কাউনিয়া থানায় ১৪ ঘন্টা আটকে ব্যবসায়ীকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন কাউনিয়া থানায় ১৪ ঘন্টা আটকে ব্যবসায়ীকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন - ajkerparibartan.com
কাউনিয়া থানায় ১৪ ঘন্টা আটকে ব্যবসায়ীকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন

3:04 pm , October 12, 2021

জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের পক্ষাবলম্বন করে নগরীর ইলেক্ট্রিক ব্যবসায়ীকে বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানায় ১৪ ঘন্টা আটকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। এ সময় তাকে খাবার পর্যন্ত দেয়া হয়নি। অভিযোগকারী হচ্ছেন নগরীর কাটপট্টি এলাকার ইলেক্ট্রিক মালামাল বিক্রেতা সোহেল খান। তার প্রতিপক্ষ হচ্ছে নগরীর নতুনবাজার এলাকার হলুদ-মরিচ ভাঙ্গানো ব্যবসায়ী গোলাম নবী জগলুল। জগলুলের পক্ষালম্বন করছে ওই থানার ওসি আজিমুল করিমসহ থানার ৮ পুলিশ সদস্য। ঘটনার দিন ওসি এবং পুলিশ সদস্য জিয়াদ, সুশান্ত ও সাইফুল মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে ব্যবসায়ী শাহিনের উপর। সোহেল খান বলেন, ২০২০ সালের জানুয়ারী মাসে নগরীর কাউনিয়া সিলেট ফ্যাক্টরী (২নং ওয়ার্ড) এলাকায় কামাল উদ্দিনের নিকট থেকে ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর ওই জমিতে ৩৫ বছর ধরে থাকা ভাড়াটিয়া মো. শুক্কুর তার অগোচরে টাকার বিনিময়ে জগলুলকে একটি রান্নাঘর তুলে দেয়। এরপর শুক্কুর সেখান থেকে নেমে গেলেও জগলুল কোনভাবে নামছে না। গত দুই বছর ধরে তার জমি আটকে রেখেছে জগলুল। এতেও ক্ষ্যান্ত হয়নি। সে এখন ওই জমিতে খাস জমি রয়েছে দাবি করে তার বিরুদ্ধে ৫টি মিথ্যা মামলা দিয়েছে। সে (সোহেল) বিভিন্নভাবে তাকে বোঝায় সেখানে কোন খাস জমি নেই। সোহেল ক্রয় সূত্রে জমির মালিক। কিন্তু সে (জগলুল) কোনভাবেই তা মানতে নারাজ। কোন উপায়ন্তর না পেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন সোহেল খান। সেখান থেকে সার্ভেয়ার এসে মাপজোক করে এ বছরের ২ ফেব্রুয়ারী প্রতিবেদন দেন ওই জমিতে কোন খাস জমি নেই। ক্রয় সূত্রে জমির মালিক সোহেল খান। আর জগলুল লিজকৃত যে জমি দাবি করছে তা ড্রেন ও সড়কে এবং সোহেলের জমির পূর্ব পাশে কিছু জমি রয়েছে। সোহেলের ক্রয়কৃত জমিতে জগলুলের লিজকৃত কোন জমি নেই। এ রিপোর্ট দেয়ার পরও জগলুল কোনভাবে তা মানছে না। তার লীজকৃত জমি এবং সোহেলের জমির দাগও ভিন্ন। এরপরও সোহেলের জমি দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে জগলুল। এরপর সোহেল তার জমিতে থাকা বাউন্ডারী ওয়ালের দুটি গেটের একটি গেট আটকে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয় জগলুল। জগলুলের পক্ষ নিয়ে গত ৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ৪টি মোটরসাইকেলযোগে ৮ পুলিশ সদস্য গিয়ে সোহেলকে তার জমি থেকে ধরে নিয়ে যায়। এ সময় সোহেলের সাথে তারা এমন আচরন করেন যেন সে বড় ধরনের কোন সন্ত্রাসী। তারা সোহেলের জামার কলার ধরে টানাহ্যাচড়ে কাউনিয়া থানায় নিয়ে যায়। এরপর শুরু হয় ওসি আজিমুল করিমসহ ওই তিন পুলিশ সদস্যের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। সকাল থেকে রাত ১টা পর্যন্ত থানায় আটকে রাখা হয় সোহেলকে। সেখানে নেওয়ার সাথে সাথে ওসি বলেন, ওকে (সোহেল) জেতা রাখছো কেন। এভাবে রাত ১টা পর্যন্ত তার উপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালানো হয়। বাসা থেকে খাবার পাঠানো হলেও তাও খেতে দেয়া হয়নি সোহেলকে। সোহেলের হার্টে রিং পড়ানো। সোহেল বারবার তাদের হাত-পা ধরে কান্নাকাটি করলেও তারা তাদের নির্যাতন আরো বাড়িয়ে দেয়। এ সময় থানায় জগলুলও উপস্থিত ছিল। পুলিশ সদস্যরা বলেন, তোকে মাফ করলে জগলুল করবে। ওর পা ধরে মাফ চা। আর তুই যে গেট বন্ধ করেছিলি তা খুলে দিতে হবে। পরবর্তীতে আমার স্ত্রী আমাকে রক্ষা করতে নিজে গিয়ে সেই গেট ভেঙ্গে খুলে দেয়। ওই দিন রাত ১টায় সোহেলকে থানা থেকে ছাড়া হয়। ছাড়ার পূর্বে সাদা কাগজে তার স্বাক্ষর আদায় করে পুলিশ। এরপর সোহেল বিষয়টি গত ১০ অক্টোবর বিকেলে স্বশরীরে পুলিশ কমিশনারের কাছে গিয়ে অবহিত করেন। এরপর সোহেলের সামনে বসে মোবাইল করেন পুলিশ কমিশনার কাউনিয়া থানার ওসি আজিমুলকে। তাকে পুলিশ কমিশনার নির্দেশ দেন এ বিষয়টি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য। কিন্তু পুলিশ কমিশনার বলে দেয়ার পরও সে তার বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। তবে সোহেল পুলিশ কমিশনারের কাছে কাউনিয়া থানার ওসি ও এসআইদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি জানাতে পারিনি। তবে সেখানে উপস্থিত থাকা পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহীম তার কাছে গত ৯ অক্টোবর যে নির্যাতন চালানো হয় তার সবিস্তারে বলে এক পর্যায়ে কেদে দেন। তিনি তখন তাদের বড় স্যার (পুলিশ কমিশনার) এর কাছে বলার জন্য বলেন। কিন্তু পুলিশ কমিশনারের কাছে গিয়ে তার নিকট ওই কথা বলতে পারেনি সোহেল। সোহেল আরো বলেন, যে দিন পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে আসে ওই দিন জগলুল আমার স্ত্রী হাসিনা বেগমকে বেদম মারধর করে। এরপরও থানা থেকে আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তাদের হয়রানিতে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি। সোহেল খানকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে কাউনিয়া থানার ওসি আজিমুল করিম বলেন, দুই পক্ষকে ডেকে সমঝোতা করে দেয়া হয়েছে। সোহেল খান গেটে তালা দিয়েছিল তা খুলে দিতে বলা হয়। এ সংক্রান্ত সমঝোতা হওয়ার পর উভয় পক্ষ চলে যায়। এখন সোহেল খান মিথ্যা কথা বলছেন। এর উত্তরে সোহেল খান বলেন, আমি কোনো মিথ্যা বলিনি। প্রয়োজন হলে আমার ধর্মগ্রন্থ মাথায় রেখে এবং আমার শিশুপুত্রের মাথায় হাত রেখে ওই সকল কথা অকপটে বলতে পারবো। তাদের নির্যাতনে আমি বলেছিলাম আমাকে দরকার হলে মেরে ফেলুন। কিন্তু এভাবে নির্যাতন চালিয়েন না।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT