আমি আজও আহবান জানাবো আসুন একসাথে কাজ করি -পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আমি আজও আহবান জানাবো আসুন একসাথে কাজ করি -পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী - ajkerparibartan.com
আমি আজও আহবান জানাবো আসুন একসাথে কাজ করি -পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

3:24 pm , November 5, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম এমপি বলেছেন, জনগনের সেবা করতে এসেছি। আমার উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কার। আমি চাই বরিশাল শহর ও সদর উপজেলাকে সুখী, সমৃদ্ধ হিসেবে রুপান্তর করতে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নগরীর রুপাতলীতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শরীফ মোঃ আনিছুর রহমানের (আনিছ শরীফ) উদ্যোগে দক্ষিন রুপাতলী খান সড়কে অনুষ্ঠিত সমাবেশে মন্ত্রী আরো বলেন, বরিশাল শহরকে একটি সুন্দর শহরে রুপান্তরিত করতে চাই। যাতে শহরের যুব সমাজ, নতুন প্রজন্ম শান্তিতে নির্বিঘেœ লেখাপড়া করতে পারে। বড় হতে পারে। মানুষ হতে পারে। বরিশালের জন্য সুনাম অর্জন করতে পারে। বিভিন্ন কারনে অনেক কিছু বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু আমার চেষ্টা অব্যাহত আছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখনই সরকার গঠন করে তখনই দক্ষিনাঞ্চলের উন্নয়ন হয়। কারন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দক্ষিনাঞ্চলের মানুষ। তিনি আসার পরেই পায়রা বন্দর হয়েছে। পায়রা বন্দর পর্যন্ত চারলেনের রাস্তা হবে, রেললাইন আসবে। তিনি বলেন, সকলের সহযোগিতায় বরিশালকে অনেক সুন্দর একটি শহর বানানোর স্বপ্ন আমার রয়েছে। কারণ পায়রা বন্দর হওয়ার কারনে বিদেশী অনেক লোক এ অঞ্চলে ব্যবসা-বানিজ্য করবে। বরিশাল বিভাগীয় শহর হওয়ায় এখানে অনেক অফিস হবে, শিল্প কারখানা হবে। আমাদের যুব সমাজরা চাকুরি পাবে। মা-বোনেরা চাকুরি পাবে। তবে এসব চাকুরির জন্য আপনাদের যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এজন্য আপনাদের নিজেদের প্রস্তুতি গ্রহন করতে হবে। অভিভাবকদের খেয়াল করতে হবে তাদের সন্তানরা যেন সবসময় লেখাপড়া করে। আমি আমাদের কর্মীদের লেখাপড়া করার জন্য বলি। কারণ যতই নেতার পেছনে ঘুরুক না কেন, লেখাপড়া না করলে চাকুরি দেয়া সম্ভব হয় না। নিজেদের যোগ্যতা সম্পন্ন করতে পারলে বিভিন্ন জায়গায় চাকুরি দিতে পারবো।
তিনি বলেন, বরিশাল শহরে মাদকের প্রভাব রয়েছে, অনেকে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িতও আছে। অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ আপনাদের সন্তানদের, ছোট ভাইদের সামলে রাখবেন। কেউ যদি একবার মাদকে আসক্তি হয়ে যায় তাহলে সে আর ভালো হতে পারবে না। একটা পরিবারে যদি কেউ মাদকাসক্ত থাকে তাহলে সেই পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। সে যত বড়লোকই হোক না কেন। সে ঘরে শান্তি ফিরে আসে না। কিছু কিছু লোক রয়েছেন যারা মাদকের সাথে জড়িত। তারাই এসে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় মাদকের ব্যবসার সাথে জড়িত থাকে। আপনারা ভালোভাবে জানেন এরা কারা, এদের চিহিৃত করতে হবে এবং এদেরকে সবসময় আপনারা না বলবেন। এদের সাথে থাকা যাবে না।
দেশের উন্নয়নে সকলে মিলে একত্রে কাজ করতে হবে। ঝগড়া-বিবাদ করে লাভ নেই। আমরা সবাই মিলে প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্যে পৌছাতে পারবো, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পারবো।
তিনি বলেন, বরিশাল-৫ আসনের মধ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশন এবং সদর উপজেলা আমার নির্বাচনী এলাকা। কিন্তু এখানে যেহেতু নির্বাচিত একজন মেয়র রয়েছেন, তাই শহরের দিকে বেশি নজর দিতাম না এবং অতীতে কখনো দেই নাই। তারপর দেখলাম বিভিন্ন কাউন্সিলর বিশেষ করে আজ যে দশজন কাউন্সিলর আমার সাথে এসেছেন তাদের অভিযোগ- বিগত তিন বছরে ওয়ার্ডে কাজ করার কোন সাহায্য তারা পায় নাই। এজন্য তারা বাধ্য হয়ে আমার সাথে এসেছে। আমি এবং সিটি করপোরেশন এক। মেয়র সাহেব এবং আমাকে আপনারাই নির্বাচিত করেছেন। আমার ইচ্ছা, আশা, আকাঙ্খা মিলেমিশে বরিশালকে সুন্দর শহর বানাবো। কিন্তু কেউ যদি নিজের ভাগ্যই পরিবর্তন করতে চায়, জনগনের ভাগ্য যদি পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা না করে, কেউ যদি শুধু তার নিজের কয়েকজন নেতা-কর্মীর ভাগ্য পরিবর্তন করতে চায়, সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে না চায় তাহলে আমার কিছু বলার নাই। আপনারা জানেন, বিগত আড়াই বছরে বরিশাল শহরে কোন উন্নয়ন হয়নি, প্রয়াত শওকত হোসেন হিরন যখন সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলো তখন বরিশালের যতো উন্নয়ন হয়েছে, তারপর কেউ করেনি।
তিনি বলেন, আপনাদের কাছে আবেদন জানাবো যে, আসুন আপনারা সব ভুলে যান। আপনারা প্রস্তুতি নেন আগামী নির্বাচনের সময় যাতে করে ভালো একজন নগর পিতা বানাতে পারেন। আপনারা ভালো একজন সংসদ সদস্য বানাতে পারেন। যে ভালো তাকেই আপনারা সাপোর্ট দিবেন। যদি আমি খারাপ হই আমাকে সাপোর্ট দিবেন না, আমি যদি ভালো হই সৎ হই আমাকে সাপোর্ট দিবেন। মেয়র সাহেব যদি ভালো হন তাকে সাপোর্ট দিবেন, সে যদি ভালো কাজ না করে তাকে সাপোর্ট দিবেন না। আমার কথা হলো আপনারা ভালো লোককে নির্বাচিত করেন বরিশাল শহরের উন্নয়ন হবে, আপনারা যদি খারাপ লোককে সাপোর্ট করেন বরিশালের উন্নয়ন কখনো হবে না।
সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আনিস শরীফের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আনিস শরীফ আমাকে নদী ভাঙ্গনের কথা বলেছেন। আমি পুরো এলাকা পরিদর্শন করবো। তবে এরআগে বর্ষা মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নিয়ে কালিজিরা পর্যন্ত গোটা এলাকা স্পীড বোট নিয়ে ঘুরে দেখেছি। একটা প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন আছে। নির্বাচনের আগেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে ইনশ্াআল্লাহ।
তিনি বলেন, চরবাড়িয়াতে একটা প্রকল্প চলমান রয়েছে। চরকাউয়া, চরমোনাই, কালিজিরা এলাকা নিয়ে আমাদের আর একটি নতুন প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যার কাজ আগামী এক বছরের মধ্যে শুরু করবো। তবে এক বছরের মধ্যে যাতে ভাঙ্গন না হয় সেজন্য এখন পানি কমে আসার সময় কাজ করে প্রস্তুতি নিয়ে রাখবো।
তিনি বলেন, রাস্তাঘাট ঠিক করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের মেয়রের। তিনি যদি আপনাদের দুঃখ, দুর্দশা,কষ্ট না বোঝেন, তাহলে আমি কিছু করতে পারবো না। আমি আজও আহবান জানাবো আসুন একসাথে কাজ করি।
মন্ত্রী বলেন, বর্ষার সময় জলাবদ্ধতা হয়। যেহেতু সিটি করপোরেশন প্রকল্প নিতে বিলম্ব করছে, তাই আমি একটি প্রকল্প নিয়েছি। রুপাতলী খাল, জেল খাল, চৌমাথা খাল, কাউনিয়া খাল এরকম সাতটি খালের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ খালগুলো খনন করা হলে জলাবদ্ধতা কমে আসবে।
তিনি বলেন, আমি হারাম খাওয়া বিশ্বাস করিনা। যারা জনগনের, দুঃখ, দুর্দশা, কষ্ট বোঝে সেইসব লোককেই আপনারা নেতা বানাবেন। তাহলেই বাংলাদেশে উন্নয়ন হবে।
সভার সঞ্চালন করেন ২৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সুলতান মাহমুদ হাওলাদার। উপস্থিত ছিলেন বিসিবির পরিচালক আলমগীর খান আলো, মহানগর আলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আমিন উদ্দিন মোহন, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব মাহমুদুল হক খান মামুন, ১,৪,১২,২০,২৩,২৬,২৮,২৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মধু, ১২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি টুটুল চৌধুরী, ২৪নং ওয়ার্ড আলীগের সাবেক সভাপতি মাহাবুব আলম, ২৪নং ওয়ার্ড মহিলা লীগের নেত্রী শাহনাজ পারভীন, মহানগর যুবলীগের সদস্য মিজানুর রহমান মিল্টন, মহানগর যুবলীগের সদস্য মানিক, মহানগর যুবলীগের নেতা আতিকসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT