গত ১০ মাসে দক্ষিণাঞ্চলে বিপুল পরিমান গাঁজা উদ্ধার গত ১০ মাসে দক্ষিণাঞ্চলে বিপুল পরিমান গাঁজা উদ্ধার - ajkerparibartan.com
গত ১০ মাসে দক্ষিণাঞ্চলে বিপুল পরিমান গাঁজা উদ্ধার

3:09 pm , October 18, 2021

শিকদার মাহাবুব ॥ এবছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমান গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। গাজা সহ এসকল অভিযানে আটক হয়েছে নারী, কিশোর, ব্যবসায়ী, ছাত্রলীগ কর্মি এমনকি সরকারী চাকুরিজীবীও। সফলভাবে এ সকল অভিযান পরিচালনা করেছে র‌্যাব-৮, স্থানীয় থানা পুলিশ, ডিবি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও কোষ্টগার্ড। অনুসন্ধান ও সংগৃহীত তথ্য মতে, বছরের শুরুর দিন বরগুনা সদর উপজেলার ক্রোক এলাকা থেকে গাঁজাসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় দম্পতি জালাল হাওলাদার ও রেখা বেগমের বসতবাড়ির মাটির নিচে পুতে রাখা তিনটি কৌটা থেকে এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গত ১৩ জানুয়ারি বন্দর থানার চরহোগলা এলাকা সংলগ্ন নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চে অভিযান চালিয়ে প্রায় আধাকেজি গাঁজা উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। তবে এ ঘটনায় কেউ আটক হয়নি। গত ৭ এপ্রিল সদর উপজেলার রাকুদিয়া গ্রামে আধাকেজি গাঁজাসহ ফয়সাল হোসেন মিলনকে গ্রেফতার করা হয়। মিলন ওই গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে। ১৩ এপ্রিল নগরীর কাজিপাড়া থেকে একজন গাঁজা চাষিকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ১৯ মে সদর উপজেলার লামছড়ি থেকে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী কালাম ওরফে গাঁজা কালামকে ছয় কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দুই সহযোগিকেও আটক করা হয়। এদের মধ্যে কালামের নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। ১৮ মে পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরে গাঁজাসহ ছাত্রলীগ নেতা বদিউজ্জামান খান রাব্বিকে গ্রেফতার করে স্থানীয় থানা পুলিশ। তাকে উপজেলার শ্রীরামাকাঠী ইউনিয়নের জয়পুরের কালিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। রাব্বি উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক উপক্রীড়া সম্পাদকও ছিলেন। ৫ জুন সকালে নগরীর ধান গবেষনা রোডে তিন কেজি গাঁজাসহ ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়ার শামীম ভুঁইয়াকে আটক করে ডিবি। ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়ার কসবা উপজেলার পূর্বপাড়া গ্রামের ওসমান আলী ভুঁইয়ার ছেলে সে । শামীম কুমিল্লা জেলা থেকে ট্রাভেল ব্যাগে করে এসব গাঁজা বরিশালে নিয়ে আসে। ১৪ জুলাই গৌরনদীর পশ্চিম শরিফাবাদ গ্রামে অভিযান চালিয়ে তিনটি গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হলেও কেউ আটক হয়নি। ১৫ জুলাই উজিরপুর উপজেলায় গাঁজা ও গাঁজা গাছসহ সাগর বিশ্বাস (২১) কে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ সময় সাগরের কাছ থেকে আড়াই শ’ গ্রাম গাঁজা ও সাড়ে আট ফুট উচ্চতার একটি গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হয়। সাগর বিশ্বাস উজিরপুরের জল্লা গ্রামের বীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের ছেলে। ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ৯ আগস্ট সদর উপজেলার চরকাউয়া এলাকায় রাসেল তালুকদারকে আধাকেজি গাঁজাসহ আটক করা হয়। রাসেল ওই এলাকার করিম তালুকদারের ছেলে। ২০ আগস্ট দুমকী উপজেলার তালতলী বাজার সংলগ্ন একটি বাড়ি থেকে কামাল হোসেন গাজীকে চার কেজি গাঁজাসহ আটক করে পুলিশ। ২৫ আগস্ট কাউখালী উপজেলার দক্ষিণ শিয়ালকাঠী গ্রাম থেকে আধাকেজি গাঁজাসহ জাহিদুল ইসলাম (৪৩) নামে এক কারারক্ষীকে গ্রেফতার করে ডিবি। কারারক্ষী জাহিদুল ইসলামের নামে বরিশালে দুইটি ও ঝালকাঠিতে একটি মাদক মামলা হওয়ার কারণে গত পাঁচ বছর ধরে তিনি সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন। বরখাস্ত থাকাকালে জাহিদুল বরগুনা জেলা কারাগারের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন। একই দিন দপদপিয়া সেতুর ঢালে দুই শ’ গ্রাম গাঁজাসহ দুই যুবককে গ্রেফতার করে ডিবি। এরা হলেন পলাশপুর ৬নং গলির ভাড়াটিয়া আজিজ খলিফা ও বাকেরগঞ্জ রঙ্গশ্রী গ্রামের রহিম খলিফা। ২৬ আগস্ট আগৈলঝাড়া উপজেলার দক্ষিণ বাগধা গ্রামের সাদ্দাম ধামা (৩১) কে আধাকেজিরও বেশি গাঁজাসহ গ্রেফতার করা হয়। সাদ্দাম ধামা ওই গ্রামের দেলোয়ার ধামার ছেলে। অন্যদিকে ১ সেপ্টেম্বর গৌরনদী উপজেলার ঘেয়াঘাটে অভিযান চালিয়ে দুই কেজি গাঁজাসহ সেলিম বালী (৫৪) কে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা । ৮ সেপ্টেম্বর মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভার বদরপুর এলাকায় অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ওই এলাকা থেকে এক কেজি গাঁজাসহ দুই জনকে আটকও করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। আটককৃতরা হলেন- মোঃ খলিল ও মোঃ ছিদ্দিক। ১০ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠির রাজাপুরে মাসুম জোমাদ্দারকে দুই কেজি গাজাসহ আটক করে পুলিশ। মাসুম উপজেলার কানুদাসকাঠি এলাকার মৃত ইয়াকুব আলী জোমাদ্দারের ছেলে। চট্রগ্রাম টু পাথরঘাটা জেবি পরিবহন যোগে মাসুম ফেনি জেলা থেকে গাজা নিয়ে এসেছিলেন। ১১ সেপ্টেম্বর উজিরপুর উপজেলার শংকরপুর গ্রামের রেজভী হাওলাদারকে এক কেজি আট শ’ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেফতার করে ডিবি। মৃত নূর মোহাম্মদ হাওলাদারের ছেলে রেজভী। ১২ সেপ্টেম্বর নগরীর পলাশপুর ৭নং কলোনীর মৃত বেল্লাল খান, মামুন খান ও জোড় মসজিদ এলাকার তোফাজ্জল হোসেন টিপুকে এক কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৩ সেপ্টেম্বর নগরীর কাশিপুর দক্ষিণ বাঘিয়া ?এলাকা থেকে প্রায় আধাকেজি গাঁজাসহ হুমায়ুন শরীফকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। একই দিন বাউফল উপজেলার কালিশুরী-ধুলিয়া ব্রীজের উপর থেকে আরিফ গাজী (২৫)কে চার কেজি গাঁজাসহ আটক করে কালিশুরী ফাঁড়ির পুলিশ। উপজেলার ঘুচরকাঠী গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের ছেলে আরিফ গাজী। ৩১ সেপ্টেম্বর রাতে বরিশাল-ভোলা মহাসড়কে ডিবির অভিযানে এক কেজি গাজাঁ উদ্ধার করা হয়। কাউখালী উপজেলার ফজলুল হক হাওলাদারের ছেলে ফুয়াদ হোসেন ফরহাদ (৪২) এসব গাঁজা বিক্রির জন্য বরিশালে বয়ে আনে। শুধু বস্তাভর্তি গাঁজা নয়, গৌরনদী উপজেলার শংকরপাশা গ্রামের নাইম ফকিরকে ছয় ফুট লম্বা একটি গাঁজা গাছসহ গ্রেফতার করা হয়। এ রিপোর্টে গাঁজা উদ্ধারের বড় চালানগুলোর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়াও ছোট ছোট গাঁজা উদ্ধারের অসংখ্য চালান রয়েছে, যা হিসেবের বাহিরে। এই উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিবি) মোঃ মঞ্জুর রহমান বলেন, “গাঁজা একটি সহজলভ্য বিষয়। নি¤œশ্রেনীর মানুষ গাঁজা সেবন করে বেশি। এসব গাঁজার বেশির ভাগই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, কুমিল্লা ও কুষ্টিয়া থেকে বরিশালে আসে। উপ-কমিশনার মোঃ মঞ্জুর রহমান আরও বলেন- যে পথেই গাঁজার চালান কিংবা অন্য কোন মাদকদ্রব্য আসুক, আমাদের অভিযান আরও বেগবান হবে”। এদিকে র‌্যাব-৮ বরিশাল সদর দপ্তরের মিডিয়া উইং অফিসার শেখ মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী বলেন, “ গাঁজা উদ্ধারের সঠিক তথ্য আমি বলতে পারবো না। কারন আমি কেবল মাত্র বরিশালে যোগদান করেছি”।

এই বিভাগের আরও খবর

বসুন্ধরা বিটুমিন

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT