নগরীতে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে চুরি নগরীতে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে চুরি - ajkerparibartan.com
নগরীতে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে চুরি

3:22 pm , October 21, 2021

জিডি নিয়েই দায়িত্ব শেষ করছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীতে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে চুরির ঘটনা। শুধু রাতে নয় দিনের বেলায়ও ঘটছে চুরি। নগরীর প্রায় প্রতিটি এলাকার বাসিন্দারা আছেন চোর আতংকে। অধিকাংশ বাসায় সিসি ক্যামেরা থাকার পরও ঘটছে চুরির ঘটনা। গড় হিসেব করে দেখা গেছে প্রতি মাসে এই নগরীতে অর্ধশতাধিক চুরির ঘটনা ঘটছে। তবে পুলিশের খাতায় এই হিসেব অনেক কম। কারণ অনেকে চুরির বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে যায় না। এছাড়াও চুরির ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরী হয়। এর বাইরের হিসেব তাদের কাছে নেই। নগরীর বাসিন্দাদের জানিয়েছেন, চুরি অভিযোগ দিয়ে তেমন কোনো প্রতিকার পাওয়ার কোন নজির নেই বললেই চলে। চুরির ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরী করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলেও যাওয়ার প্রয়োজন মনে করে না। এ কারণে অনেকের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটলেও সাধারণ ডায়েরী করতেও সাধারণ মানুষের অনীহা রয়েছে। থানা পুলিশের অসহযোগীতার কারনেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কেউ থানায় অভিযোগ দেন না। কোন কোন সময় অভিযোগ দিয়ে উল্টো অভিযোগকারীকেও নানা ধরণের হয়রানীর শিকার হতে হয়। গত এক মাসের ব্যবধানে নগরীর মুসলিম গোরস্থান রোড, শীতলাখোলা, ব্রাউন কম্পাউন্ড, সিকদারপাড়া, সার্কুলার রোড, রুপাতলী, ব্যাপটিস্ট মিশন রোড, মুন্সির গ্যারেজ এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ চুরির ঘটনা ঘটছে দিনের বেলায়। বাসা বাড়ীতে নগদ টাকা ও স্বর্র্ণালংকার চুরির পাশাপাশি মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটও নতুন করে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত ১০ অক্টোবর নগরীর মুসলিম গোরস্থান রোড এলাকার বাসিন্দা কুরছিয়া আকতারের বাসায় (নিরিবিলি ভবন) চুরি হয়। বাসায় কেউ না থাকার কারণে ওই দিন দুপুর পৌনে তিনটা থেকে বিকেল সোয়া তিনটার মধ্যে চোর বাসার তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায়। পাশের বাসার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে সবকিছুর প্রমানও রয়েছে। কিন্তু থানায় অভিযোগ দেয়ার পরেও কোন ধরণের প্রতিকার পাননি অভিযোগকারী। চুরির খবর পেয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দায়িত্ব শেষ করেছে। কুরছিয়া আকতার অভিযোগ করেন ১০ অক্টোবর থানায় সাধারণ ডায়েরী করার পরে আজ পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেননি। থানা থেকে এসআই কামাল হোসেন একদিন শুধু মুঠোফোনে কল করে দায়িত্ব শেষ করেন। এরপর আর কোন খবর নেই। নগরীর সিকদার পাড়া এলাকায় গত কয়েক দিনের ব্যবধানে দিবালোকে বাসার তালা ভেঙ্গে তিনটি চুরি রয়েছে। নগরীর একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, চুরি হওয়ার পর থানায় অভিযোগ দিতে গেলে নানা ধরণের হয়রানীর শিকার হতে হয়। নানা ধরণের টালবাহানার পর কোনমতে জিডি গ্রহণ করলেও পরবর্তীতে ফলাফল শূন্য। জিডি গ্রহণ করা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রয়েছে সবকিছু। থানায় চুরির ঘটনায় সাধারণ ডায়েরী করার পর পুলিশ অনেক সময় ঘটনাস্থলেও আসেন না। উল্টো যার বাসায় চুরি হয়েছে তাকে জেরা করা শুরু করে পুলিশ। এ কারণে অনেকেই থানায় অভিযোগও দেন না। পুলিশ ইচ্ছে করলে অনেক কিছুই পারে কিন্তু তাদের সেই মানসিকতা নেই। কোন পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় চুরি হলে ঠিকই ২৪ ঘন্টার মধ্যে মালামাল উদ্ধার করে কিন্তু সাধারণ মানুষের বাসায় চুরি হলে পুলিশ কোন কুল কিনারা পান না। নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকার এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তার বাসায় থেকে মোটর সাইকেল চুরি হওয়ার পরে কোতয়ালী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়। শুধু তাই নয় বাসার সিসিটিভি ফুটেজও দেয়া হয় পুলিশের কাছে। তারপরেও পুলিশ চোরাই গাড়ী উদ্ধার করতে পারেনি। তাদের কাছে অভিযোগ দেয়া না দেয়া সমান কথা। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের চার থানার আওতাধীন বেশিরভাগ এলাকাই প্রতিদিন চুরির ঘটনা ঘটছে।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT