বাকেরগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনুমোদনহীন খাবার হোটেল বাকেরগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনুমোদনহীন খাবার হোটেল - ajkerparibartan.com
বাকেরগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনুমোদনহীন খাবার হোটেল

2:21 pm , November 27, 2021

বাকেরগঞ্জ প্রতিবেদক ॥ বাকেরগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে ঢাকা কাবাব হাউজ ও স্টার কাবাব হাউজ নামের রেস্টুরেন্ট। অনুমোদনহীন ওইসব হোটেলের বিরুদ্ধে অধিক দামে খাবার বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। হোটেলগুলোতে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার ও বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে জানা গেছে, হোটেলগুলোর খাবারের গুণগত মান ও খাবার তৈরির পরিবেশের উপর নজরদারির কথা থাকলেও তার কোনটি করছেন না সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। এখানে মুরগীর গ্রীলে অতিরিক্ত ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানো হচ্ছে। যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ব্রয়লার মুরগির গ্রিল ভালো করে সিদ্ধ করা হয় না। যার ফলে ভিতরের অংশটা কাঁচা থাকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাকেরগঞ্জ উপজেলার ব্যস্ততম ও জনবহুল এলাকা বাসস্ট্যান্ড স্থানে খাবার হোটেল। বাইরে থেকে সজ্জিত এসব হোটেলের ভেতরের দৃশ্যটি ভিন্ন। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর স্থানে খাবার তৈরি ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে ওইসব হোটেলগুলোতে। ব্যবহার করা হচ্ছে অপরিস্কার পানি ও খাবারের স্বাদ বাড়াতে ব্যবহার হচ্ছে ক্ষতিকর উপকরণ। যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এছাড়াও পঁচা-বাসি খাবার বিক্রি হচ্ছে হোটেলগুলোতে। তাও আবার উচ্চমূল্যে। দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে খাবার ও পানীয় পণ্য। ফলে ক্রেতাদের প্রতিনিয়তই ওইসব হোটেল ও রেস্টুরেন্টে গিয়ে মূল্যের ফাঁদে পড়তে হচ্ছে। এদিকে, হোটেল কর্তৃপক্ষের উপর আস্থা রেখে স্বাচ্ছন্দে খাবার কিনে খাচ্ছেন ক্রেতারা।
অন্যদিকে, ওই এলাকার খেটে খাওয়া মানুষগুলো এসব হোটেল-রেস্তরাঁর খাবার খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করেন। এসব খাবার খেয়ে প্রতিনিয়তই অসুস্থ হচ্ছেন অনেকেই।
বাকেরগঞ্জের একজন সংবাদকর্মী বলেন, গত সন্ধ্যায় নাস্তা করার জন্য ঢাকা কাবাব হাউজে যান। তিনি নান রুটির সাথে ভাজি চাইলে একটু অপেক্ষা করতে বলে। অপেক্ষা করতে বলার কারণ হচ্ছে এখানে নান রুটির সাথে শুধু মুরগির গ্রিল বিক্রি করা হয়। আর গ্রিল বিক্রি করলে হোটেল মালিক লাভবান হয়। তার কারণে সচরাচর ডাল ভাজি সবজি দিয়ে বিক্রি করতে অনীহা প্রকাশ করে। এক পর্যায়ে ডাল ভাজি দিয়ে নান রুটি দেয়। কিন্তু সেই ডাল বাজির সাথে চালের ভাত মিশ্রিত পাওয়া যায়। এই ডাল বাজির সাথে ভাতের মিশ্রণের বিষয়ে হোটেল মালিকের সাথে কথা বললে সে বিষয়টি অস্বীকার করে। তারপর চাপ প্রয়োগ করার পরে বলে- যে দোকান থেকে ডাল কিনেছি তার সাথে চাল মিশানো ছিল। কিন্তু আসল সত্যিটা লুকিয়েছে হোটেল মালিক। তিনি দুপুরে ভাত বিক্রি করার পরে যতটুকু পরিমাণ ভাত অবশিষ্ট ছিল তা ওই ডাল ভাজির মধ্যে মিশ্রণ করে পরিমাণে বাড়িয়েছে। এই ডাল বাজির মধ্যে ভাতের মিশ্রণ দেখলে কারোই খেতে রুচি হবে না নিশ্চয়ই। হোটেলের খাবারের মান খুবই খারাপ। অথচ দামে যেন আকাশ ছুঁই ছুঁই। রাজু নামে এক চাকরিজীবী জানান, ‘মাঝে মাঝে হোটেলে খাই। তাদের রান্না দেখলেই বোঝা যায়, যে খাবারের স্বাদ বাড়াতে তারা কত রকমের ভেজাল পণ্য মেশান। তবু পেটের টানে খেতে হয়। উচ্চমূল্যে খাবার বিক্রির বিষয়ে কয়েকজন হোটেল ও রেস্টুরেন্ট মালিক বলেন, ‘কি করব ভাই বলেন, বাজারে পণ্যের দাম বেশি। এছাড়া প্রপার এলাকায় দোকান ভাড়া অনেক, বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, কর্মচারীদের বিল মিলিয়ে অনেক টাকা খরচ। তাই খাবারের দাম একটু বেশিই। এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর জানান, অতি দ্রুত খাবার হোটেলগুলোর মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

এই বিভাগের আরও খবর

বসুন্ধরা বিটুমিন

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT