স্কুল-কলেজে নিয়ম মানলেও আসা-যাওয়ার পথে বেপরোয়া শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে নিয়ম মানলেও আসা-যাওয়ার পথে বেপরোয়া শিক্ষার্থীরা - ajkerparibartan.com
স্কুল-কলেজে নিয়ম মানলেও আসা-যাওয়ার পথে বেপরোয়া শিক্ষার্থীরা

2:45 pm , September 26, 2021

জুবায়ের হোসেন ॥ করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি এড়াতে টানা ১৭ মাস বন্ধের পর খুলেছে বিদ্যালয়। দেশের সব থেকে মূল্যবান শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য নিয়ে কোন ধরনের ঝুঁকি নেয়নি সরকার। এতদিনের বন্ধে শিক্ষা ব্যবস্থা নড়বরে হওয়ার উপক্রম হলেও বিদ্যালয় খুলে শিক্ষার্থীরা সংক্রমিত হতে পারে এমন শংকায় বন্ধ রাখা হয়েছিল। অবশেষে কঠোর নিয়মকানুন পালনের মাধ্যমে ১২ সেপ্টেম্বর খোলা হয়েছে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে চলছে শ্রেনীকক্ষে পাঠদান। তবে বিদ্যালয় কম্পাউন্ডে নিয়ম মানলেও শিক্ষার্থীরা বেসামাল হয়ে পড়ছে পথে ঘাটে। স্বাস্থ্যবিধি মানাতো দুরের কথা, নূন্যতম সতর্কতাও অবলম্বন করে না তারা। বিদ্যালয় আসা যাওয়ার পথে তারা চলছে নিজের মতো করে। অনেকে ফাঁকি দিয়ে বেড়াচ্ছে বন্ধুদের সাথে। ঘুরতে যাচ্ছে নগরীর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলোতে। কেউ কেউ পরিনত হচ্ছে স্কুল কলেজের ইউনিফর্ম পড়ে প্রেমিক যুগলে। আবার কেউ কেউ হচ্ছে টিকটক বা লাইকির মডেল। এমন চলাফেরায় বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই তাদের। কারন জানতে চাইলে বলে এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা অভিভাবক কাউকেই তোয়াক্কা করার মনোভাব নেই তাদের। তবে এমন চলাফেরায় করোনার প্রভাব থেকে কতোটা নিরাপদ তারা এমন প্রশ্নের জবাব ছিল না তাদের কারোরই। এই পরিস্থিতিকে মুলত অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবের ফল হিসেবে দেখছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কড়ায় গন্ডায় নিয়ম মানানোর পরেও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের বাইরের এই আচরনের জন্য অভিভাবকদের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন।

এ বিষয়ে এখন প্রশাসন ও সমাজের সচেতন শ্রেনীকে এগিয়ে আসার আহবানের সাথে অভিভাবকদের সন্তানের গতিবিধির ওপর আরও নজর বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। অন্যদিকে এক প্রকার অসহায়ত্ব প্রকাশ করে অভিভাবকরা চেয়েছেন প্রশাসনের সহায়তা। তারা বলেন, সব সময় জীবিকার তাগিদে সন্তানের উপর শতভাগ সময় দেয়া সম্ভব হয় না তাদের। তাই বয়সের ভুলে সন্তানরা কিছুটা ফাকিবাজি করে থাকে। তাদের পাকরাও করে অবহিত করলে সমস্যা সমাধান অভিভাবকদের জন্য অনেকটাই সহজ হবে। একই সাথে স্কুল কলেজের ইউনিফর্মে কোন শিক্ষার্থীর বেপরোয়া চলাফেরার উপর কড়া নজরদারীর আহবান জানান তারা।
গতকাল নগরীর ত্রিশ গোডাউন, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, স্বাধীনতা পার্ক, বঙ্গবন্ধু উদ্যান, কাঞ্চন পার্ক ঘুরে দেখা গেছে, ইউনিফর্ম পরিহিত শিক্ষার্থীদের আনন্দ উল্লাসের চিত্র। দলবদ্ধ হয়ে ছবি তোলা, নৌকা ভ্রমন, স্ট্রিট ফুডের স্বাদ নেয়া, ভিন্ন আঙ্গিকে জন্মদিন পালন, প্রকাশ্য প্রেম নিবেদন ও তার ভিডিও চিত্র ধারনের মত নানা কাজে ব্যস্ত দেখা গেছে তাদের। এই সংখ্যায় ছাত্র কম ছাত্রী ছিল বেশি। ইউনিফর্ম দেখে পরিচয় জানতে চাইলে আলতাফ মেমোরিয়াল, এ আর এস বালিকা মাধ্যমিক, নুরিয়া মাধ্যমিক, অমৃত লাল দে কলেজ, হাতেম আলী কলেজ, আলেকান্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহ নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় নিশ্চিত করেছে তারা। কেউ জানিয়েছে ছুটির পরে ঘুরতে এসেছে, কেউবা জানায় বিদ্যালয় না গিয়েই ঘুরছেন। তবে তাদের কারোরই ছিলনা স্বাস্থ্যবিধির কোন বালাই। কেউ কেউ মাস্ক পড়লেও তা ছিল না যথাযথ। করোনা তাদের ধরবে না এমন উদ্ভট যুক্তি দিয়ে কেউ কেউ তর্কে জড়ালেও অনেকে বলেছে এভাবে চলাফেরা তাদের ঠিক হয়নি। বর্তমানে বিদ্যালয়ের নতুন রুটিন অনেক অভিভাবকই বুঝে ওঠেননি। তাই এর সুযোগে যেমন তেমন চলাফেরায় সমস্যা হচ্ছে না। এছাড়া ইতিমধ্যেই বিদ্যালয়ের বাইরে ছুটির পরে কোচিং বা টিউশন শুরু করেছে অনেক শিক্ষার্থী। যে বাহানায় কোচিং বা টিউশন ফাকি দিয়ে বন্ধু বা অনেক কাছের বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে বেড়াতে তেমন একটা চাপ নিতে হচ্ছে না। তবে অনেক শিক্ষার্থী জানায় দীর্ঘদিন ঘরে বন্দি ছিল তারা। অনেকের সাথে দেখা হয়েছে প্রায় দেড় বছর পরে। বেশ কিছু অনুষ্ঠান উদযাপন করতে পারেনি করোনার কারনে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর কিছুটা রিফ্রেসমেন্ট এর জন্য বেড়াচ্ছেন তারা। স্বাস্থ্যবিধি মানা জরুরি এবং তা মানার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে। তবে নিজেদের বেপরোয়া চলাফেরা ঠিক নয় বলে একমত পোষন করেছে কিছু শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে এমন অবস্থায় সমাজের সচেতন শ্রেনী প্রকাশ করেছে হতাশা। তাদের কথায় শিক্ষার্থীরা শ্রেনীকক্ষে সচেতন থাকছে, কিন্তু বাইরে তারা মানছে না কিছু। এতে আসলে কতটা লাভ হচ্ছে তা তাদের বোধগম্য নয়। এই পরিস্থিতি সামাল দেয়া খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। তা না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ সচেতনতা অবলম্বন পুরোটাই অনর্থক হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সমাজ, অভিভাবক, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের সমন্বয় করে কাজ করা অতি জরুরি বলে মনে করেন সমাজের সচেতন নাগরিকরা। কারন কিশোর তরুন শিক্ষার্থীদের এই বয়সটায় আসলে তারা নিজেদের ভালো ততটা বুঝতে পারে না। এজন্য তাদের নিয়ন্ত্রনে আনা জরুরি তবে তা অবশ্যই বুঝিয়ে ও ভালোবাসার সাথে।
এ বিষয়ে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পাপিয়া জেসমিন বলেন, বিদ্যালয়ে শতভাগ নিয়ম মানানোর পর যদি কোন শিক্ষার্থী আসা যাওয়ার পথে বেপরোয়া হয়ে পড়ে, তবে তা অবশ্যই অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিদিন শিক্ষার্থী এমনকি জুম মিটিং করে অভিভাবকদের সচেতন করা হচ্ছে। তার পরেও এমন হওয়াটা দু:খজনক। এজন্য তিনি অভিভাকদের আরও সচেতন হওয়ার তাগিদ দেন। একই সাথে সমাজের সচেতন শ্রেনীকে এগিয়ে আসার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, যদি বিদ্যালয়ের সময়সুচির আগে পরে দর্শনীয় স্থানগুলো সহ সড়কে শিক্ষার্থীরা ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় বেপরোয়া আচরন করে। তবে তাদের ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম জেনে অভিভাবক বা প্রতিষ্ঠানে অবহিত করতে হবে। তাদের বুঝানোর পরামর্শ দেন এই শিক্ষক। এছাড়া প্রশাসনকে নমনীয়তার সাথে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়তা করার আহবান জানান। তিনি বলেন, এই বয়সে ভালে মন্দ বোঝার ক্ষমতা অনেকটাই কম এই শিক্ষার্থীদের। তাই এদের নমনীয়তার সাথে আগলে রাখতে হবে। এজন্য অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সচেতন সমাজ এবং প্রশাসনের সমন্বয় করে কাজ করতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

বসুন্ধরা বিটুমিন

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT