চরমোনাই’র বুখাইনগর-গিলাতলী রুটে ৩ বছরে অর্ধ কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত সরকার চরমোনাই’র বুখাইনগর-গিলাতলী রুটে ৩ বছরে অর্ধ কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত সরকার - ajkerparibartan.com
চরমোনাই’র বুখাইনগর-গিলাতলী রুটে ৩ বছরে অর্ধ কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত সরকার

3:33 pm , November 1, 2021

অবৈধ মাহিন্দ্রার দাপটে বন্ধ বৈধ যানবাহন ॥ ট্রাফিক পুলিশের নজরদারী নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানাধীন চরমোনাই ইউনিয়নের বুখাইনগর বাজার টু গিলাতলী খেয়াঘাট রুট। ১১ কিলোমিটারের দীর্ঘ এই রুটে নেই কোন বাস সার্ভিস। যে সুযোগে দীর্ঘ সময় ধরে এই রুট এক ধরনের দখলে নিয়েছে শতাধিক অবৈধ মাহিন্দ্রা। অবৈধ এ মাহিন্দ্রা চালকদের দাপটে যাত্রী পরিবহন করতে পারছে না সব ধরনের বৈধতা নিয়ে এই রুটে সদ্য চালু হওয়া হিউম্যান হলার। বিষয়টি এমন যে অবৈধ গাড়ির দাপটে বৈধ গাড়ির অসহায়ত্বের রুপ ফুটে উঠেছে জনবহুল এই রুটে। হিসাব বলছে অবৈধ এ গাড়ি থেকে এ যাবৎ প্রায় অর্ধ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে সরকার। যে টাকা রেজিষ্ট্রেশন থেকে শুরু করে রুট পারমিটসহ অন্যান্য কাগজপত্র বাবদ ও বছরে রিনিউ বাবদ সরকারী কোষাগারে জমা হত। বরিশাল ট্রাফিক বিভাগ ও বিআরটিএ বলছে অবৈধ কোন গাড়ির দাপট তো দুরের কথা চলাচলও করতে পারবে না। শীঘ্রই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রনকারী এই সংস্থা দুটি। তথ্য বলছে, গত ৩ বছর আগে শহরতলীর এই রুটে চলছে শুরু হয় অবৈধ মাহিন্দ্রার চলাচল। শুরুতে কম সংখ্যক চলাচল করলেও বর্তমানে এই রুটে শতাধিক মাহিন্দ্রা চলাচল করছে। যার মধ্যে একটিরও বৈধ কাগজপত্র নেই। এর সাথে আবার যুক্ত হয়েছে ২ শতাধিক অবৈধ অটো রিক্সা। ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে কোন লোকাল বাস সার্ভিস না থাকায় মানুষ কে এক ধরনের জিম্মি করে দাপটের সাথে যাত্রী পরিবহন করছে এমন অবৈধ যানবাহনগুলো। মানুষও অনেকটা অসহায়ত্ব মেনে নিয়ে এসব যানবাহনে চলাচল করছে। পরিসংখ্যান বলছে এই রুটে গত ৩ বছর অর্ধশত ছোট-বড় সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছে। যাতে একাধিক মৃত্যুর পাশাপশি গুরুতর আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ।
যাত্রীদের জিম্মি দশা থেকে মুক্তি দিতে সব ধরনের বৈধতা নিয়ে গত বুধবার থেকে এই রুটে চালু হয় হিউম্যান হলার। যাতে এক সাথে ১৪ জন যাত্রী আয়েশে যাতায়াত করতে পারবে। বরিশাল বিআরটিএ এর উপ পরিচালক জিয়াউর রহমানসহ বরিশালের একাধিক গুনীজন ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে নতুন এই গাড়ির উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধনের পরপরই যাত্রী পরিবহনে বাধা সৃষ্টি করে অবৈধ মাহিন্দ্রা বাহিনী। মাহিন্দ্রা চালক ও তাদের পালিত সন্ত্রাসীরা ওই গাড়িগুলোকে একটি ট্রিপও যাত্রী বহন করতে দেয়নি। তারা দম্ভোক্তি ছিলো এমন, যত বৈধতাই থাকুক না কেন এই রুটে আমাদের বাইরে নতুন কোন গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না। মাহিন্দ্রা চালক নেতারা আরো বলেন এতদিন কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি চালিয়েছি আজীবন চালাব। কেউ কিছু করতে পারবে না। ট্রাফিকের সাধ্য নেই আমাদের কিছু করার।
বরিশাল বিআরটিএ এর রাজস্ব বিভাগ বলছে, বৈধভাবে একটি মাহিন্দ্রা চলতে গেলে রেজিষ্ট্রেশন, ট্যাক্স টোকেন, রুট পারমিট, ফিটনেছ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দরকার হয়। চলাচলের শুরুতে এসব কাগজ বাবদ সর্বসাকুল্যে ১৩ হাজার ৫৪৩ টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দিতে হয়। এর পর প্রতি বছর ৮ হাজারেরও কিছু বেশী টাকা দিয়ে এসব কাগজপত্র রিনিউ করতে হয়। সে হিসাবে এই রুটের শতাধিক অবৈধ মাহিন্দ্রা থেকে সরকার ৩ বছরে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে।
এ বিষয়ে আলাপকালে বরিশাল বিআরটিএ এর উপ পরিচালক মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন আমি এই রুটটির বিষয়ে অবগত আছি। এই রুটের অবৈধ যানবাহন বন্ধ করতেই বৈধ হিউম্যান হলার চালু করার অনুমতি দিয়েছি। কিন্তু অবৈধ মাহিন্দ্রার চালকরা বৈধ গাড়িগুলো বন্ধ করে দিয়েছে শুনে বিস্মিত হলাম। আমরা এ বিষয়ে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই রুটে অবৈধ মাহিন্দ্রা চলাচল করছে কিন্তু নানা সীমাবদ্ধতার কারনে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এবার আমরা ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করব।
বরিশাল মেট্টোপলিটন ট্রাফিক বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার তানবীর আরাফাত বলেন, আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। এই রুটটি সম্পর্কে এখনো ওয়াকিবহাল নই। তবে যে রুটই হোক না কোন কোন রুটেই অবৈধ গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করব।
বরিশাল মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহবুদ্দিন খান বলেন, আমরা কোন অবৈধ বিষয়কে আশ্রয় দেব না। আশা করছি ট্রাফিক বিভাগ ও বিআরটিএ এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করবে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT