বসুন্ধরার এমডিকে হত্যার পরিকল্পনা ; বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি বসুন্ধরার এমডিকে হত্যার পরিকল্পনা ; বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি - ajkerparibartan.com
বসুন্ধরার এমডিকে হত্যার পরিকল্পনা ; বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি

3:03 pm , November 9, 2021

পরিবর্তন ডেস্ক ॥ দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে হত্যা পরিকল্পনার মতো ঘটনা দেশের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যবসায়ী সমাজ মনে করে, ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হবে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। এ বিষয়ে গতকালও বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। তিনি এ ঘটনার পেছনে কেউ জড়িত থাকতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। পেছনে যে ব্যক্তি বা যারাই জড়িত থাক, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘দেশের শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ওপর এ ধরনের হত্যাচেষ্টা সমর্থনযোগ্য নয়। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ’ এর আগে বোট ক্লাবে নায়িকা পরীমণি কান্ডকে কেন্দ্র করে আরেক শীর্ষ ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। তার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে জেলেও নেওয়া হয়।
ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডিকে হত্যার পরিকল্পনা ফাঁস হয়েছে। এ ঘটনায় একজন অস্ত্রসহ গ্রেফতারও হয়েছেন। ধৃত ব্যক্তি তার স্বীকারোক্তিতে ঘটনার পেছনের ক্রীড়নকদের নামও বলেছেন। কিন্তু এখনো আর কেউ গ্রেফতার হয়নি। ফলে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।ফলে সারা দেশে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। একই সঙ্গে নিজেদের করা বিনিয়োগ নিয়ে অনেকেই শঙ্কিত। এজন্য সরকারের কাছে নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা দাবি করেছেন। তারা বলেছেন, এ ঘটনার দ্রুত সুষ্ঠু সমাধান হওয়া জরুরি। তবে এ দেশে ব্যবসায়ীদের নানাভাবে হয়রানি নতুন কোনো বিষয় নয়। স্বাধীনতার পর থেকে এমনকি ২০০৭ সালে ১/১১-এর সময়ও ব্যবসায়ীদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছিল। সে সময় তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক বিপুল পরিমাণ টাকাও আদায় করা হয়েছিল। যা আজ পর্যন্ত ফেরত পাননি ব্যবসায়ীরা। যদিও তার পরবর্তী সময়ের সরকারগুলো টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে একাধিকবার। সে সময় অন্যায়ভাবে জেলে নেওয়া হয়েছিল অসংখ্য শীর্ষ ব্যবসায়ীকে। ফলে তখন স্থবির হয়ে পড়েছিল দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি। তবে এখন তারা আর শুধু হয়রানিতেই থেমে নেই। একটি কুচক্রী মহল সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার আড়ালে ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করে ব্যবসায়ীদের হত্যার পরিকল্পনা করে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও র্কর্মসংস্থান আবারও হুমকির সম্মুখীন হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। মহামারী করোনাভাইরাসের আঘাতে এমনিতেই সারা বিশ্বের র্অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। করোনা অচলাবস্থার পর বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে আর এ মুহুর্তে শুরু হয়েছে দেশবিরোধী কুচক্রী মহলের গভীর ষড়যন্ত্র। তারা ব্যবসায়ীদের হত্যার নীলনকশা এঁকেছে। যার মাধ্যমে মূলত দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকেই বাধাগ্রস্ত করতে চায় এ কুচক্রী মহল। জানা গেছে, গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময়
বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে গুলি করে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ওই দিনই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সাউতুল কোরআন মাদরাসা ও এতিমখানা থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে সাইফুল ইসলাম সাদ (২৩) নামে চট্টগ্রামের পটিয়ার এক যুবককে আটক করে রাজধানীর ভাটারা থানা পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদ জানান, শুক্রবার (৫ নভেম্বর) পবিত্র জুমার নামাজ চলাকালে সায়েম সোবহান আনভীরকে গুলি করে হত্যার প্রস্তুতি ছিল তার। পটিয়ার সংসদ সদস্য হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এবং তার ছেলে নাজমুল করিম ওরফে শারুন চৌধুরীর নির্দেশে হত্যার এ পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন তিনি। তার আগে দুধের মধ্যে বিষ মিশিয়ে এবং ছুরিকাঘাতে হত্যার ষড়যন্ত্র করে ব্যর্থ হয়েছে চক্রটি। এ ঘটনায় দেশের অন্য শীর্ষ ব্যবসায়ীরাও নানাভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি সারা দেশেও চলছে ক্ষোভ-বিক্ষোভ, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি। এর পেছনে কারা জড়িত খুঁজে বের করতে হবে-বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম: বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে হত্যার পরিকল্পনার ঘটনা ব্যবসায়ী সমাজের জন্য খুবই উদ্বেগজনক। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমার মনে হয় এর পেছনে অন্য কোনো চক্র জড়িত থাকতে পারে। যারাই জড়িত থাকুক তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব। ব্যবসায়ীদের জানমালের নিরাপত্তা না থাকলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে। এজন্য ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের স্বার্থে হলেও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘বসুন্ধরা দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান গড়ে তুলেছে। দেশের অর্থনীতির বিকাশে অসামান্য অবদান রাখছে। আর সেই বসুন্ধরা গ্রুপের এমডিকে হত্যার হুমকি দেওয়া বা হত্যার পরিকল্পনা করা ছোটখাটো কোনো মাস্তানের কাজ নয়। এর পেছনে বড় চক্র জড়িত থাকতে পারে। আমি মনে করি তাদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির বিধান করতে হবে। ’
জড়িতদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে-বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন: এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, ‘এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের যে কোনো উপায়ে খুঁজে বের করতে হবে। কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বসুন্ধরা গ্রুপ সারা দেশে ৫০ থেকে ৭০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান করেছে। গ্রুপটির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৪০টি বেশি। এ ধরনের বড় একটি শিল্পগোষ্ঠীর কর্ণধারকে হত্যার হুমকি দেওয়া কিংবা হত্যার পরিকল্পনা করা নিশ্চই ছোটখাটো কোনো মাস্তানের কাজ নয়। এর পেছনে হয়তো প্রভাবশালী কোনো গোষ্ঠীই জড়িত। সরকারের উচিত হবে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা। সর্বোপরি ব্যবসায়ী সমাজকে নিরাপত্তা দেওয়াও সরকারেরই দায়িত্ব। ’
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের তীব্র নিন্দা : বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে একাধিকবার হত্যাচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতারা। দ্য চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘দেশের শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ওপর এ ধরনের হত্যাচেষ্টা কখনো সমর্থনযোগ্য নয়। চেম্বার সভাপতি হিসেবে আমি এটি সমর্থন করি না। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমি আরও বলব, এর সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় ব্যবসায়ী সমাজের ক্ষোভ, হতাশা আরও গভীর হবে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT