ছাইয়ের মধ্যে স্ত্রী-সন্তানদের খুঁজছেন বরগুনার সুমন ছাইয়ের মধ্যে স্ত্রী-সন্তানদের খুঁজছেন বরগুনার সুমন - ajkerparibartan.com
ছাইয়ের মধ্যে স্ত্রী-সন্তানদের খুঁজছেন বরগুনার সুমন

2:08 pm , December 26, 2021

পরিবর্তন ডেস্ক ॥ লঞ্চের সবখানে ছড়িয়ে রয়েছে পুড়ে যাওয়া আসবাব, কাপড়, বিভিন্ন প্রকারের ফল, খাবার, ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম, শিশুদের খেলনা। কেবিনগুলোতে সব সরঞ্জাম, আসবাবের সঙ্গে ছাই হয়ে মিশে একাকার হয়ে গেছে মৃতদেহ। ভস্ম হওয়া হাড়গুলো কেবল মাঝেমধ্যে আলাদা করে চেনা যাচ্ছিল।লঞ্চের ছাদের এ রকম একটি কেবিনে হাড় ও ছাইয়ের মধ্যে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে খুঁজে ফিরছিলেন সুমন হোসেন সরদার। সেখানে অন্য মানুষ দেখামাত্রই হাউমাউ করে কেঁদে দেখাচ্ছিলেন, ওখানেই ছিল তাঁর স্ত্রী তাসলিমা আক্তার (৩২), মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (১৫) ও সুমনা আক্তার (১২)। তারা নিখোঁজ।সুমন হোসেনের বাড়ি বরগুনা সদরের মোল্লার ঠুসি গ্রামে। তিনি ঢাকার ডেমরায় থাকেন। পেশায় অটোরিকশা ব্যবসায়ী। সুমন গ্রামেই অবস্থান করছিলেন। গ্রামে তিনি নতুন বাড়ি করেছেন। নতুন ওই বাড়িতে ওঠার জন্য গতকাল শনিবার মিলাদ হওয়ার কথা ছিল। এ জন্য সুমনের দুই ভাইয়ের সঙ্গে ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে এবং শ্যালকের ছেলে জোনায়েত ইসলাম বায়েজিদ (৭)। সুমনের দুই ভাই লঞ্চ থেকে লাফিয়ে পানিতে পড়ে েেবঁচ গেছেন। নিখোঁজ রয়েছে ওই চারজন।লঞ্চের দোতলার পেছনে যাওয়ামাত্রই সুমন একটি কক্ষে পড়ে থাকা মানুষের পোড়া হাড় দেখিয়ে বলেন, ‘ওখানেই ওরা চারজন ছিল। কাউকে পাচ্ছি না। মেয়েদের বড়ই শখ ছিল, লঞ্চে চড়ে বাড়ি যাবে। নতুন ঘরে উঠবে। লঞ্চে ঠিকই চড়েছে, কিন্তু বাড়ি আর যেতে পারল না।’ বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সুমন।সুমন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় ওই লঞ্চে ওঠে। এই কক্ষে ওরা সবাই ছিল। রাতে মোবাইলে কথাও হয়েছে। একজনকেও খুঁজে পাচ্ছি না। মেয়েদের জন্য গ্রামের বাড়িতে ঘর তুলেছিলাম। এই ঘর দিয়ে কী করুম।’সুমনের শ্যালক মনির হোসেন বোন-ভাগনিদের ছবি হাতে নিয়ে টার্মিনালের এক কোনায় বিমর্ষ হয়ে বসে ছিলেন। মনির হোসেন বলেন, ‘আমাদের বাড়ি একই গ্রামে। দুলাভাইয়ের নতুন ঘরে ওঠার জন্য আজ (শনিবার) দোয়া-মোনাজাত হওয়ার কথা। স্কুল বন্ধ থাকায় বোন দুই মেয়েকে নিয়ে নতুন ঘরে উঠে কয়েক দিন থাকার জন্য আসছিলেন। এখন তারা নিখোঁজ। হাসপাতালগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেছি, পাইনি। স্ত্রী, মেয়েদের হারিয়ে দুলাভাই (সুমন সরদার) প্রায় পাগল। তাঁদের বাড়ির অন্যরা ঘটনাস্থলে বসে আছে। কী যে করব কিছুই বুঝতে পারছি না।’

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT