কুয়াকাটার ভাঙন রোধে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ২০৬ কোটি টাকা কুয়াকাটার ভাঙন রোধে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ২০৬ কোটি টাকা - ajkerparibartan.com
কুয়াকাটার ভাঙন রোধে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ২০৬ কোটি টাকা

3:11 pm , November 9, 2021

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ-এর ছোবলে বিপর্যস্ত পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটাকে রক্ষায় সাড়ে ৯শ কোটি টাকার ‘উন্নয়ন প্রকল্পÑপ্রস্তাবটি সংশোধন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডে দাখিলের পরে তা এখন পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে। তবে প্রকল্প প্রস্তাবনায় আরো বেশ কয়েকটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করায় ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে ১২শ ৬ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। চলতি মাসেই এ ব্যাপারে পানি সম্পদ সচিবের সভাপতিত্বে এক সভায় ডিপিপি অনুমোদনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল মহল। ফলে চলতি মাসের শেষভাগে বা আগামী মাসের প্রথমেই কুয়াকাটার ভাঙন রোধ সংক্রান্ত প্রকল্পÑপ্রস্তাবনাটি পরিকল্পনা কমিশনে পৌছার কথা রয়েছে। সংশোধিত ডিপিি পরিকল্পনা কমিশনের ‘প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি’ ও ‘কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি’তে অনুমোদনের পরে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিশনের নির্বাহী কমিটি ‘একনেক’এর চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পেশ হতে পারে। তবে সে পর্যন্ত পৌছতে কতদিন বা মাস লাগবে তা বলতে পারছেন না কেউ। গত মাসেই ডিপিপি’টি বোর্ড থেকে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ে পৌছার পরে এখনো তা বিবেচনায় কোন সভা হয়নি।
আগামী মার্চের মধ্যে কুয়াকাটা ভাঙন রোধের প্রকল্পটি একনেক-এর অনুমোদন মিললে চলতি বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর ‘আরএডিপি’তে অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা থাকবে বলেও মনে করছেন একাধিক দায়িত্বশীল মহল। তবে সব কিছুই নির্ভর করছে প্রকল্পটি নিয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহারের ওপর।
উপমহাদেশে পটুয়াখালীর সর্বদক্ষিণে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকেই সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসছে এ বিরল দৃশ্য দেখতে। বিদেশী পর্যটকদের খুব আনাগোনা না থাকলেও যেসব প্রবাসীরা দেশে আসেন তারা অন্তত একবার হলেও পরিবার পরিজন নিয়ে আসছেন কুয়াকাটায়। গত দুই দশকে কুয়াকাটায় আবাসন সুবিধা সহ নানামুখী উন্নয়ন হলেও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার প্রধান বাঁধা হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগরের ভাঙন। পর্যটন কেন্দ্রটির মুল অকর্ষন সী-বিচের পূর্বের রাবনাবাদ ও পশ্চিম প্রান্তের আন্ধারমানিক চ্যানেলের ¯্রােত গতি পরিবর্তন করায় ১৯৯৮ সাল থেকে ভাঙন শুরু হয় এখানে। প্রথমে ঢেউ-এর আঘাতে বছরে এক মিটার করে সী বিচ বিলীন হতে শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে সে সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড বা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের তরফ থেকে তেমন কোন উদ্বেগ ছিল না।
২০১০ সাল থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড সীমিত কিছু উদ্যোগ গ্রহন করলেও তা টেকসই হয়নি। কয়েক দফায় জিউ টিউব ও সিসি ব্লক ফেলে মূল সী বীচটি সাগরের ঢেউ থেকে রক্ষার উদ্যোগ তেমন ফল দেয়নি।
পরবর্তিতে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে গবেষনা প্রতিষ্ঠান ‘আইডব্লিউএম’ এ লক্ষ্যে ব্যাপক সমীক্ষা সম্পাদন করেছে। নেদারল্যান্ডের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানও এ লক্ষ্যে অনলাইনে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে কিছু পরামর্শ দিয়েছে। আইডব্লিউএম-এর প্রস্তাবনায় কুয়াকাটা উপকুলীয় বণ্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ থেকে সী বিচ পর্যন্ত প্রায় ৭০টি গ্রোয়েনের মাধ্যমে ভাঙন রোধের প্রস্তাব দেয়া হয়। এ লক্ষে মূল সী-বিচ রক্ষায় দু প্রান্তের রাবনাবাদ ও আন্দারমানিক চ্যানেল পর্যন্ত প্রায় ১১ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার এলাকায় সিসি ব্লকের সাহায্যে গ্রোয়েনগুলোতে জিও টেক্সটাইল-এর ওপর ৪৫ সেন্টিমিটার থেকে ১ মিটার সাইজের সিসি ব্লক সন্নিবেশের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় কুয়াকাটা সৈকতে একটি আদর্শ পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে ‘ওয়াকিং বে’ ছাড়াও পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ‘লাইফ গার্ড স্টেশন’, বসার স্থান, ট্রেইল, পার্কিং ল্যান্ডস্কেপ ও টয়লেট নির্মানের প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে সাড়ে ৯শ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ ডিপিপি’টি পূণর্গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়। সে আলোকে কুয়াকাটা ভাঙন রোধের পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্রটিকে আরো আকর্ষণীয় করতে আরো কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্প ব্যয়ও সাড়ে ৯শ কোটি থেকে ১ হাজার ২০৬ কোটিতে উন্নীত হয়েছে।
নতুন পূণর্গঠনকৃত প্রকল্প-প্রস্তাবনায় কুয়াকাটা সৈকত সংলগ্ন উপকুলীয় বণ্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের ১২ কিলোমিটার বিটুমিনাস কার্পোটিং করে মেরিন ড্রাইভ রোডের আদলে নির্মানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বন বিভাগের ইকোপার্কের অভ্যন্তরে ৯শ মিটার ওয়ার্কিং সেল সহ ওয়াকওয়ে নির্মিত হবে ২.৬ কিলোমিটার। গঙ্গামতির কাছে মেরিন ড্রাইভ রোডে দুটি নান্দনিক সেতুও নির্মিত হবে প্রকল্পের আওতায়। যার একটি হবে ঝুলন্ত সেতু। অপরটি আরসিসি।
প্রকল্পটির জন্য আইডব্লিউএম প্রথমে ৬৪৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার ব্যয় প্রস্তাব করলেও পরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৯৪৯ কোটিতে উন্নীত হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা ১ হাজার ২০৬ কোটিতে উন্নীত হচ্ছে। নেদারল্যান্ডের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সহ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন তদারকি করবে দেশীয় আধা সরকারী গবেষনা প্রতিষ্ঠান ‘আইডব্লিউএম’।
তবে বিভিন্ন মহল থেকে যত দ্রুত সম্ভব ভাঙন রোধ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের তাগিদ দেয়া হয়েছে। তা না হলে কুয়াকাটার প্রতি দেশী বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষন হারাবে। পাশাপাশি ভাঙন পরিস্থিতি আরো তীব্রতর হতে পারে। সম্প্রতি বরিশালÑপটুয়াখালীÑকুয়াকাটা মহাসড়কে লেবুখালীতে পায়রা সেতু চালু হওয়ায় কুয়াকাটার সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ আরো সহজতর হয়েছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT