3:14 pm , February 3, 2022
কাজী মিজানুর রহমান ॥ একটি নগরীর জনসংখ্যার ঠিক কত অংশ ব্যক্তিগত যান ব্যবহার করে তার সঠিক পরিসংখ্যান সম্ভবত রাখা হয় না। রাস্তার আয়তন,অফিস আদালত,বাজার শপিংপ্লেস, প্রভৃতি স্থানে চলাচল করলে এ সম্পর্কে একটি ধারনা পাওয়া যায়। আমাদের রাস্তার ধারনক্ষমতার চাইতে যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেশি।এর বাইরে আছে ট্রাফিক অমান্য করার প্রবণতা।জনসাধারনের হাটার ফুটপাত অবৈধ দখলদারদের কবলে।আমাদের সাইকেল লেন নেই। যানজট এবং কর্মঘন্টা নষ্ট এখন নিত্যনৈমিত্তিক। নগরীর গুরুত্বপূর্ন সড়কের ফুটপাত দখলমুক্ত এবং অবৈধ পার্কিংমুক্ত করতে ট্রাফিক পুলিশের অভিযান চলে,মামলা,জরিমানা হয়।এতে সাময়িক পরিত্রাণ মিললেও এটার স্থায়ী সমাধান নয়। নগরীর বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক (সদর রোড), গীর্জা মহল্লা, ফজলুল হক এভিনিউ, চকবাজারসহ প্রায় সর্বত্র একই চিত্র। অফিসপাড়া জেলাপ্রশাসন ভবন এলাকাসহ আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন অফিস আছে যেখানে প্রবেশ করাই প্রায় দুঃসাধ্য। জেলা রেজিস্ট্রার, সাবরেজিস্ট্রার, উকিল লাইব্রেরি, মসজিদ, ডিসিএ অফিস। প্রতি কর্মদিবসে প্রচুর সেবা প্রত্যাশি মানুষ কার্যোপলক্ষ্যে এই অফিসগুলোতে আসেন। একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল চড়ে আসেন, দু-চারটি প্রাইভেট কারও আসে।এই সকল যানবাহন অনেক সময় প্রায় সারাদিন এখানে পার্কিং করা থাকে। কিছু সংখ্যক আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকে। দুঃখজনক বা দুর্ভাগ্যক্রমে এখানে পার্কিংয়ের কোন নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নাই।বেশিরভাগ মানুষই এলোমেলো এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে মোটরসাইকেল ফেলে রাখে।এর মধ্যে দুএকখানা প্রাইভেট কার ঢুকলে খুবই খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়। প্রায়ই পার্ক করার জায়গা পাওয়া যায় না। উপায়ন্তর না পেয়ে বেড়িয়ে যেতে চাইলেও তা খুব সহজ নয়। ডিসিএ অফিসের প্রবেশমুখে ভাসমান বাজার ঠেলে অক্ষত আসতে পারলেও ফজলুল হক এভিনিউতে মাছ-মুরগি,তরকারি, ফলের স্থায়ী বাজার,ভ্যান এড়িয়ে গাড়ি অক্ষত রাখা খুব সহজ নয়। একটি বিভাগীয় শহরে এমন অবস্থা কাঙ্ক্ষিত নয় কিন্তু উত্তরণের চিন্তা ভাবনার কথাও শোনা যায় না। বিধিলিপি মনে করে লোকজন নীরবে মেনে নিচ্ছেন। একজন সাধারন নাগরিকের চোখ দিয়ে দেখলে বোঝা যায়,অপরিকল্পিত নগরায়ন এর জন্য এককভাবে দায়ী। স্কুল, আদালত, সরকারি দপ্তর, সিটি কর্পোরেশন, ক্লিনিক, ডায়গোনেস্টিক সেন্টার, ডাক্তারের চেম্বার, বিপণি বিতান,দোকানপাট, হোটেল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রায় সবকিছু এক কিলোমিটামের কম এলাকায় অবস্থিত। রিক্সা,অটোর সংখ্যা অগুনতি। মোটর সাইকেলের সংখ্যাও অনেক। বিভিন্ন দপ্তর, ব্যাংক,বীমা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের গাড়ির সংখ্যাও কম নয়। এরা রাত-বিরাতেও চলাচল করে।সব কিছু মিলে অরাজক পরিস্থিতি। সরকারি দপ্তরগুলোতে শুধুমাত্র নিজেদের গাড়ি রাখার স্থান আছে।সেবা প্রত্যাশীদের যানবাহন রাখার ব্যবস্থা নেই।বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে গাড়ি, মোটরবাইক রাখার স্থান রাখাই হয় না। এই সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে আন্ডারগ্রাউন্ড এবং আউটডোর পার্কিং গড়ে তুলতে হবে। ডায়গোনেস্টিক সেন্টার, ডাক্তারগনের চেম্বার শহরতলীতে স্থানান্তর করার বিকল্প নাই। বেসরকারি অফিস, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান শহুরে কেন্দ্রস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদে স্বস্তি পেতে হলে কীর্তনখোলার অপরপ্রান্তে মাস্টার প্লানের আওতায় উপশহর নির্মান করার প্রস্তুতি নিতে হবে।বাস্তবতার কারনে কীর্তনখোলার তলদেশে দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মানের মাধ্যমে ওয়ান সিটি টু টাউন গড়ে তোলার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সকল সমস্যার সমাধান করতে পারে।
লেখক-পরিবেশ ও সমাজকর্মী।
