সাগরে ২০ ঘন্টার লড়াই শেষে ঘরে ফিরেছেন নিখোঁজ ১৮ জেলে সাগরে ২০ ঘন্টার লড়াই শেষে ঘরে ফিরেছেন নিখোঁজ ১৮ জেলে - ajkerparibartan.com
সাগরে ২০ ঘন্টার লড়াই শেষে ঘরে ফিরেছেন নিখোঁজ ১৮ জেলে

3:05 pm , September 30, 2021

চরফ্যাশন প্রতিবেদক ॥ জীবন-মৃত্যুর মধ্যে লড়াই। নিয়তির খেলায় এই লড়াইয়ে জীবনের জয় হলেও মিলেছে কিছু তিক্ত ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। মঙ্গলবার বঙ্গোপসাগরের গ্রাফিরচর এলাকায় তলাফেটে চরফ্যাশনের মাইন উদ্দিন ঘাটের এফবি জননী-২ নামের মাছধরা ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার পর ২০ ঘন্টা সাগরে ভেসে বেচেঁ থাকা ১৮ জেলে বুধবার মধ্যরাতের পর বাড়ি ফিরেছেন। নিখোঁজ জেলেদের ঘরে ফেরার সংবাদ পেয়ে উৎসুক মানুষ এক নজর দেখতে জেলেদের বাড়ি ও হাসপাতালে ভীর করেছে। বাড়ি ফেরার পর অসুস্থ ৭ জেলেকে চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সব জেলে কমবেশী অসুস্থ হলেও বেশীরভাগ জেলে চিকিৎসা নিচ্ছেন স্থানীয়ভাবে। এফবি জননী-২ ট্রলারের জেলে মোসলেউদ্দিন মিজি জানান, মঙ্গলবার দুপুর থেকে ঘটনার শুরু। সাগর অপ্রত্যাশিত রকম উত্তাল ছিল। ঢেউয়ের তোপে দিকবিদিক দশা। ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারের সামনের মামÍুল ভেঙ্গে সাগরে পড়ে যায়। ফেটে যায় তলা। তলা ফেটে পানি উঠতে থাকে। অবস্থা বেগতি দেখে সোয়া কোটি টাকার ট্রলার বাচাঁতে মরিয়া চেষ্টা করে ১৮ জেলের সবাই। ট্রলার থেকে পানি অপসারণ করতে পাস্প চালু করা হয়। পাশাপাশি ট্রলারে থাকা নানান উপকরণ দিয়ে পানি সেচে লেগে যায় সব জেলে। প্রায় ৪ ঘন্টা চেষ্টার পর ট্রলারের ভাগ্য নিয়ে জেলেরা হতাশ হয়ে যান। ধীরে ধীরে অথৈ সাগরে ট্রলারটি ডুবতে থাকে।
এদিকে ট্রলারের ১৮ জেলে এবার নিজেদের জীবন বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে উঠেন। ট্রলারে থাকা ১২টি বয়া এবং জালের সাথে থাকা কিছু প্লুট বেধেঁ বয়া তৈরী করে নেন। জালের মোটা দড়ি কেটে ১৮ জেলের সবাই এক দড়িতে নিজেদের বেধেঁ নেন। ধীরে ধীরে ট্রলারটি অথৈ পানিতে ডুবে যায়। ডুবন্ত ট্রলারের উপর থেকে এক দড়িতে বাধাঁ ১৮ জেলে সাগরের ঢেউয়ে ভেসে যান। মঙ্গলবার বিকেল ঠিক ৪টায় জেলেরা সাগরে ভাসতে শুরু করেন। জীবন-মরন একই সাথে । বাচঁলেও এক সাথে, মরলেও-এই অঙ্গীকার করে সবাই সাগরে ভাসতে শুরু করেন। দিন শেষ রাত আসে। সগারের ঢেউয়ের একই দড়িতে বাধাঁ ১৮ জেলেকে নিয়ে যাচ্ছে অজানা দূর গন্তব্যে। মোসলেম উদ্দিন বলেন, রাতের অন্ধকারে দূর বহু দূরে একটি আলোর চিহ্ন চোখে পড়ে। সেটা ছিল মংলাবন্দরের আলো। এই আলোর দিকে চেয়ে চেয়ে ভাসতে ভাসতে রাত শেষ হয়। দিন আসে। বুধবার। আশাপাশ দিয়ে ২/৪টা ট্রলার আপন গতিতে ছুটে যেতে দেখা যায়। ওই সব ট্রলারের উদ্দেশ্যে জীবন বাচাঁনোর জন্য আকুতি জানানো হয়। কিন্ত কেউ দেখেনি। আর কেউ কেউ দেখেও বাচাঁনোর প্রয়োজন মনে করেনি। প্রায় ৫৫ বছর বয়সী জেলে হাবিবুল্লাহ মিজি অক্ষেপ করে বলেন, সাগরে বিপদগ্রস্ত ভাসমান জেলেদের উদ্ধার না করে কোন জেলেট্রলার পাশ কাটিয়ে চলে যেতে পারে তা আগে কখনো শুনিনি,দেখিনি। নিজে দূর্ঘটনায় না পড়লে হয়তো এটা বিশ্বাসও করতাম না। হাবিবুল্লাহ জানান, ট্রলার ডুবে যাওয়ার ২০ ঘন্টা পর বুধবার দুপুর ১২টা। এক দড়িতে বাধাঁ ১৮ জেলে ভাসছিলেন গভীর সাগরে। অবস্থান ছিল চর মোন্তাজের সোনার চর থেকে ট্রলার চালিয়ে ৫ ঘন্টার পথ সাগরের গভীরে। ভাসমান জেলেদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন মাঝারী আকারের একটি ট্রলার। ট্রলার মাঝি ছিলেন মনপুরার কলাতলী ঘাটের নিরব মাঝি। এই নিরব মাঝির ট্রলারের জেলেরা ভাসমান জেলেদের উদ্ধার করে নিজেদের ট্রলারে তুলে নেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার দিয়ে ১৮ জেলের জীবন বাচাঁন।
পরবর্তীতে এফবি জননী-২ দূর্ঘটার পর মাইন উদ্দিন ঘাট থেকে উদ্ধার অভিযানে যাওয়া এফবি জননী-১ ট্রলারটি উদ্ধারকৃত জেলেদের নিয়ে বুধবার রাতে ঘাটে ফিরে আসেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT