উত্তপ্ত হয়ে উঠছে গ্রামীন জনপদ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে গ্রামীন জনপদ - ajkerparibartan.com
উত্তপ্ত হয়ে উঠছে গ্রামীন জনপদ

3:13 pm , November 7, 2021

সদরের ৬ ইউপি নির্বাচন ১১ নভেম্বর

পরিবর্তন ডেস্ক ॥ আগামী ১১ নভেম্বর বরিশাল সদর উপজেলার ৬ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গ্রামীন জনপদ। রাতের আধারে বাড়ী বাড়ী গিয়ে ভোটারদের নানা ধরণের ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা এমনকি হামলার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। ফলে নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শতভাগ সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্নের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। তাদের এই আশ্বাসের প্রতিফলন কতটা বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে চিন্তিত প্রার্থী ও ভোটাররা। রোববার উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে নৌকার প্রার্থীর লোকজন। হামলায় বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত জখম হয়েছে, ভাংচুর করা হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত মাইক ও একটি অটো। ওই ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস) মিজানুর রহমান চৌধুরী অভিযোগ করেন, নৌকার প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান শাহরিয়ার বাবুর কর্মী সমর্থকরা বাড়ী বাড়ী গিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য নানা ধরণের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। শুধু তাই নয় আমার কর্মীদের মারধর এবং নির্বাচনী প্রচারনার মাইক ভেঙ্গে ফেলেছে নৌকার সমর্থকরা। গতকাল রোববার বিকেলে ভাঙ্গার পোল এলাকায় তার কর্মী সমর্থকদের উপর আকস্মিক হামলা চালায় নৌকার প্রার্থী আহম্মেদ শাহরিয়ায়ের কর্মীরা। হামলায় আনারস প্রতীকের কর্মী তুহিন, হাফিজুল ও আকবর রক্তাক্ত জখম হয়। এসময় নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত মাইক ও একটি অটো ভাংচুর করা হয়। বিষয়টি পুলিশ ও প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরী। একই দিন দুপুরে ইউনিয়নের বৌশেরহাট এলাকায় আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুজ্জামানের কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা চালায় নৌকার লোকজন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে এখানকার নির্বাচনী পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। দিনের বেলা আমার কর্মীদের উপর হামলার পাশাপাশি রাতে বাসায় বাসায় গিয়ে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর সমর্থকরা ভোটারদের হাত-পা ভেঙ্গে দেয়ার ভয় দেখাচ্ছে। ফলে ভোটাররা কেন্দ্রে আসবে কিনা এ নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। ভোটাররা চাইছেন নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ কিন্তু নৌকার প্রার্থীরা সেই পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। আমরা ইতিমধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছি। তবে নৌকার প্রার্থী আহম্মেদ শাহরিয়ায় বাবু হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। হামলার সাথে আমি জড়িত নই।
বরিশাল সদর উপজেলার ৬ ইউনিয়নের প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হয় ২৭ অক্টোবর। ২৮ অক্টোবর সকল প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভা করে প্রশাসন। ওই সভায় জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দীন হায়দার, পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দীন খানসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্টকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। প্রশাসনের কাছ থেকে এমন প্রতিশ্রুতি পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আনন্দিত হলেও এখন সেই আনন্দে ভাটা পড়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিবেশ উত্তপ্ত করছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। তারা চাইছেন ভোটাররা যাতে কোনভাবে কেন্দ্রে না যেতে পারে। ইতিমধ্যে অনেক ভোটাররা আতংকিত হয়ে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা বলছেন সুষ্ঠু ভোটের কোন পরিবেশ নেই। নৌকার প্রার্থীরা পরিবেশ নষ্ট করছে। এরকম চললে কোনভাবেই ভোটারদের কেন্দ্রে নেয়া সম্ভব হবে না।
দ্বিতীয় ধাপে বরিশাল সদর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইউনিয়নগুলো হলো : চরমোনাই, শায়েস্তাবাদ, রায়পাশা-কড়াপুর, চরকাউয়া, চাঁদপুরা এবং চন্দ্রমোহন। এরমধ্যে রায়পাশা-কড়াপুর, চরমোনাই, শায়েস্তাবাদ এবং চাঁদপুরায় আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। এই নির্বাচনী বিএনপি সরাসরি প্রার্থী না দিলেও রায়পাশা-কড়াপুর, চন্দ্রমোহন এবং চরকাউয়া ইউনিয়নে সমর্থিত প্রার্থী রয়েছে। এর উপরে প্রতিটি ইউনিয়নে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকে প্রার্থী দিয়েছে। ফলে শুরুতে একটি প্রতিযোগীতা মূলক নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছিলেন প্রার্থী ও সাধারণ ভোটাররা। কিন্তু সম্প্রতি নৌকার প্রার্থীদের কর্মকান্ডে এক ধরণের আতংকের পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দীন হায়দার বলেন, ইতিমধ্যে আমরা প্রথম ধাপে চারটি ইউনিয়নে যেভাবে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে এবং নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করেছি দ্বিতীয় ধাপেও এর ব্যতয় হবে না। এখন পর্যন্ত কোন প্রার্থীর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে অভিযোগ আসেনি। তারপরেও আমরা ইউনিয়নগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছি যাতে কেউ আচরণ বিধি লংঘন করতে না পারে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য বিপুল পরিমান র‌্যাব, বিজিবি সদস্য এবং ৩৮ জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। সুতরাং নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করার কোন সুযোগ নেই।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT