চরমোনাই ইউপি উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে চলছে তিন চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রচারনা চরমোনাই ইউপি উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে চলছে তিন চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রচারনা - ajkerparibartan.com
চরমোনাই ইউপি উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে চলছে তিন চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রচারনা

2:43 pm , October 25, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ কাল প্রতীক পাচ্ছে ইউপি নির্বাচনে সদরের ৬ ইউপির প্রার্থীরা। প্রার্থীদের প্রচারনায় মুখরিত এখন এ সকল ইউনিয়ন। এবারের নির্বাচনে প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের ধরাশায়ী করতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের চিত্র দেখা গেছে। সাথেই নানা উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে জোরশোরে চলছে প্রচারনা। গতকাল ইউপি নির্বাচনের ধারাবাহিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় পরিবর্তন গিয়েছিল চরমোনাই ইউনিয়নে। প্রায় ২৪ হাজার ভোটারের এই ইউনিয়নে এবার ৪ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তবে এদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করবেন ৩ জন। সাধারন সদস্য পদে ৪০ এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৫ জন প্রার্থী রয়েছেন। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন আওয়ামীলীগ মনোনিত মো. নুরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাব্বির হোসেন। অপর প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. নুরুল করিম মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দীর্ঘদিন মানুষের সেবায় কাজ করে আসছে। তাই ভোটের বড় অংশ তাদের দখলে রয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামীলীগ প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরে চালাচ্ছেন তার নির্বাচনী প্রচারনা। স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের সমর্থক হলেও তিনি আওয়ামীলীগের উপরে প্রকাশ করেছে তীব্র ক্ষোভ। অন্যদিকে সাধারন ভোটাররা জানায় বেশ কিছু উন্নয়নের কমতি থাকলেও ইসলামী আন্দোলনের বিগত চেয়ারম্যানরা এ অঞ্চলের যথেষ্ট উন্নয়ন সাধনের চেষ্টা করেছেন। এখনো ইউনিয়নে রাস্তাঘাটের সমস্যা, দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও মাদকের মত সমস্যা রয়েছে। ভোটারদের আশা যোগ্য যে প্রার্থী এ সকল সমস্যার সমাধান দেবেন তাকেই মূল্যবান ভোট প্রদান করবেন।
প্রার্থীদের সাথে আলোচনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনিত প্রার্থী সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম জানান, এটি তার প্রথম নির্বাচন। ইউনিয়নবাসীর সেবা করার উদ্দেশ্যেই অংশগ্রহন করছেন তিনি। চরমোনাই মুলত একটি শান্তিপূর্ন ইউনিয়ন জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে ইউনিয়নকে আরো ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রত্যেক ভোটারের প্রাপ্য নাগরিক সুবিধা তাদের দৌড়গোড়ায় পৌছে দেবেন তিনি। বিগত দিনে তার পরিবারের সদস্য চেয়ারম্যানরা যে কাজ শুরু করে গেছেন তা সমাপ্ত করবেন। এই ইউনিয়নে সর্বদাই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারো তার ব্যতিক্রম হবে না এবং সকলের সহযোগিতা থাকলে তিনি শতভাগ জয়ী হওয়ার আশাবাদ জানান। একটি বিষয়ে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে। তবে এতে তাদের সুনাম বিন্দুমাত্র ক্ষুন্ন হবে না। কারন ইউনিয়নের ভোটারা তাদের প্রতি আস্থাশীল।
আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ যোগ্য মনে করায় তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। তবে একটু চিন্তিত তিনি। কারন এই ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর একক রাজত্ব চলছে। যা বিগত নির্বাচনে প্রমানিত। এর আগে নির্বাচনে দেখা গেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মাদ্রাসা ছাত্র দিয়ে বিশ্বাসের হাট ও জবেদ আলী মাধ্যমিক কেন্দ্র দখলে নিয়েছিল। প্রভাব খাটিয়ে ছিনতাই করেছিল ব্যালট। এবারো এমনটাই করা হবে বলে পূর্বাভাস পেয়েছেন। কিন্তু প্রশাসনের সক্রিয় অবস্থান থাকলে জনগন তাদের মুল্যবান ভোট আওয়ামীলীগে দেবে। কারন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশর সাবেক চেয়ারম্যানরা ইউনিয়নের কোন উন্নয়ন করতে পারে নি। সিএনবি এর একটি ভালো রাস্তা ছারা ইউনিয়নের শাখা সড়ক গুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। সাধারন ভোটাররা বঞ্চিত সকল ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে। এছাড়া এখানে রয়েছে মাদকের ব্যাপক প্রভাব। নির্বাচিত হতে পারলে জনগনের সহায়তায় এসকল সমস্যা সুষ্ঠু সমাধান করবেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, চরমোনাই ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের ত্যাগী পরিবার এর সন্তান তিনি। বিএনপি ক্ষমতার আমল থেকে নির্যাতন, মামলা-হামলায় বারবার জরজরিত হয়েছে তার পরিবার। কিন্তু দলের মনোনয়ন তার ভাগ্যে জোটেনি। দলীয় মনোনয়ন পেয়েছে এমন এক ব্যক্তি যে কিনা বিগত নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হয়ে কাজ করেছে। এটা আসলে দুঃখজনক। কিন্তু ইউনিয়নের জনগনের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে যদি স্বতন্ত্র হিসেবেও তাকে নির্বাচনে অংশ নিতে হয় তাতে তার কোন দুঃখ নেই। এবার সহ তিনবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। উদ্দেশ্য একটাই জনগনের উন্নয়ন সাধন ও তাদের মৌলিক সুবিধাগুলো দোড়গোরায় পৌছে দেয়া। বর্তমানে ইউনিয়নে একনায়ক তন্ত্র চলছে। এখানে কেউ বিচার পায় না। পায়না সঠিক সেবা। ইউনিয়নে রয়েছে চাঁদাবাজি, মাদক, জমিদখলের মত সমস্যাগুলো। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ঠদের সহয়তায় যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তবে তিনি বিজয়ে শতভাগ আশাবাদি।
রিটানিং অফিসার আব্দুল মান্নান জানান, আগামী ১১ নভেম্বর এর নির্বাচন সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে সম্পন্নের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। ২৬ অক্টোবর প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ২৭ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্ধের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রচারনা শুরু হবে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT