অনিশ্চয়তার কবলে ফরিদপুর-বরিশাল-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কের চার লেনে উন্নীত করন প্রকল্প অনিশ্চয়তার কবলে ফরিদপুর-বরিশাল-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কের চার লেনে উন্নীত করন প্রকল্প - ajkerparibartan.com
অনিশ্চয়তার কবলে ফরিদপুর-বরিশাল-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কের চার লেনে উন্নীত করন প্রকল্প

2:47 pm , September 26, 2021

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ ফরিদপুর-বরিশাল-পায়রা বন্দর-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কের ৪ লেন-এ উন্নীত করন প্রকল্পটি নতুন জটিলতায় অনিশ্চয়তার কবলে পড়তে যাচ্ছে। বিগত প্রায় দেড় যুগ ধরে আশা-নিরাশার দোলাচলে ঘুরপাক খাচ্ছে প্রকল্পটি। এ লক্ষ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ‘টেকনিক্যাল এসিস্ট্যান্স ফর সাব-রিজিওনাল রোড ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট প্রীপারেটরি ফেসিলিটিজ’এর আওতায় সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রাথমিক নকশা প্রনয়ন সম্পন্ন হলেও বিদ্যমান মহাসড়কটি ৪ লেন-এ উন্নীত হবে, নাকি সম্পূর্ণ নতুন মহাসড়ক নির্মিত হবে, তা নিয়ে জটিলতা তৈরী হয়েছে। বিশাল ব্যয়বহুল এ প্রকল্পে অর্থের সংস্থান না হওয়ায় বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অনিশ্চতার মধ্যেই নতুন জটিলতা পুরো বিষয়টিকে বিলম্বের দিকে ঠেলে দিতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল মহল। তবে দেশীয় তহবিলে ফরিদপুর থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রায় ২৩২ কিলোমিটার বিদ্যমান মহাসড়কটি ৪ লেনে উন্নত করার লক্ষ্যে জমি হুকুম দখলে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার একটি ভিন্ন প্রকল্প একনেক অনুমোদন দিয়েছে ২০১৮’এর ফেব্রুয়ারীতে। ফরিদপুর থেকে বরিশালÑপটুয়াখালী হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কের বিদ্যমান ভুমির দু পাশে অতিরিক্ত প্রায় ৩০২ হেক্টর জমি অধিগ্রহন করার কথা ঐ অর্থে। ২০২০-এর জুনের মধ্যে এ ভুমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়া শেষ করার কথা থাকলেও এখনো তার ২৫ ভাগ কাজও শেষ হয়নি।
এরই মধ্যে বিদ্যমান ২৪ ফুট প্রশস্থ এ মহাসড়কের জন্য বাড়তি কোন ভুমি অধিগ্রহন না করে বিদ্যমান মহাসড়কটির জন্য ১২০ ফুট প্রশস্থ জমিতেই যতটা সম্ভব সড়কের ক্যারেজ ওয়ে প্রশস্থ করার পাশাপাশি তার মান উন্নয়ন করার প্রস্তাব দিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ৪ লেন মহাসড়ক নির্মনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বিদ্যমান মহাসড়কটি ৪ লেনে উন্নীত করনে প্রস্তাবিত ব্যয়ের প্রায় ৪০ ভাগ অর্থ সাশ্রয় হবে বলে মনে করছে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহল।
তবে নতুন এ ধারনার বিষয়ে এখনো কোন নেতিবাচক মনোভাব দেখায়নি সড়ক ও সেতু মন্ত্রনালয় সহ পরিকল্পনা কমিশনও।
ফরিদপুর থেকে বরিশাল পর্যন্ত ১২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের ৮ নম্বর জাতীয় মহাসড়কটি ৪ লেনে উন্নীতকরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয় ২০০২ সালের দিকে। ২০১২ সালে দেশের তৃতীয় পায়রা সমুদ্র বন্দর স্থাপনের কাজ শুরুর পরে পায়রা ও কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কটিও চার লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। মহাসড়কটি কুয়াকাটা পর্যন্ত ৪ লেনে উন্নীত করলে পায়রা বন্দর সহ পর্যটন কেন্দ্রটির সড়ক যোগাযোগ নির্বিঘœ করনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন বন্দর ব্যবহারকারী ও পর্যটক সহ ভ্রমন পরিচালন সংশ্লিষ্টগন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সড়ক অধিদপ্তরের একাধিক সূত্রের মতে ফরিদপুরÑবরিশালÑপটুয়াখালীÑকুয়াকাটা মহাসড়কটি ৪ লেনে উন্নীত করনের পদক্ষেপ খুব জোড়ালভাবে এগুচ্ছে না। ঢাকাÑসিলেট মহাসড়ক সহ আরো কয়েকটি মহাসড়কের সাথে দক্ষিণাঞ্চলের সর্বাধিক জনগুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করনে সরকারের সর্বোচ্চ মহলের আগ্রহ থাকলেও বাস্তব অগ্রগতি আশা ব্যঞ্জক নয় বলে মনে করছেন দক্ষিণাঞ্চলের সাধারন মানুষও। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে সবগুলো প্রকল্পেরই সম্ভাব্যতা সমিক্ষা ও বিস্তারিত নকশা প্রনয়ন সম্পন্ন হলেও অন্য কয়েকটি মহাসড়ক প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হলেও দেশর ৮ নম্বর জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্পটির অর্থায়নে সড়ক ও সেতু মন্ত্রনালয় সহ পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন কবে মিলবে তাও অনিশ্চয়তার আবর্তে। এরই মধ্যে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার ব্যয়বহুল এ প্রকল্পটির নকশা নিয়েই জটিলতা তৈরী হয়েছে। বিশাল ব্যয়বহুল এ প্রকল্প বৈদেশিক ঋন বা অনুদান ছাড়া বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টগন। যেহেতু এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক প্রকল্পটির সমিক্ষা ও নকশা প্রনয়নে অর্থায়ন করেছে, সেহেতু মূল প্রকল্প বাস্তবায়নেও সেখান থেকে অর্থ সহায়তার আশা করছেন কর্তৃপক্ষ।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি দায়িত্বশীল মহলের মতে, বিদ্যমান মহাসড়কটি লেনে উন্নীতকরন না নতুন ৪ লেন মহাসড়ক নির্মান, এক্ষেত্রে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহন জরুরী। এক্ষেত্রে যতো কালক্ষেপন হবে, ততই এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হবে বলেও মনে করছেন মহলটি। সরকার ফরিদপুর থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত ২৩২ কিলোমিটার মহাসড়কই ৪ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা সহ এর সম্ভাব্যতা সমিক্ষা, প্রাথমিক নকশা প্রনয়ন সম্পন্ন করে জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিন্তু প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা লাভ সহ নানা কারণ বিবেচনায় প্রথম পর্যায়ে ফরিদপুর থেকে বরিশাল পর্যন্ত ১২৪ কিলোমিটার ও দ্বিতীয় পর্যায়ে পায়রা ও কুয়াকাটা মহাসড়কটিও একইভাবে উন্নয়নের সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু নকশার জটিলতা নিরসন সহ অর্থ সংস্থান করে কবে নাগাদ সারা দেশের সাথে সমগ্র দক্ষিনাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ রক্ষাকারী এ মহাসড়কটি চার লেনে উন্নয়নের কাজ শুরু হবে তা বলতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষও।

এই বিভাগের আরও খবর

বসুন্ধরা বিটুমিন

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT