স্বরূপকাঠিতে অভাবের কারণে সন্তান বিক্রি প্রায় পুরো টাকাই হাতিয়েছে প্রতারক স্বরূপকাঠিতে অভাবের কারণে সন্তান বিক্রি প্রায় পুরো টাকাই হাতিয়েছে প্রতারক - ajkerparibartan.com
স্বরূপকাঠিতে অভাবের কারণে সন্তান বিক্রি প্রায় পুরো টাকাই হাতিয়েছে প্রতারক

3:35 pm , January 19, 2022

 

স্বরূপকাঠি প্রতিবেদক ॥ স্বরূপকাঠির উপজেলার দুর্গাকাঠি গ্রামে অভাবের কারনে সন্তান বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিক্রির প্রায় পুরো টাকাই পকেটস্থ করেছে প্রতারক চক্র। সন্তান বিক্রির ১ লাক ৬৫ হাজার টাকার মধ্যে মাত্র দশ হাজার টাকা দিয়ে বাকী টাকা নিয়ে নেয় প্রতারক চক্র। একই গ্রামের বিজন হালদার এবং রনজিৎ কুমার মন্ডলের প্ররোচনায় ১৮ দিন বয়সের একটি দুধের শিশুকে বিক্রি করে দিয়েছেন পরিমল বেপারী ও কাজল বেপারী দম্পত্তি। বিক্রি হয়ে যাওয়া শিশু সন্তানটির পিতা পরিমল তার স্ত্রী কাজল সহ স্থানীয় লোকজন এ কথা বলেছেন। সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে জানাযায়, ভান্ডারিয়া উপজেলার বাসিন্দা পরিমল দম্পতি সাত আট বছর পূর্বে স্বরূপকাটি উপজেলার সমদেকাঠি ইউনিয়নের দূর্গাকাঠি গ্রামে আশ্রয় নেয়। তৎকালীর ইউপি সদস্য জহর বেপারী তাদেরকে একটি পরিত্যাক্ত ভাঙ্গা ঘরে আশ্রয় দেন। তারা এক প্রকার ভিক্ষে করেই দিন কাটাচ্ছিল। পরিমল দম্পতির চারটি সন্তান। গত ২৪ দিন পূর্বে তাদের আর একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। এসময় সন্তানের ভার সহ্য করতে না পারার সুযোগ নেয় প্রতারক চক্র। তারা ফুসলিয়ে আতা গ্রামের এক নারী প্রতারকের সহায়তায় ঢাকার এক ধনাঢ্য ব্যাক্তির কাছে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকায় কন্যা সন্তানটি বিক্রি করে। ১৫ দিন পূর্বে বাচ্চাটি ধনাঢ্য ব্যাক্তির নিয়ে আসা গাড়ীতে তুলে দেন। এসময় প্রতারকরা ওই দম্পতির হাতে ১০ হাজার টাকা দিয়ে বাকী ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা তারা নিয়ে যায়। জমি কিনে দেওয়ার কথা বলে কাল ক্ষেপন করতে থাকে। এরপর নানা প্রকার বাহানা করে টাকা দিচ্ছে না। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়েগেলে সাংবাদিকদের জানায় এলাকাবাসী। প্রতারক বিজন দূর্গাকাঠি বাজারে একটি দোকান দিয়েছে। সাংবাদিকরা এলাকায় গেলে বিজন দোকান ফেলে রেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়। সন্তানের পিতা পরিমল বলেন, আমি খুবই গরীব। আমার জায়গা জমি কিছুই নেই। অন্যর একটি পরিত্যক্ত ঘরে স্ত্রী এবং চারটি ছোট ছোট সন্তান নিয়ে বসবাস করি। আমি ও আমার স্ত্রী মানুষের কাছে হাত পেতে খাই। অভাবে ঘরে গেল কিছু দিন আগে একটি কণ্যা সন্তান আসে। এমনিতেই সংসার চালানো দায়। তার উপর আবার একটি সন্তান। অভাবের কারনে বিজন এবং সন্তোষ মন্ডলের প্ররোচনায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকায় আমি আমার ১৮ দিনের শিশু সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছি। সন্তান বিক্রির সব টাকা হাতে পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে পরিমল আরো বলেন, সব টাকা একই গ্রামের বিজন হালদার এবং রনজিৎ মন্ডলের কাছে জমা আছে। তারা মাত্র আমাকে দশ হাজার টাকা দিয়েছে। এখন টাকা চাইলে বিজন জানায়, তোমাকে পরে জমি কিনে দিব। টাকা দিয়ে কি করবা। পরিমলের স্ত্রী কাজল বেপারি বলেন, সন্তানটি জন্মদানের পর আমি অসুস্থ ছিলাম। আমি সুস্থ হয়ে স্বামীর কাছে জেনেছি বিজন আর রনজিতের সহযোগীতায় আমার স্বামী সন্তানটি বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে সে টাকা এখনো হাতে পাইনি। ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য অসিম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। আমার স্ত্রী অসুস্থ তা নিয়ে ব্যস্ততার কারনে খোজ নিতে পারিনি। ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য জহর বেপারী বলেন, বর্তমানে পরিমল তার ওয়ার্ডের লোক। সে ও তার স্ত্রী খুবই সহজ সরল লোক। তাদের প্রকৃত ঠিকানা ভান্ডারিয়া। সে সাত আট বছর পূর্বে আমাদের এলাকায় আসে। তখন আমি তাদের দুরবস্থা দেখে এলাকার একটি ভাঙ্গা পরিত্যক্ত ঘরে থাকতে দিয়েছি। তার অভাবের সুযোগ নিয়ে বিজন এবং রনজিৎ বাচ্চাটি বিক্রি করতে উৎসাহিত করেছে। বিজন খুবই খারাপ প্রকৃতির লোক। তারা প্রকৃত অর্থে কোন কাজবাজ করেনা। সমেদয়কাঠি ইউপি চেয়ারম্যান মো: হুমাউন বেপারি বলেন, বিজন এলাকার একজন বড় প্রতারক। সে আসলে মাদক বিক্রেতা। মাদক নিয়ে একবার ধরাও পড়েছিল। মাদকের পাশাপাশি বিজন এবং রনজিৎ মন্ডল প্রতারক হিসেবে পরিচিত। অভাবি পরিমলকে ফুসলিয়ে তার দুধের শিশুকে বিক্রি করে টাকা হাতিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিজনকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কিছুই জানেন না বলে কেটে পড়েন। অপর অভিযুক্ত রনজিৎকে খুজে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এমন কোন অভিযোগ পাইনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, আমি একটু অসুস্থ আছি। বিষয়টি এই শুনেছি। খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

বসুন্ধরা বিটুমিন

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT