অনানুষ্ঠানিক প্রচারনায় মুখর চরকাউয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা বিষেদাগারে ব্যস্ত অনানুষ্ঠানিক প্রচারনায় মুখর চরকাউয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা বিষেদাগারে ব্যস্ত - ajkerparibartan.com
অনানুষ্ঠানিক প্রচারনায় মুখর চরকাউয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা বিষেদাগারে ব্যস্ত

3:05 pm , October 24, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থীদের অনানুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারনায় মুখরিত সদরের ৬ ইউপি। আর মাত্র ১ দিন পর প্রতীক পেয়ে শুরু হচ্ছে আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারনা। তবে থেমে নেই প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রচারনা। এতে এখনই পুরো নির্বাচনি আমেজে ইউপির সাধারন ভোটাররা। নিজেদের প্রচারের সাথে সাথে প্রার্থীরা সমান তালে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীদের ত্রুটি তুলে ধরে নিজেদের পক্ষ ভারী করার চেষ্টা করছে। সমর্থকরাও পছন্দের প্রার্থীর গুনকীর্তন করে প্রতিপক্ষের নানা ত্রুটির ফিরিস্তি তুলে ধরছেন। ভোটাররাও প্রার্থীদের নানা ত্রুটি রয়েছে স্বীকার করে তাদের মধ্যে থেকেই একজনকে নির্বাচিত করবেন বলে জানিয়েছেন।
ভোটারদের ভাষায় ক্ষমতাসীন দলের বেশিরভাগ প্রার্থীরাই ইউনিয়নে উন্নয়নে তেমন কোন ভুমিকা পালন করতে না পারলেও বদনাম কুড়িয়েছেন নানা বিতর্কিত কাজের মাধ্যমে। ক্ষমতার প্রভাবে নাগরিক সেবা না দিয়ে জনগনের এই প্রতিনিধিরা জনগনের রক্ত চুষেছেন। ইউপিগুলোর সাধারন সদস্য ও সংরক্ষিত প্রার্থীরা আলোচনার বাইরের বিষয় হলেও বেশ আলোচনা জমছে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীদের নিয়ে। গতকাল নির্বাচনি পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দিনভর ঘুরে আসা হয়েছে সদরের অন্যতম বৃহৎ ইউনিয়ন পরিষদ চরকাউয়া থেকে। প্রায় ২৮ হাজার ভোটারের এই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে এবার প্রতিদ্বন্দীতা করছেন ৭ প্রার্থী। সাধারন সদস্যতে আছেন ৩১ এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দী ৯ জন। তবে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যের ৫ জন মুলত ভোটারদের আলোচনায় রয়েছেন। এরা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সুলতান আহমেদ খান ও হারুন অর রশিদ হাওলাদার, জাতীয় পার্টির জয়নাল আবেদীন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আলহাজ্ব আহম্মদ আলী তালুকদার এবং বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম ছবি। এই ৫ প্রার্থী মুলত চরকাউয়া ইউনিয়নে জমজমাট নির্বাচন নিয়ে প্রচার প্রচারনায় মেতে উঠেছেন। এদের মধ্যে ৪ জন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী গত ৩ বারের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবি এর বিরুদ্ধে নান অভিযোগ তুলে ধরে তাদের নির্বাচনি প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। যে সকল নাগরিক সুযোগ সুবিধা বিগত সময়ে মনিরুল ইসলাম ছবি সাধারন জনগনকে দিতে পারেনি ঠিক সেগুলো নির্বাচিত হলে সাধারন ভোটারদের দোড়গোড়ায় পৌছে দেয়া হবে বলে অঙ্গিকারবদ্ধ হয়েছেন তারা। এছাড়াও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম ছবির ভূমিকা বিগত দিনে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল এবং ভবিষ্যতেও তা হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন। তবে এবার সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে এবং সাধারন ভোটারদের ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে যে যার মত করে জনগনের সাহায্যে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন বলে জানিয়েছেন তারা। এ সকল বিষয়ে কোন কথা না বলে মনিরুল ইসলাম ছবি বলেছেন, জনগনই অভিযোগ গুলোর সত্যতা জানেন। তাদের কাছে এর উত্তর রয়েছে।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়নাল আবেদীন বলেন, এই ইউনিয়নে বিগত আমলে উন্নয়নের কোন ছিটেফোটাও হয়নি। এখানে নেই কোন রাস্তাঘাট। জনগন পাচ্ছে না তাদের নাগরিক সুবিধাগুলো। এখানে সাধারন ভোটাররা বিগত ১০-১৫ বছর থেকে জিম্মি অবস্থায় রয়েছে। সুবিধা বঞ্চিত হয়েও কেউ মুখ খুলতে পারছেন না। মুখ খুললে তারা শিকার হচ্ছে বর্তমান চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলার। থাকতে পারছে না বাড়িঘরে। সদর উপজেলার জাতীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক জয়নাল আবেদীন আরো বলেন, প্রশাসনের অঙ্গিকার মোতাবেক যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তবে তিনি শতভাগ আশাবাদি নির্বাচিত হবেন বলে। নির্বাচিত হলে এক এক করে সাধারন ভোটারদের প্রত্যাশা পুরনো কাজ করবেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, চরকাউয়া ইউয়নটি বরিশালের ৬ ইউনিয়নের মধ্যে সব থেকে অবহেলিত। এখানে কোন উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান চেয়ারম্যান তিনি একজন বিতর্কিত মানুষ। তাই শুধুমাত্র তার একার কারনে চরকাউয়া ইউনিয়নকে ভোটের জন্য ঝুকিপূর্ন ইউনিয়ন বলে দাবী করেন হারুন অর রশিদ হাওলাদার। বিগত দিনে নির্বাচন গুলোতে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এসে বর্তমান চেয়ারম্যানের পক্ষে ভোট কেন্দ্র দখল, সাধারন ভোটারদের ভোট দানে বাধা প্রদান সহ নানা অপকর্ম করে গেছে। কিন্তু এবার আর তা হতে দেয়া হবে না। শক্ত হাতে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে যা যা করতে হয় তাই করবে সাধারন ভোটাররা। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয় এজন্য সাংবাদিক সহ প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এই প্রার্থী। বর্তমান চেয়ারম্যান ৪ বার ব্যালট টেনে নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যানের রয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী ও অস্ত্র। এর সামনে কতটুকু টিকতে পারবেন তিনি তা জানেন না। তাই গনমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি সবাইকে সজাগ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। নির্বাচনী কেন্দ্রে দাবী করেছেন ম্যাজিস্ট্রেট সহ প্রশাসনের অধিক লোক। তিনি বলেন, যেখানেই ভোট চাইতে যাচ্ছেন ভোটারদের একটাই প্রশ্নের সম্মুখিত হচ্ছেন, তা হচ্ছে ভোট দিতে পারবে কিনা। তিনি ১০ বছর ছাত্রলীগ, ১২ বছর যুবলীগ এবং ১৪ বছর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত আছেন। শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর আদর্শের উপর বিশ্বাস রেখে তিনি টিকে আছেন। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করায় তিনি যদি বহিষ্কার হন তাতে আফসোস নেই তার। নির্বাচিত না হয়েও সাধ্যমত জনগনের জন্য করার চেষ্টা করেছেন। নির্বাচিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করবেন প্রথমে। মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিংয়ে থাকবেন জিরো টলারেন্সে। নজর দিবেন ইউনিয়নের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে। শেখ হাসিনার সকল উন্নয়ন কার্যক্রম জনগনের সমন্বয় জনগনের দোড় গোড়ায় পৌছে দেয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আলহাজ্ব আহম্মদ আলী তালুকদার বলেন, ২য় বারের মত নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তিনি। নির্বাচিত হওয়ার আগ থেকেই নানা উন্নয়ন মূলক কাজে পিছনে থেকে অর্থের যোগান দিয়ে আসছেন। নির্বাচিত হলে মাদক ও দূর্নিতি মুক্ত মডেল ইউনিয়ন করা হবে চরকাউয়াকে। নিজে কিছু না বললেও বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নান অভিযোগ অস্বীকার করেন নি এই প্রার্থী। জনগনকে সাথে নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য প্রয়োজনে প্রতিরোধ গরে তুলতেও রাজি আছেন বলেন আহম্মদ আলী তালুকদার। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে শতভাগ নির্বাচিত হওযার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, রাস্তাঘাট এর একটি বড় সমস্যা রয়েছে ইউনিয়নে। প্রথমে তা সমাধান করবেন। এছাড়া বেরিবাধ নির্মান করে রক্ষা করার পরিকল্পনা রয়েছে ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো। তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সুলতান আহমেদ খান বলেন, বর্তমানে চরকাউয়া ইউনিয়নের খুব খারাব অবস্থা। পুরো ইউনিয়ন এখন ক্ষমতাসিন দলের দখল সন্ত্রাস ও অস্ত্রের ভয়ে ভীত সন্তস্ত্র। উন্নয়নের কিছুই হয়নি এই ইউনিয়নে। প্রমানের জন্য তা পুরো ইউনিয়ন একবার হলেও ঘুরে দেখার আহবান জানান তিনি। ইউনিয়নের বড় সমস্যা রাস্তাঘাট ও মাদক। রাস্তাঘাট বিগত চেয়ারম্যান করতে পারে নি আর মাদকের মদদ দিচ্চে তার (বর্তমান চেয়ারম্যান) লোকজনই বলে জানান সুলতান আহমেদ খান। আগামী ১১ নভেম্বর সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই প্রার্থী। বিগত ৩ বারে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। মানুষ তার ভোট দিতে পারেনি। ভোট কেন্দ্র দখল করে সন্ত্রাসী বাহিনীরা ভোট দিয়েছে ইচ্ছে মত করে। সুষ্ঠু নির্বাচনের আশায় এবার অংশগ্রহন করছেন বলে জানান তিনি। তা যদি আসলেই সুষ্ঠু হয় তবে শতভাগ নিশ্চয়তার সাথে তিনিই জয়ি হবে বলে জানান।
বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম ছবি বলেন, এ সকল অভিযোগ কেন করা হয়েছে তিনি আসলে বুঝতে পারছেন না। ষড়যন্ত্র মুলক ভাবে তার সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য প্রতিদ্বন্ধিরা এই কুটকৌশল অবলম্বন করছে। বর্তমান সহ তিনি ৪ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তার দিনের শুরু ও শেষ হয় জনগনের সেবা করে। এমন নজিরও রয়েছে তিনি সড়কে দাড়িয়েও সাধারন ভোটারদের মৌলিক কাজগুলো করে দিয়েছেন। এজন্যই তিনি সুনামের সাথে দায়িত্বে রয়েছেন। শুধুমাত্র বিগত ৫ বছরে তিনি ইউনিয়নে প্রায় ২ শত গভির নলকূপ, ২৫টি কালভার্ট, ২টি বাদে সকল রাস্তার কার্পেটিং করিয়েছেন। ভবিষ্যতেও তার এই কাজের ধারা অব্যহত থাকবে। যারা অভিযোগ করছে তারা আসলে নিজেরাই নানা বিতর্কিত কাজে লিপ্ত এবং ঈর্ষান্বিত। অভিযোগ গুলোর সত্যতা জানতে প্রয়োজনে ইউনিয়নে সাধারন ভোটারদের মতামত নেয়ার আহবান জানায় মনিরুল ইসলাম ছবি। ভোট যদি সুষ্ঠু হয় তবে ৩ ভাগের ২ ভাগ ভোট তিনি পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং ভোটারদের সকল ধরনের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করবেন।
রিটানিং অফিসার আব্দুল মান্নান জানান, আগামী ১১ নভেম্বর এর নির্বাচন সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে সম্পন্নের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। ২৬ অক্টোবর প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ২৭ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্ধের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রচারনা শুরু হবে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT