লঞ্চের কেবিন থেকে উদ্ধার তরুনীর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর লঞ্চের কেবিন থেকে উদ্ধার তরুনীর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর - ajkerparibartan.com
লঞ্চের কেবিন থেকে উদ্ধার তরুনীর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর

2:20 pm , December 11, 2021

বাবার দাবি স্বামী হত্যা করেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটের এমভি কুয়াকাটা-২ লঞ্চের ষ্টাফ কেবিন থেকে উদ্ধারকৃত তরুনী পোষাক শ্রমিকের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল শনিবার লাশের ময়না তদন্ত শেষে তার বাবার কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। পোষাক শ্রমিক শারমিন আক্তার বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের রাফিয়াদি গ্রামের ফকির বাড়ির বাসিন্দা এনায়েত হোসেন ফকিরের মেয়ে। শুক্রবার ঢাকা থেকে বরিশাল নৌ-বন্দরে ভেড়া কুয়াকাটা- ২ লঞ্চের ষ্টাফ কেবিন থেকে শারমিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে কোতয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছে শারমিনের বাবা এনায়েত হোসেন ফকির। মামলায় শারমিনে স্বামীকে নামধারীসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামী করা হয়েছে। স্বামী মাসুদ হাওলাদার নলছিটির উপজেলার পশ্চিম গোপালপুর গ্রামের জলিল হাওলাদারের ছেলে। মাসুদ পেশায় কাভার্ড চালক।
শারমিনের বাবা এনায়েত হোসেন ফকির অভিযোগ করেছেন, শারমীন দীর্ঘদিন ঢাকার একটি গার্মেন্টেসে চাকরি করছিলো। একই স্থানে থাকতো মাসুদ। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্ককালীন সময় মাসুদ তার মেয়ের উপার্জিত টাকা নিয়ে আত্মসাত করে। এরপর আবার বিয়ে করতে ঘোরাতে থাকে। ওই সম্পর্কে এক বছর পূর্বে দুই পরিবারের সম্পত্তিতে তাদের বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর মাসুদের আসল রূপ বের হতে থাকে। সে আমার মেয়ের উপর নির্যাতন চালাতো। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করি। পরবর্তীতে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা হয়। গত চার মাস ধরে আমার মেয়ের সাথে যোগাযোগ ছিল না। মোবাইলেও পাওয়া যেতো না।
শুক্রবার বিভিন্ন মিডিয়ায় নিহতের খবর প্রকাশিত হলে সেখানে আমার মেয়ের ছবি দেকে চিনে ফেলি। রাতে কোতোয়ালী মডেল থানায় গেলে সেখান থেকে মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। লাশ দেখে আমি নিশ্চিত করি সে আমার মেয়ে শারমীন। রাত ৯টায় বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করি। সেখানে নামধারী একজন এবং অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামী করা হয়। তিনি আরো বলেন, আমার মেয়েকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে স্টাফ কেবিনে করে বরিশালে আসে মাসুদ। আমারা জানতাম না শারমীন বরিশালে আসছে। ঘটনার পরও মাসুদ আমার শ্যালকের সাথে মোবাইলে কথা বলেছে। এরপর থেকে তার মোবাইল বন্ধ। কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি আজিমুল করিম জানান, লঞ্চ থেকে উদ্ধারকৃত লাশের পরিচয় মিলেছে। নিহতের পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আসামীকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রসঙ্গত, শুক্রবার ভোর ৫টায় লঞ্চ বরিশাল ঘাটে নোঙ্গর করে। এরপর আস্তে আস্তে ডেক ও কেবিনের যাত্রীরা নামতে থাকেন। কিন্তু ৮টা বাজার পরও ওই কেবিনের যাত্রীরা নামছিল না। যাত্রীরা বের না হওয়ায় লঞ্চের স্টাফরা কেবিনের দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। কিন্তু কেবিনের দরজা তালাবদ্ধ থাকায় ভিতর থেকে কোনো সারা শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে অতিরিক্ত চাবি দিয়ে কেবিনের তালা খুলে ভিতরে শারমীনের লাশ দেখতে পান। ওই সময় তার সাথে থাকা মাসুদকে পাওয়া যায়নি।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT