প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ৮ বছর ধরে শিকল বন্দি আগৈলঝাড়ায় তোতা মুক্ত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ৮ বছর ধরে শিকল বন্দি আগৈলঝাড়ায় তোতা মুক্ত - ajkerparibartan.com
প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ৮ বছর ধরে শিকল বন্দি আগৈলঝাড়ায় তোতা মুক্ত

2:28 pm , December 20, 2021

আগৈলঝাড়া প্রতিবেদক ॥ আগৈলঝাড়ায় ৮বছর ধরে শিকল বন্দি জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে তোতাকে (৫৪) মুক্ত করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা। বিষয়টি জানতে পেরে রোববার রাতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুশান্ত বালা ঘটনা স্থলে গিয়ে শিকলবন্দি তোতাকে মুক্ত করেন। তোতা উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রাংতা গ্রামের আলতাব হোসেনের বড় ছেলে। এসময় শিকল মুক্ত তোতাকে প্রশ্ন করলে উত্তরে জীবনে ঘটে যাওয়া পিছনের ঘটনা বলতে পারলেও সম্প্রতিক কোন ঘটনা তিনি বলতে পারেনি। দীর্ঘদিন বন্দী থাকার কারণে আধুনিক জগৎ সম্পর্কে তার কোন ধারণা নেই বলে তার কথায় ফুটে ওঠে। এসময় সমাজসেবা কর্মকর্তা এলাকাবাসীর সাথে তোতার বিষয়ে কথা বলেন। ৮বছর ধরে শিকলবন্দী হয়ে কাটছিল তোতার জীবন। পরিবারের দাবি সে মানসিক ভারসাম্যহীন; তাই তাকে শিকলে বন্দী করে রাখা হয়েছে। সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য পরিবারের লোকজন তাকে পাগল আখ্যা দিয়ে শিকলে বন্দি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তোতা মিয়ার ডান পায়ে লোহার শিকল পড়িয়ে ঘরের খুঁটির সাথে তালা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। এর আগে বাম পায়ে শিকল ছিল। সেখানে ক্ষতের সৃষ্টি হলে ডান পায়ে শিকল দেওয়া হয়। এভাবে পা বদলিয়ে বছরের পর বছর তাকে আটকে রাখা হয়। স্বাভাবিকভাবে দেখলে সুস্থই মনে হবে তোতাকে। স্থানীয় কামরুজ্জামান সবুজ বলেন, ছোট একটি টিনের চালার ধানের গোলা ঘরে থাকেন তোতা; যেখানে নেই কোন বিদ্যুৎ। স্থানীয় ফারুক হাওলাদার জানান, তিন বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় তোতা। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ঢাকা তিতুমীর কলেজে পড়াশুনা অবস্থায় ওই সময় পরীক্ষা চলাকালীন ৪টি পরীক্ষা দিলেও হঠাৎ মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পরায় আর পরীক্ষা দেয়া হয়নি। পরে তোতা মিয়াকে পরিবার থেকে বিবাহ করালেও পরবর্তীতে মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার কারনে তার স্ত্রী তাকে ১০বছর আগে ছেড়ে চলে যান। তিন বোনের বিবাহ হয়ে গেছে আগেই। স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ছোট ভাই রাংতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মানিক মিয়ার অবহেলার কারনে দীর্ঘ ৮বছর ধরে জাহাঙ্গীর হোসেন তোতা শিকলবন্দী। জাহাঙ্গীর হোসেন তোতার মা হাওয়া বেগম বলেন, দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে মানসিক সমস্যা নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছে আমার ছেলে তোতা। গত ৮ বছর আগে বাড়ির পাশের সেলিম মল্লিকের স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে মারধর করার কারনে সেই থেকেই তোতাকে শিকল দিয়ে বন্দী করে রাখা হয়েছে। জাহাঙ্গীর হোসেন তোতার ছোট ভাই মানিক মিয়া সাংবাদিকদের জানান, আমার বড় ভাই মানসিক সমস্যা নিয়ে অসুস্থ রয়েছে। তাকে মানসিক সমস্যার কারনেই শিকলবন্দী করে রাখা হয়েছে। আমি আমার ভাইয়ের চিকিৎসা করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পরেছি। তাকে বর্তমানে ঘুমের ঔষধ দেয়া হচ্ছে। তারপরও ভালো চিকিৎসার সুযোগ পেলে ভাইকে চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করবো। সম্পত্তি লিখে নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার স্বাক্ষর নিয়েছি জমির কাগজপত্র ঠিক করার জন্য।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুশান্ত বালা জানান, রোববার রাতে গিয়ে শিকলবন্দী থেকে জাহাঙ্গীর হোসেন তোতাকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে এবং তার সু-চিকিৎসার দেয়ার জন্য পরিবারকে বলা হয়েছে। তোতার পরিবারের জমির কাগজপত্র দেখে প্রাথমিকভাবে জমি আত্মসাতের কোন প্রমান পাওয়া যায়নি; তবে, আরও পর্যালোচনা করে দেখা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম জানান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT