মাস্টার হুমায়ুন কবির জানান, তাদের লঞ্চটি বর্তমানে মুন্সীগঞ্জের থ্রি অ্যাঙ্গেল শিপ ইয়ার্ডে মেরামতের জন্য নেওয়া হয়েছে। তবে লঞ্চের যে অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা পানির উপরিভাগে থাকায় বড়ধরনের কোনো ঝুঁকি ছিল না। তারপরও যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চ ঘটনাস্থলে এনে যাত্রীদের উঠিয়ে বুধবার দিনগত রাত ৩টার দিকে বরিশালের উদ্দেশে পাঠানো হয়।
তিনি আরো জানান, লঞ্চটি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া সংলগ্ন ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদীর সংযোগ স্থল অতিক্রমকালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাল্কহেড সুরভী লঞ্চকে ধাক্কা দেয়। বাল্কহেডটিতে কোনো ধরনের সাংকেতিক চিহ্ন বা বাতি ছিল না। ফলে সেটি রাতে দূর থেকে দেখাও যায়নি। আর ওই বাল্কহেডটি অন্য একটি বাল্কহেডের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছিল এবং হঠাৎ করে বাল্কহেডটি নৌপথে চলাচলের নির্ধারিত পাশ থেকে বিপরীত পাশ দিয়ে চলছিল।
বাল্কহেডের ধাক্কায় আমাদের লঞ্চের সামনের পানির ওপরের অংশ ফেটে যায় এবং ধাক্কার লাগার পরপরই বাল্কহেডটি ডুবে যায়। এ সময় আমরা লঞ্চ থেকে নদীতে বয়া ফেলে বাল্কহেডের আরোহীদের সহায়তাও করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, রাতে নৌপথের নিরাপত্তার স্বার্থে বাল্কহেড চলাচল পুরোপুরি নিষিদ্ধ। কিন্তু তারপরও নিয়মিত বাল্কহেড চলাচল করছে। এ ঘটনার সময় কাছাকাছি এমভি পারাবত-১৮ ও মানামী নামে দুটি লঞ্চ ছিল। যেগুলোও দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারতো। এ ঘটনায় লঞ্চ কর্তৃপক্ষ মেরিন আদালতে মামলা দায়ের করবে বলে জানিয়েছেন মাস্টার হুমায়ুন কবির।
এদিকে বরিশাল নদী বন্দরে পৌঁছানো যাত্রীরা জানান, বাল্কহেডটির কোনো সাংকেতিক বাতি ছিল না। দ্রুত গতিতে চলা সুরভী-৭ এর সঙ্গে প্রথমে বাল্কহেডটির সংঘর্ষ হয়। বিষয়টি খেয়াল না করে মানামী লঞ্চ সুরভী লঞ্চকে ওভারটেক করতে গিয়ে মানামী লঞ্চের সঙ্গেও বাল্কহেডটির ধাক্কা লাগার উপক্রম হয়। মানামী লঞ্চের পাশে আরও একটি বাল্কহেড ছিল, সেটিও অল্পের রক্ষা পেয়েছে। দুইটি বাল্কহেডের মাঝখান দিয়ে দ্রুতগতিতে মানামী লঞ্চ বের হয়ে গেছে। আর সুরভী লঞ্চের পেছনে ছিল পারাবাত-১৮ লঞ্চ। অল্পের জন্য সুরভী লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা লাগেনি পারাবাত লঞ্চের। পুরো দোষ বাল্কহেডের থাকলেও এমন ভাবে লঞ্চ চালানো উচিত নয়।
যাত্রীরা আরও জানান, ধাক্কা লাগার পর সুরভী-৭ লঞ্চটি কিছুক্ষণ থামিয়ে রেখে আবার চালু করা হলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। পরে পুনরায় নদীর তীরে লঞ্চটি নোঙর করা হয়। পরে সেখানে পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা আসেন।
এদিকে কলাগাছিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. জহিরুল হক জানান, বালুবাহী বাল্কহেডটি ঢাকার ডেমরার দিকে যাচ্ছিলো। লঞ্চের সঙ্গে সংঘর্ষের পর এটি ছয়জন শ্রমিক নিয়ে ডুবে যায়। তাদের মধ্যে পাঁচজন শ্রমিককে জীবিত পাওয়া গেলেও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্যরা নিখোঁজ শ্রমিককে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT