শেবামেক হাসপাতালের সিন্ডিকেটকে টাকা না দিলে নড়েনা লাশের গাড়ি ! শেবামেক হাসপাতালের সিন্ডিকেটকে টাকা না দিলে নড়েনা লাশের গাড়ি ! - ajkerparibartan.com
শেবামেক হাসপাতালের সিন্ডিকেটকে টাকা না দিলে নড়েনা লাশের গাড়ি !

3:36 pm , October 6, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবার নামে রোগী ও রোগীদের স্বজনদের জিম্মি করে টাকা আদায় করছে অবৈধ এম্বুলেন্স সার্ভিস। ভুক্তভোগীরা জানান, রোগী অথবা লাশ পরিবহনকে কেন্দ্র করে শেবামেক হাসপাতালে নির্দিষ্ট দশ থেকে বারো জনের সংগঠিত এ্যাম্বুলেন্স চক্র গড়ে উঠেছে। স্বজনরা লাশ নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার আগেই এ্যাম্বুলেন্স চক্রটি বিশেষ এক ধরনের অঙ্গভঙ্গি নিয়ে জোর করে রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে। টাকা না দিলে অ্যাম্বুলেন্স যেতে দেয় না এ্যাম্বুলেন্স চক্রের সদস্যরা। জানা গেছে, শেবামেক হাসপাতালে রোগী ও লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স থেকে জোর করে চাঁদা আদায় করাসহ দূর দুরান্ত থেকে আসা রোগীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, রোগী অথবা লাশ পরিবহনকে কেন্দ্র করে শেবামেক হাসপাতালে নির্দিষ্ট দশ থেকে বারোজনের সংগঠিত এ্যাম্বুলেন্স চক্র গড়ে উঠেছে। এরা নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলেছে। লক্কর-ঝক্কর পুরানো মাইক্রোবাসকে জোড়াতালি দিয়ে এম্বুলেন্স বানানো এসব গাড়ি মাঝে মধ্যেই গন্তব্যে পৌছতে রোগীর স্বজনদের রাস্তায় ঠেলতে হয়। জোর যার মুল্লুক তার এই নীতিতে বিশ্বাসী এম্বুলেন্স চালকরা রোগীদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করলেও প্রশাসনের তেমন কোন নজরদারী নেই। হাসপাতালের সামনে চলাচলকারী বেশিরভাগ এম্বুলেন্সের লাইসেন্স তো দুরের কথা কোন কাগজপত্রই নেই। মাসিক নির্দিষ্ট পরিমান টাকা দিয়ে পুলিশ প্রশাসনের এক শ্রেণীর কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে শেবাচিম হাসপাতালের সামনে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে এই এম্বুলেন্স চক্র। এসব চালকদের অনেকেই মাকদাশক্ত। এ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে বসেই প্রকাশ্যে মাদক সেবন নিত্যনৈমেত্তিক ব্যাপার।
শেবামেক হাসপাতালকে ঘিরে রয়েছে ১০০ থেকে ১৭০টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স। এর মধ্যে ১০০টিরও বেশী গাড়ির ফিটনেস এবং বৈধ কোন কাগজপত্র নেই। শুধু গাড়ির বডিতে অ্যাম্বুলেন্স এবং ছাদে একটি সাইরেন লাগিয়ে এসব ফিটনেসবিহীন গাড়িকে অ্যাম্বুলেন্সে রুপান্তর করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অধিকাংশ পরিত্যাক্ত মাইক্রোবাস গাড়ি।
আর লক্কর-ঝক্কর এসব এ্যাম্বুলেন্সে রোগীরা আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছে। প্রশাসনের নিরবতায় সিন্ডিকেট করে বছরের পর বছর অবৈধভাবে এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা চালিয়ে আসছে একটি চক্র। এজন্য ট্রাফিক বিভাগের কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা, কথিত সাংবাদিক ও স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করা হচ্ছে মাসিক চাদার বিনিময়ে। হাসপাতাল চত্ত্বরের জরুরী বিভাগ থেকে প্রধান গেট পর্যন্ত দেড় শতাধিক এ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে। কোন প্রকার রেজিষ্ট্রেশনবিহীন দক্ষিণবঙ্গ বেসরকারী এ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি নামের একটি সংগঠন করেছে এখানকার মালিক ও চালকরা। প্রতি এ্যাম্বুলেন্স থেকে দৈনিক নির্দিষ্ট হারে চাঁদা উত্তোলন করে পুলিশ, কথিত সাংবাদিক, মেডিকেলের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করা হচ্ছে। প্রতি ট্রিপে কমিশনের বিনিময়ে এ কাজে সহায়তা করছে মেডিকেলের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীরাও। ব্যবহার অনুপযোগী ও পরিত্যক্ত মাইক্রোবাস মেরামত করে এ্যাম্বুলেন্স তৈরী করা হয়েছে। শুধুমাত্র রং আর ভিতরে একটি সিট সর্বস্ব এ সকল এ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার, ফার্ষ্ট এইড বক্স, ষ্ট্রেচার, জরুরী দ্রুত পরিবহনের সাইরেন ও সিগনাল বাতি নেই। কোন কোন এ্যাম্বুলেন্সে অক্সিজেন সিলিন্ডার থাকলেও তাতে অক্সিজেন কিংবা মাস্ক পর্যন্ত নেই। এছাড়া কোন গাড়িতেই নেই অতিরিক্ত চাকা । এসব কিছুই সমিতির সভাপতি শাহাদাত হোসেন ও সেক্রেটারী মোঃ রবিন পুলিশ-সাংবাদিকদের ম্যানেজের মাধ্যমে করে থাকেন।
কথিত দক্ষিণবঙ্গ বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি শাহাদত হোসেন বলেন, ঢাকা থেকে বরিশালে আসতে একটি লাইফ সাপোর্টের এ্যাম্বুলেন্সকে এ্যাডভান্স ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়। এতে করে রোগী আসুক আর না আসুক। আমাদের গাড়িগুলোর সব কাগজপত্র ঠিক আছে। অন্যদিকে কথিত দক্ষিণবঙ্গ বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সেক্রেটারী মোঃ রবিন বলেন, রোগীতো আমাদের গাড়িতে যায় ঠ্যাকায় পড়ে। কারন আইসিউ গাড়ি ভাড়া নেওয়া ব্যয়বহুল। আইসিউ গাড়ির সংখ্যা একেবারেই কম। আমাদের গাড়িগুলোতে রোগী বহনে খরচ কম।
এদিকে উপ পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) তানভীর আহমেদ বলেন, ‘আমরা কোন একটি প্রতিষ্ঠান কিংবা চত্ত্বরে প্রবেশ করে অভিযান পরিচালনা করতে পারি না। কারন এটা দৃষ্টিকটু দেখায়। তবে রাস্তায় বেড়োলে অবশ্যই গাড়িগুলোকে মামলা অথবা জব্দ করা হয়’।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT