নতুন বছরে বাড়ছে বাসা ভাড়া দুঃচিন্তায় নগরীর ভাড়াটিয়ারা নতুন বছরে বাড়ছে বাসা ভাড়া দুঃচিন্তায় নগরীর ভাড়াটিয়ারা - ajkerparibartan.com
নতুন বছরে বাড়ছে বাসা ভাড়া দুঃচিন্তায় নগরীর ভাড়াটিয়ারা

2:31 pm , December 22, 2021

 

হেলাল উদ্দিন ॥ প্রতি নতুন বছরের শুরুতে শুরু হয় নগরীর বাড়ির মালিকদের ভাড়া বাড়ানোর পাঁয়তারা। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। বিগত বছরের এবার বেশী ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। নিত্য প্রয়োজণীয় জিনিস পত্রের মূল্য বৃদ্ধির কারনে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে বলে বাসা মালিকরা দাবী করছেন। নগরীর বেশীর ভাগ বাসা মালিকই হাটছেন এই পথে। জানুয়ারী মাস থেকে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি ভাড়াটিয়াদের জানিয়ে দিয়েছেন বাসা মালিকরা। যে কারনে দ্রব্য মূল্যের বৃদ্ধির পাশাপাশি ভাড়া বৃদ্ধির নোটিশে ভাড়াটিয়াদের কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে। ভাড়াটিয়ারা বলছেন, সবকিছুর দাম বাড়ছে। এর সঙ্গে বাড়ি ভাড়া বেড়ে গেলে এ শহরে থাকাই দায় হয়ে যাবে। অন্যদিকে বাড়ির মালিকদের যুক্তি, সব জিনিসে দাম বৃদ্ধির ফলে তাদের ব্যয় বেড়েছে। তাছাড়া নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার সঙ্গে ভাড়াটিয়াদের আয়ও বাড়ছে। সে কারণেই নতুন বছরে তারা ভাড়া বাড়াতে যাচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে তেমন কিছু করনীয় নেই বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন কর্র্তৃপক্ষ।
নগরীর বগুড়া রোডের মুন্সী গ্যারেজ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি বাসায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন বেসরকারি চাকরিজীবী হাসিবুর রহমান। তিনি বলেন, বেতনের সিংহভাগ চলে যায় বাড়িভাড়া পরিশোধে। নতুন বছর সামনে রেখে বাড়ির মালিক জানিয়েছেন, করোনার জন্য এ বছর ভাড়া বাড়ানো হয়নি। এ কারণে নতুন বছরে ভাড়া আরও এক হাজার টাকা বাড়ানোর কথা মালিক জানিয়ে দিয়েছেন। প্রতি মাসে ১৪ হাজার টাকা বাড়িভাড়া হলেও গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ বিলসহ প্রায় ১৭ হাজার টাকা পড়ে যায়। বেতনের টাকায় বাড়িভাড়া, সংসার খরচ, বাচ্চার খরচ চালিয়ে নিতে খুব কষ্ট হয়ে যায়। অফিস, সন্তানের স্কুল এদিকে। তাই অন্য কোথাও গিয়ে বাসা নেওয়া একটু কঠিন। তিনি আরও বলেন, ৩৫ হাজার টাকা বেতন পাই। এর মধ্যে ১৪ হাজার টাকা বাড়িভাড়া পরিশোধে চলে যায়। বাকি টাকা দিয়ে সন্তানদের পড়ালেখা, সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়। মাস শেষে ধার-দেনা নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে যদি আবার এক হাজার টাকা ভাড়া বাড়ে, তাহলে বিপদ বাড়বে।
বটতলা এলাকায় ১৪ হাজার টাকা ভাড়ায় একটি বাসায় থাকেন বেসরকারি চাকরিজীবী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, ১৪ হাজার টাকা বাড়িভাড়া হলেও গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ বিলসহ প্রায় ১৭ হাজার টাকা পড়ে যায়। বেতনের টাকায় বাড়িভাড়া, সংসার খরচ, বাচ্চার খরচ চালিয়ে নিতে খুব কষ্ট হয়ে যায়। নতুন বছরে বাড়িভাড়া আরও ৫০০ টাকা বাড়ানো হবে বলে মালিক জানিয়ে দিয়েছেন। অফিস, সন্তানের স্কুল বাসা থেকে একটু কাছে তাই অন্য কোথাও গিয়ে বাসা নেওয়া একটু কঠিন। তিনি বলেন, অসহায় ভাড়াটিয়ারা প্রতিনিয়তই বাড়ির মালিকদের কাছে নির্যাতিত হয়ে আসছেন। আমাদের পক্ষ নিয়ে কেউ কাজ করছেন না। নতুন বছর এলে এভাবেই মালিকরা বাড়িভাড়া বাড়িয়ে দেন। আমরা কোণঠাসা-অসহায় হয়ে পড়ছি। মালিকরা যদি এতটা লোভী না হয়ে, কিছুটা মানবিক হলে ভাড়াটিয়ারা কোনোভাবে টিকে থাকতে পারতেন।
নতুন বছরে ভাড়া কেন বাড়ানো হচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন উভয় এলাকার বাসা মালিকরা। তারা বলেন যারা চাকরি করে তাদের কি প্রতিবছর বেতন বাড়ে না? আমাদের তো আয়ের উৎস বাড়িভাড়াই। ভাড়াটিয়াদের তো বেতন বাড়ে। আমরা প্রতি বছর ভাড়া বাড়ালে সমস্যা কী? করোনাকালে রাজধানীর বেশিরভাগ বাড়ির মালিকরা ভাড়া বাড়াননি। প্রায় দুই বছর ধরে অনেক বাড়িতে অনেক ফ্ল্যাট ফাঁকা ছিল। আমাদেরও তো কষ্ট হয়েছে তখন। কষ্ট করে আমরাও চলেছি। তারা আরও বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যসহ প্রতিটি জিনিসের দামের ঊর্ধ্বগতি। আমাদের আয়ের উৎস যেহেতু বাড়িভাড়া, সেহেতু প্রতি বছর না বাড়ালে চলব কীভাবে? এসব কারণেই আমরা মালিকরা বছরের শুরুতে বাড়িভাড়া বাড়িয়ে দিই। অনেক মালিকই ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে সারা জীবনের আয় দিয়ে বাড়ি তৈরি করেছেন। তাদের টিকে থাকতে হলে নতুন বছরে তো বাড়িভাড়া বাড়াতেই হবে।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মোঃ ফারুক আহমেদ বলেন, সত্যি বলতে প্রচলিত আইনে এ বিষয়ে সিটি করপোরেশন কোন পদক্ষেপ নিতে পারে কিনা আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি বিষয়টি নিয়ে মেয়র মহোদ্বয় এর সাথে আলাপ করে দেখব কিছু করা যায় কিনা। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT