প্রতিদিন ঘটছে দূর্ঘটনা, নষ্ট হচ্ছে জীবন প্রতিদিন ঘটছে দূর্ঘটনা, নষ্ট হচ্ছে জীবন - ajkerparibartan.com
প্রতিদিন ঘটছে দূর্ঘটনা, নষ্ট হচ্ছে জীবন

2:30 pm , October 17, 2021

অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনে ঝুঁকিপূর্ন সড়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ অনিয়ন্ত্রিত থ্রী হুইলার এবং যাচ্ছে তাই সড়ক চলাচল ব্যবস্থায় নগরীতে ভয়ংকর হারে বেড়েছে দূর্ঘটনার পরিমান। বিগত কয়েকদিনে দূর্ঘটনার কবলে পরে আজীবন পঙ্গুত্ব বরন করা সহ মৃত্যুবরন করেছে একাধিক পথচারী ও যানচালক। অনেকে ভয়ানক ভাবে আহত হয়ে ভুগছেন মেডিকেলের বেডে। মূলত ছোট এই শহরে মাত্রাতিরিক্ত যানবাহন সামাল দিতে না পারায় সড়কে দূর্ঘটনা ক্রমে বেড়ে চলেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া দুই চাকার যান মোটর বাইকের বেসামাল চলাচলে এই পরিমান দূর্ঘটনার সংখ্যা আরো বাড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি এখনই নিয়ন্ত্রনে আনার দাবী জানিয়েছে নগরীর সাধারন ও সচেতন বাসিন্দারা। অন্যদিকে ট্রাফিক বিভাগ তাদের দায়িত্ব পালনে শতভাগ সচেস্ট জানিয়ে বলেছে, অসচেতন ও অনভিজ্ঞ চালকের কারনেই মুলত প্রতিদিন সড়কে বাড়ছে দূর্ঘটনা। চলমান প্রক্রিয়ায় প্রতিদিন তারা এই অবস্থা নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য দিন রাত খেটে যাচ্ছেন। অনুসন্ধান ও সাম্প্রতিক তথ্য পর্যালোচনা করে দেখো গেছে, বরিশাল নগরীতে প্রথমত অন্যান্য বিভাগীয় এমনকি অনেক জেলা শহরের তুলনায় সড়কের পরিধি অনকেটাই অপ্রসস্থ। এছাড়া এই অপ্রসস্থ সড়কের মধ্যে বেশ কিছু প্রধান সড়কের বিভিন্ন স্থান আছে ক্ষতিগ্রস্থ অবস্থায় যা কোন ভাবে চলাচলের জন্য সংস্কার করা হয়েছে। এই হচ্ছে সড়কের অবস্থা। অন্যদিকে যানবাহনের হিসেবে দেখা যায় নগরীর সড়কে মুলত টু, থ্রী ও ফোর হুইলার টাইপ যানবাহন চলাচল করে থাকে। এর মধ্যে টু ও ফোর হুইলার এর পরিমান এর কয়েকগুন চলে থ্রী হুইলার। এর মধ্যে রয়েছে মাহিদ্রা, ব্যাটারি চালিত হলুদ অটো, সিএনজি, গ্যাস সিলিন্ডারে চালিত নীল অটো এবং ব্যাটিরী চালিত অটো রিক্সা। এই থ্রী হুইলার টাইপ যানবাহনের মুলত কোন সংখ্যা এই নগরীতে নির্ধারিত নেই। গত ৫ বছরের ব্যাবধানে শুধুমাত্র এই থ্রী হুইলারের সংখ্যা সড়কে বেড়ে দাড়িয়েছে আনুমানিক সব মিলিয়ে ৩০ হাজারের ওপরে। প্রথম দিকে আসে ব্যাটারী চালিত হলুদ অটোগুলোতে। প্রথম অবস্থায় চায়না থেকে আমদানীকৃত এই থ্রী হুইলার টাইপটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। চোখের পলকে বাড়তে থাকে পরিমান। সংখ্যা অতিরিক্ত বাড়ায় নির্দিষ্ট পরিমানে হওয়ার পর এর অনুমোদন দেয়া বন্ধ করে দেয় সিটি কর্পোরেশন। তবে এখন এই অটোগুলো নগরীতে তৈরি হয় এবং লাইসেন্স ছাড়াই ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় সড়কে চলে। এর পরে আসে নীল অটো। এই যানটির মান অতোটা ভাল না হওয়ায় একটি নির্দিষ্ট পরিমানের পর আর সংখ্যা বাড়েনি। এর পরে আসে সিএনজি যা এখনও প্রতিদিন বের চলেছে নগরীতে। এর প্রকৃত সংখ্যা কত তা কেউ জানে না। নগরীরতে চলাচলকারী থ্রি হুইলারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক রয়েছে এই গাড়ী। সবচেয়ে বেশি দূর্ঘটনার জন্য দায়ীও এই সিএনজি। শব্দ কম এবং দ্রুত গতির কারণে সিএনজি এখন নিরব ঘাতকে পরিনত হয়েছে। বিআরটিএ অফিসের হিসাবের চেয়ে দ্বিগুন সিএনজি এই নগরীতে চলাচল করছে। এব্যাপারে ট্রাফিক বিভাগও অনেক নিশ্চুপ। সর্বশেষ আসে সবচাইতে ভয়ংকর ব্যাটারীচালিত অটোরিক্সা। এই যানের সংখ্যা এখন নগরীতে অগনিত। মুলত এর চালকরা আগে সবাই প্যাডেল চালিত রিক্সা চালাতেন। এই যানটি সড়কের এর ভয়ংকর বস্তুতে পরিনত হয়েছে। অদক্ষ চালক ঝুকিপূর্ন এই যানটি চালানোর কারনে প্রতিদিন এরা নগরীর সড়কে দূর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। এসমস্ত যাবাহন এর সংখ্যা নিয়ন্ত্রনে কখনই বরিশালে সংশ্লিষ্ট কাউকে তেমন কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। তাই নিয়ন্ত্রনের বাইরে গিয়ে প্রতিদিন এই সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অবশ্য নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্ঠা করলেও এই যানের চালকদের ব্যাবহার করে রাজনীতি করা বাম নেতাদের বাধার কারনে তা কখনও করা সম্ভব হয়নি। টু ও ফোর হুইলারের বেশির ভাগই ব্যাক্তিগত। ফোর হুইলারে তেমন একটা সমস্যা না হলেও টু হুইলার তথা মোটরবাইক চালকদের কারনে সড়কে দুর্ঘটনার পরিমান অনেক বেড়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অনভিজ্ঞ কিছু মোটরবাইক চালকের বেপরোয়া চলাচলে প্রতিদিন সড়ক দূর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। গত কয়েকদিনে নগরীতে বেশ কিছু মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনার খবর রয়েছে। এর মধ্যে শনিবার দুপুরে নগরীর আমতলার মোড় এলাকায় সিএনজি ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যাত্রীর পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পা হারানো ওই যাত্রী হলো- খলিলুর রহমান (৩০)। নগরীর একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন তিনি। আহত খলিলুর রহমান বলেন, আমতলা মোড়ে সিএনজিতে নথুল্লাবাদ যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। তখন বিপরীত দিক থেকে একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে এসে সিএনজিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার বা পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে পথযাত্রীরা উদ্ধার করে শেবামেক হাসপাতালে ভর্তি করে। এর আগের দিন সন্ধ্যায় নুরিয়া স্কুলের একটু সামনে মো. জাহাঙ্গির (৫৫) নামের এক ব্যাক্তিকে মোটরসাইকেল ধাক্কা দেয়। সড়ক পাড় হওয়া এই ব্যাক্তির ডান পা ভেঙ্গে তিনিও এখন শেরে বাংলার অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডে ভুগছেন। এর আগের দিন এক ভবঘুরে নারীর মাথার ওপর দিয়ে উঠে যায় হলুদ অটোর চাকা। এতে ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি। কিছুদিন আগে দপদপিয়া ব্রিজে মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় তিন কিশোর এর মৃত্যু হয়। এছাড়াও আমতলার মোড়ে মাস দু’এক আগে বেপরোয়া গতির একটি মোটরসাইকেল বৈদ্যুতিক খুটির সাথে ধাক্কা খেয়ে চালক ও আরোহী দুজনেই নিহত হয়। এগুলো উদাহরন হিসেবে তুলে ধরা হল কিন্তু এমন ঘটনা প্রতিদিন ঘটে চলেছে নগরীর সড়কে। সচেতন বাসিন্দারা বলেছেন, সড়কের এমন অবস্থায় নিজের এবং সন্তানদের পথে চলতে দিতে আতংক হয়। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের তাগিদ দেন তারা। একই সাথে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করনে সংশ্লিষ্ঠদের আরও দায়িত্ববান হওয়ার পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) তানভির আরাফাত বলেন, ট্রাফিক বিভাগ সর্বদা সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সক্রিয় রয়েছে। তারা সাধারনকে নিশ্চিন্ত সড়ক উপহার দিতে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছে। এর পরেও নিয়ন্ত্রনের মতো সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেন তিনি।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT