এ.কে স্কুলের শ্রেনীকক্ষ দখল করে বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষকের স্ব-পরিবারে বসবাস এ.কে স্কুলের শ্রেনীকক্ষ দখল করে বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষকের স্ব-পরিবারে বসবাস - ajkerparibartan.com
এ.কে স্কুলের শ্রেনীকক্ষ দখল করে বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষকের স্ব-পরিবারে বসবাস

3:02 pm , October 13, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আদালত ও সাবেক ম্যানেজিং কমিটির দোহাই দিয়ে নগরীর আছমত আলী খান (এ.কে) ইনস্টিটিউশনের দুটি শ্রেনী কক্ষ দখল করে ২ বছর যাবত স্ব-পরিবারে বসবাস করছেন বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক এইচ এম জসিম উদ্দিন। নানান অভিযোগের মধ্যমনি বরখাস্তকৃত ওই প্রধান শিক্ষক তার জীবন গেলেও স্কুলের শ্রেনী কক্ষ ছাড়বেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এসময় তিনি বলেন, আদালতে দুটি মামলা চলমান রয়েছে। মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্কুলের শ্রেনীকক্ষ ছাড়ব না। স্কুলের শ্রেনীকক্ষ দখল করে বসবাসের অনুমতি আদালত দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদালত এ ধরনের কোন অনুমতি দেয়নি তবে স্কুলের সাবেক ম্যানেজিং কমিটি আমাকে বসবাসের অনুমতি দিয়েছে। এরপর থেকেই শ্রেনীকক্ষে বসবাস করছি। তাহলে স্কুলের বর্তমান কমিটি এখন আপনাকে শ্রেনীকক্ষ ছাড়ার জন্য অন্তত তিন দফা লিখিত নোটিশ দিলেও আপনি কেন স্কুলের শ্রেনীকক্ষ ছাড়ছেন না? এমন প্রশ্নের কোন সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমাকে স্কুলের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এ্যাড. গোলাম মাসুদ বাবলু রেজুলেশনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের কোয়াটারে থাকতে বলেছেন। তাছাড়া আমাকে বরখাস্ত করার ব্যাপরে আদালতে ম্যনেজিং কমিটির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছি। সেখানেও এই শ্রেনী কক্ষকে বাসভবন হিসেবে দেখানো আছে। তাই আদালতের নির্দেশ পেলে আমি এ শ্রেনী কক্ষ ছেড়ে দেব। স্কুল সূত্রে জানা গেছে, বছর দুয়েক পূর্বে প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিনের রুপাতলী গাউছিয়া সড়কে ভবনের নির্মানাধীন কাজ চলমান থাকায় তৎকালীন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি তাকে শ্রেণিকক্ষে থাকার অনুমতি দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে স্কুলের প্রায় ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ম্যানেজিং কমিটি তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। পাশাপাশি দূর্নীতির দায়ে আদালতে একটি মামলা করা হয়। জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকায় স্কুলের নিরাপত্তার জন্য শ্রেনীকক্ষ ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নাছোড় বান্দা জসিম কোন কথাই কর্নপাত না করে স্ব-পরিবারে বসবাস করতে থাকেন। করোনার প্রকোপে দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি খোলার পূর্বে বরখাস্তকৃত ওই প্রধান শিক্ষকে পুনরায় শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে দিতে অন্তত তিন দফা নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ ছাড়াতো দূরের কথা বরং তাকে অপসারন করার ক্ষমতা বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির নেই বলে দাবী করেন বরখাস্তকৃত ওই প্রধান শিক্ষক। তার এমন মনোভাবে অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে এ.কে স্কুলের বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি বলেন, বরখাস্ত হলেও জসিম উদ্দিন এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি কিভাবে একজন শিক্ষক হয়েও পাঠদানে বিঘœ সৃষ্টি করেন এটা আমার বোধগাম্য নয়। তার বিরুদ্ধে চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াও রয়েছে একাধিক অভিযোগ। আমরা স্কুল কমিটির মাধ্যমে জসিম উদ্দিনের দখলকৃত শ্রেনী কক্ষ দুটি ছেড়ে দেয়ার জন্য একধিকবার নোটিশ প্রদান করি। কিন্তু তিনি আদালতে ভুল তথ্য দিয়ে জোর করে দখল করে রেখেছেন শ্রেনী দুটি। এ ছাড়াও জসিম উদ্দিন ও তার পরিবার মিলে স্কুলের পাঠদানের পরিবেশ নষ্ট করছেন। যেটা একজন শিক্ষকের কখোনই উচিৎ না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বশির আহম্মেদ জানিয়েছেন, সাবেক শিক্ষকের শ্রেণিকক্ষের বসবাসে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি উল্লেখ করে ইতিমধ্যে তিন দফা নোটিশ দেওয়া হয়েছে কক্ষ দুটি ছেড়ে দেওয়ার তাগিদে। কিন্তু তারপরেও জোর করে শ্রেণিকক্ষে বসবাস করছেন তিনি। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাৎ সহ নানা মুখী অভিযোগের একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। বশির উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ২০০৯ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসা এইচএম জসিম উদ্দিন নানান দূর্নীতিতে জড়িয়েছিলেন। গত বছর হাসান মাহমুদ বাবু এই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি (এডহক কমিটি) সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব নিলে তার অনিয়ম দূর্নীতি ধরা পড়ে এবং তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। পরবর্তীতে জসিম উদ্দিনের স্থায়ী বহিষ্কার চেয়ে শিক্ষাবোর্ডে আবেদন করার পাশাপাশি আদালতে দূর্নীতির মামলাও করা হয়। যদিও জসিম উদ্দিন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করাকে আইনসিক্ত নয় দাবী করে আদালতে একটি কাউন্টার মামলা করেন। এই দুটি মামলাই এখন পর্যন্ত তদন্তধীন রয়েছে। মামলা পরিচালনাকারি আইনজীবী শেখ আব্দুল কাদের জানান, ২০০৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এইচএম জসিন উদ্দিন প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। দীর্ঘ ১১ বছরের তিনি প্রতিষ্ঠানের সকল সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক থাকেন ও বিদ্যালয়ের নামীয় সকল ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করেন। তিনি বিদ্যালয়ের আয় ও উন্নয়ন তহবিলের টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা দিবেন ও প্রয়োজন হলে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের যৌথ স্বাক্ষরে তা উত্তোলন করবেন। কিন্তু তিনি বিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাত করতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে দুটি রেজুলেশন তৈরী করেন। একই সাথে তিনি জাল ভাউচার দিয়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফান্ডের টাকা আত্মসাত করেন। তিনি গত বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেস্ট ইলেক্ট্রনিক্সের আনীত ভাড়া থেকে ৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, উন্নয়ন তহবিল থেকে সাবেক সভাপতি এড গোলাম মাসউদ চৌধূরী বাবুলের স্বাক্ষর জাল করে ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৮৬১ টাকা, গ্রাচুয়িটি তহবিল থেকে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৬৮ টাকা, বালুর মাঠ থেকে আনীত ৪৮ হাজার টাকা, অনুমোদনবিহীন ভাউচার থেকে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮৮০ টাকাসহ মোট ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ৭০৯ টাকা আত্মসাত করেন। পরবর্তীতে নতুন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আন্ত:অডিট কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির অডিটে প্রধান শিক্ষক এইচএম জসিম উদ্দিনের টাকা আত্মসাতের ঘটনা প্রমাণিত হয়। এঘটনায় সভাপতি প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেন এবং একটি মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে পিআইবির তদন্তাধীন রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

বসুন্ধরা বিটুমিন

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT