নিষেধাজ্ঞার সুযোগে ইলিশ শিকার করছে ভারতীয় জেলেরা নিষেধাজ্ঞার সুযোগে ইলিশ শিকার করছে ভারতীয় জেলেরা - ajkerparibartan.com
নিষেধাজ্ঞার সুযোগে ইলিশ শিকার করছে ভারতীয় জেলেরা

3:02 pm , October 19, 2021

কঠোর অবস্থানে রয়েছে নৌ-বাহিনী

মো: আফজাল হোসেন, ভোলা ॥ ইলিশ মাছ ধরা বন্ধে কোন আপসোস নেই ভোলার জেলেদের মাঝে। তবে এনজিও ঋন পরিশোধ করা আর ভারতীয় জেলেরা ইলিশ ধরে নিচ্ছে এই হতাশা রয়েছে তাদের মাঝে। নিষেধাজ্ঞা উভয়ের জন্য করাসহ ইলিশ ধরা বন্ধ থাকাকালীন এনজিওর কিস্তির টাকা নেয়া বন্ধ রাখতে সরকারের প্রতি দ্বীপজেলা ভোলার অন্তত ৩ লাখ জেলের প্রানের দাবী।
যারা চারপাশটাই মেঘনা আর তেতুলিয়া নদী বেস্টিত সেই জেলাটিই হচ্ছে ভোলা। এখানকার অন্তত ৩ লাখ মানুষ রয়েছে যারা নদীতে মাছ ধরার সাথে যুক্ত। যুদ্ধ করে চলে এসব জেলেদের সময়। ঝড়-ঝাপটা আর ডাকাতের মোকাবেলা। সবকিছু মিলিয়ে এদের মনে কস্ট নেই। দ্বীপ জেলাটির ৪ভাগের ৩ভাগ মেঘনা ও তেতুলিয়া। আর বাকী ১ ভাগ জেলে বড় ট্রলার নিয়ে সাগরে ইলিশ ধরছে জীবনের ঝুকি নিয়ে। সরকার যখনই নিষেধাজ্ঞা দেয় তখনই তারা আনন্দে গ্রহন করে। তাইতো এসব জেলেরা ভোলার বিভিন্ন খালে কিংবা মেঘনা পাড়ের চরের উপর ট্রলার তুলে দিয়ে জালের কাজসহ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। তবে এদের মাঝে হতাশা হচ্ছে বাংলাদেশে নিষেধাজ্ঞা চলছেও ভারতে নিষেধাজ্ঞা নেই। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতীয় হাজারো ট্রলার বাংলাদেশে প্রবেশ করে ইলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে আর বাংলাদেশের জেলেরা সরকারী নিষেধাজ্ঞায় ঘরে বসে হতাশা ব্যক্ত করেন ভোলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড এর বাসিন্দা বড় ফিশিংবোর্ড এর মাঝি মো: নাগর মাঝি। তিনি বলেন, সাগরের চেয়ে মেঘনায় খুটা জাল, বাঁধা জাল বন্ধ করা উচিত। এর একসাথে যে জাটকা মারে তা অন্তত আমাদের মত বড় ১০টি ফিশিংবোর্ড বোঝাই হয়ে যাবে। সরকার এসব দিকে নজর দিচ্ছে না। অভিযানের সময়ে বাংলাদেশে এর জলসীমায় মাছ ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় হাজার হাজার ফিসিংবোর্ড। অভিযান দিলে এক সাথে দেয়া উচিত। মো: হানিফ মাঝি বলেন, যখন অভিযান দেয়া দরকার সরকার তখন দিচ্ছে না। অথচ এখন ইলিশ মাছ এর পেটে ডিম নেই। আরো ২০/২৫ দিন পর দিলে ভালো হত। এনজিও গুলোর ঋনের ভারে আমরা উঠে দাড়াতে পারছিনা। অথচ ভারতীয় ট্রলার মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তারা লাভবান হচ্ছে। আর আমরা না খেয়ে আছি। সরকার যে চাল দিচ্ছে তাও ঠিক মত পাচ্ছি না। চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা ভাগ করে খায়। প্রশাসনকে জানালেও কোন ব্যবস্থা তারা নিচ্ছে না। চোর পুলিশ খেলছে বলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন, বটতলা মাছঘাটের মো: নাঈম মাঝি। তিনি বলেন, সকল জেলে-মাঝি এনজিওর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ঋন নিয়ে জাল, ট্রলার করে। অথচ সরকার যখন তখন অভিযান দেয়। অভিযান নিয়ে আমাদের কোন কথা নেই। তবে এই সময় ঋনের কিস্তি না দিতে পারলে ঘরে ঢুকে হাড়ি-পাতিলসহ সব নিয়ে যায়। শুধু তাই নয় লাঞ্চিত করে মহিলাদের। সরকারের কাছে দাবী সরকারী ভাবে আপনারা ঋন দিন। তা হলে আমরা হয়রানীর শিকার হবো না। একই কথা বলেন, রাধাভল্লব মাছঘাটের বিল্লাল মাঝি। তাদের দাবী, শুধু তাই নয়। ইলিশ ধরা বন্ধ হলেও এনজিও গুলো থেকে ঋন নিয়ে সাবার (জাল) ও নৌকা করা হলেও টাকার জন্য এসে লাঞ্চিতসহ ঘরের হাড়ি পাতিল পর্যন্ত নিয়ে যায় এনজিওর লোকজন। তাইতো যে কোন নিষেধাজ্ঞার সময় ঋনের কিস্তির টাকা নেয়া বন্ধ রাখার দাবী জানিয়েছেন জেলেরা। একই সাথে সরকারী ভাবে লোন দেয়ার দাবীও তুলেছেন। এদিকে জেলেরা যাতে হয়রানী না হয়, তাদেরকে সরকারী ভাবে ঋন দেয়ার যে দাবী জেলেদের তার সাথে একমত পোষন করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এমএস আজহারুল ইসলাম বলেন, সরকারের কাছে জেলেদের মত আমিও দাবী জানাই, সরকার যেন সহজ শর্তে ঋন দেয়ার ব্যবস্থা করেন। যা দিয়ে জেলেরা জাল,নৌকা ক্রয় করতে পারে। তা হলে এনজিও গুলোর কাছ হয়রানীর শিকার হতে হবে না। এছাড়া অবরোধ চলাকালীন সময় বাংলাদেশের জেলেরা ইলিশ শিকার করতে না পারলেও ভারতীয় জেলেরা ইলিশ শিকার করছে এমন কথা স্বীকার করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এমএস আজাহারুল ইসলাম বলেন, গত ৩ অক্টোবর এবিষয় সচিব স্যারের সাথে আলোচনা হয়েছে। সকল মৎস্য কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকরা বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সেক্ষেত্রে নৌ-বাহিনীর সদস্যরা টহল জোরদার করার মাধ্যমে যাতে ভারতীয় ট্রলার মাছ ধরতে না পাড়ে তা নিশ্চিত করবে এমন আশ্বাস দিয়েছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

বসুন্ধরা বিটুমিন

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT