চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীদের চলছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীদের চলছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ - ajkerparibartan.com
চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীদের চলছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ

3:04 pm , October 23, 2021

রায়পাশা-কড়াপুর ইউপির প্রচারনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই শেষে সদরের ৬ ইউপিতে এখন বিরাজ করছে রমরমা নির্বাচনী পরিবেশ। ভোট যুদ্ধে ভোটারদের ভরসার পাত্রে পরিনত হয়ে চেয়ারম্যান হিসেবে জয় লাভ করতে মহা ব্যস্ত এ সকল ইউপির প্রার্থীরা। আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারনা শুরুর তিন দিন বাকি থাকলেও চলছে অনানুষ্ঠানিক প্রচারনা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা নিজেদের সমর্থকদের নিয়ে ঘরোয়া মিটিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনের সকল ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গতকাল শুক্রবার নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সদরের রায়পাশা করাপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে নির্বাচনী আমেজ। মোট ১৮ হাজার ৬৭০ ভোটার নিয়ে বড় এই ইউনিয়নে আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ভোটযুদ্ধ। এই ইউনিয়নে চেয়াম্যান পদে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতার জন্য মনোনয়ন পত্র সংগ্রহন করেছিলেন। তবে ডামি প্রার্থী হিসেবে দাড়ানো বেশ কয়েকজন আগামী ২৬ অক্টোবর প্রত্যাহারের শেষ দিনে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নির্বাচন অফিসের সূত্র মতে এই ইউনিয়নের প্রর্থীরা হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান খোকন, স্বতন্ত্র মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র এবং ইউনিয়নের একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুরুল আমীন, স্বতন্ত্র আলহাজ্ব মনিরুজ্জামান, আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী আহম্মদ শাহরিয়ার বাবু, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনিত প্রার্থী মো. বরকত উল্লাহ কাছেমী, স্বতন্ত্র মো. মামুন উর রশিদ এবং জাতীয় পার্টির মনোনিত প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান। ইউপিতে সাধারন সদস্য পদে ৩৪ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ১২ প্রার্থী রয়েছেন। নানা ধরনের সুবিধা বঞ্চিত এই ইউনিয়নের উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারনা এখন জমজমাট। প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর দুর্বলতা খুজতে ছাড় দিচ্ছেন না বিন্দু মাত্র। এদের মধ্যে কেউ বলছেন, সর্বোচ্চ উন্নয়ন করবেন। নতুনরা নিজেদের প্রমান করার প্রথম সুযোগ চেয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। অন্যদিকে সাধারন ভোটাররা পুরাতন কিছু সমস্যা তুলে ধরে দাবী জানিয়ে বলেছেন, এই ইউনিয়নে এতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও ভোট যুদ্ধে মাঠে থাকবেন হাতে গোনা কয়েকজন। যোগ্যতার ভিত্তিতেও অনেক প্রার্থী এই ইউনিয়নে ধোপে টিকবেনা। মুলত ৪/৫ প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্ধিতা হবে। অন্যরা ভোটে অংশ গ্রহন করছেন নিছক অন্য প্রার্থীদের ভোট কমানোর জন্য। তবে যার কথায় কাজে তুলনামূলক সর্বোচ্চ মিল পাবেন তাকেই বসাবেন গুরুত্বপূর্ন এই আসনে। ইউনিয়নের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গতকাল আলাপ করা হয় রায়পাশা করাপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন প্রার্থীর সাথে।
বর্তমান চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান খোকন এর সাথে আলাপ কালে তিনি জানান, তার বিগত ৫ বছর চেয়ারম্যান থাকা কালিন সময়ে ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, কালভার্ট সহ বিভিন্ন ধরনের কাজ ৭০ শতাংশ সম্পাদন করেছেন। এবার নির্বাচিত হতে পারলে তা শতভাগ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বর্তমান দায়িত্ব কালীন সময় সহ তিনি এই ইউনিয়নের ২ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন ৫ বছর জনগনকে নিয়ে চলেছেন। জনগনের ভালোবাসার প্রতি তার আস্থা রয়েছে। তাই এবার আওয়ামীলীগের মনোনয়ন না পাওয়ার পর তার ইউনিয়নের জনগন ব্যথিত হয়েছে। তিনি বলেন আসন্ন নির্বাচনে যার যার ভোট তারা যেন নিজেরা দিতে পারে, সুষ্ঠ নিরাপদে দিতে পারে এজন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান। ভোটে কেউ প্রভার বিস্তারের চেষ্টা করলে জনগন তার প্রতিরোধ করবে বলে জানান তিনি। উন্নয়ন ও সমস্যা বিষয়ে তিনি বলেন ৫ বছরে ইউনিয়নে ৪ শত গভীর নলকুপ, ২শত টয়টেল সহ ৯টি কার্পেটিং রাস্তার কাজ করিয়েছেন। মাদক ইউনিয়নের একটি বড় সমস্যা জানিয়ে তিনি বলেন, মাদককে তিনি ঘৃনা করেন। তাই এর বিরুদ্ধে সবসময় তার অবস্থান শক্ত ও মজবুত। অভিযোগ করে তিনি বলেন, বর্তমান আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী ইউনিয়নের মাদকের সকল কর্মকান্ডের মদদ দাতা। এমন একজন নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের কি অবস্থা হতে পারে সেই প্রশ্ন রাখেন তিনি। সর্বশেষ আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আহম্মদ শাহরিয়ার বাবু বলেন, দল আমাকে যোগ্য হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যানের অনিয়ম, দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে নিজ ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য খাদিজা বেগমকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তার তিন ছেলে মাদকাসক্ত। তারা প্রত্যেকে এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বিক্রয়ের সাথে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডেরও অভিযোগ রয়েছে। নিজের দোষ আড়াল করতে অপ-প্রচার করছে। বাবু আরো বলেন, জনগনের ভোটে নির্বাচিত হলে ইউনিয়নে ব্যাপক উন্নয়ন করবেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব মনিরুজ্জামান মনির জানান, তার ভাই ইউনিয়নে সর্বাধিক জনপ্রিয় একজন প্রতিনিধি ছিলেন। দীর্ঘ সময় সুনামের সাথে তিনি এই দায়িত্ব পালন করেছেন। মুলত ভাইয়ের এই কাজের ধারাকে অব্যহত রাখতে তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছিন। নির্বাচিত হলে পারলে ভোটারদের মৌলিক চাহিদার উপরে গুরুত্ব দিবেন। ভোটারদের সাথে আলোচনা করে তাদের সকল সমস্যা সমাধান করবেন। তিনি সুষ্ঠু ভোট হলে ৮০শতাংশ ভোট পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন করোনা কালীন সময়ে তাদের পারিববারিক ভুমিকা ছিলো ইউনিয়নের সাধারন মানুষের জন্য। মোট ৪শত লোকের এক মাসের খাবার এসময় তাদের হাতে পৌছে দেয়া হয়েছে। নির্বাচিত হলে জনগনকে দেয়া প্রতিশূতি রক্ষা করবেন। বিনামূল্যে সকল মৌলিক সেবাগুলো নিশ্চিত করবেন। প্রাধান্য দিবেন রাস্তাঘাট মেরামতের। ভোটারদের জন্য সরকারি অনুদান সহ নানা সুবিধা নিশ্চিত করবেন। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে টাকার বিনিময় সেবা নিতে হচ্ছে জনগনকে। পোহাতে হচ্ছে নানা ধরনের ভোগান্তি। আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে এসকল সমস্যা তড়িত সমাধান করবেন। ইউনিয়নের ভোটাররা তার সাথে আছেন এবং তাদের ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্তি করবেন তিন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী মো. বরকত উল্লাহ কাছেমী বলেন, জনগনের প্রাপ্য জনগনের কাছে পৌছে দিতে তিনি ভোটে অংশ নিচ্ছেন। নতুন প্রার্থী হলেও জনগনের বেশ সমর্থন পাচ্ছেন। নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদের সকল দূর্নিতি বন্ধ করবেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ সকল ধরনের উন্নয়ন করবেন। আগামী ১১ নভেম্বর ভোটে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জাতীয় পার্টির মনোনিত প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান জানান, মানুষের দূঃখ দূর্দশা দীর্ঘদিন দেখতে দেখতে ক্লান্ত তিনি। এ সকল দূর্দশা লাঘব করতে তার নির্বাচনে অংশ নেয়া। মানুষের পাশে থাকতে চান তিনি। তাতে নির্বাচিত হতে পারেন কিংবা নাই পারেন। ইউনিয়নের মানুষ যেন বিনামূল্যে সকল সেবা পায় নির্বাচিত হলে প্রথমেই সেই বিষয়টিতে দৃষ্টিপাত করবেন। জাপার কেন্দ্রীয় নেতারা তাকে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে আসস্ত করেছেন। তাই জয়ী হতে আশাবাদি তিনি। ইউনিয়নে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে, নির্বাচিত হলে তা সব সমাধান করবেন। তবে পাওয়া যায়নি স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান চৌধুরীকে।
রিটানিং অফিসার আব্দুল মান্নান জানান, আগামী ১১ নভেম্বর এর নির্বাচন সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে সম্পন্নের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। ২৬ অক্টোবর প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ২৭ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্ধের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রচারনা শুরু হবে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT