ভিমরুলীর ভাসমান পেয়ারার হাট প্রাণ চঞ্চল ভিমরুলীর ভাসমান পেয়ারার হাট প্রাণ চঞ্চল - ajkerparibartan.com
ভিমরুলীর ভাসমান পেয়ারার হাট প্রাণ চঞ্চল

3:04 pm , September 12, 2021

ভাল দাম পেয়ে খুশি কৃষকরা

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ ঝালকাঠি-পিরোজপুর সীমান্তে ‘প্রাচ্যের ভেনিস’ খ্যাত ভিমরুলী’র ভাসমান হাটে এবার ভাল দাম পেয়ে গত বছরের করোনা সংকটের ক্ষতি অনেকটাই কাটিয়ে নিতে পারছেন আটঘর-কুড়িআনা’র পেয়ারা কৃষকরা। তবে বাজার মূল্য গত বছরে চেয়ে ভাল হলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি এবারো কিছুটা কম ছিল। যা মাঝে মধ্যেই উৎপাদকদের দু.শ্চিন্তার মাত্রা বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি এবারো ভিমরুলীতে দেশের বিভিন্ন এলাকার পর্যটকদের পদচারনা সীমিতই রয়েছে। ফলে এ কৃষিপণ্যের সাথে গড়ে ওঠা পর্যটন খাতে জড়িতরা এবারো খুব ভাল করতে পারেননি।
গনমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারনায় গত এক দশক ধরেই সারা দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটক ঝালকাঠির ভিমরুলীর ভাসমান পেয়ারার হাট দেখতে ছুটে আসতেন। এমনকি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদুত এবং বিদায়ী ভারতীয় হাই কমিশনারও ২০১৯ সালে ভিমরুলী’র ভাসমান পেয়ারার হাট সরেজমিনে দেখে যথেষ্ট উচ্ছাসিত হয়েছিলেন। আটঘরÑকুড়িআনা এলাকার ‘মুকুন্দপুরী’, ‘লতা’ ও ‘পুর্নম-ল’ জাতের পেয়ারা মিষ্টি ও অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। শ্রাবণÑভাদ্র থেকে আশি^নের মধ্যভাগ ঝালকাঠির ব্রান্ডিং পণ্য পেয়ারার ভরা মৌসুম। ঝালকাঠী ও পিরোজপুরের আটঘর, শতদশকাঠি, কাফুরকাঠি, ভীমরুলি, জিন্দাকাঠি, ডুমরিয়া, খাজুরিয়া, বাউকাঠি, বেতরা, হিমানন্দকাঠি, পোষন্ডা, রমজানকাঠি, সাওরাকাঠি ও কাঁচাবালিয়া গ্রামে প্রতিবছরই প্রায় ১০ হাজার টন পেয়ারা উৎপাদন হচ্ছে।
প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের আটঘর-কুড়িআনা এলাকার প্রায় এক হাজার হেক্টরের বিশাল বাগান থেকে ভিমরুলীর ভাসমান হাটে পেয়ারা’র বিপনন ইতোমধ্যে একটি ভাল বাজার তৈরী করেছে। পুরো মৌসুম জুড়ে নিজস্ব বাজার ব্যবস্থাপনায় ভিমরুলীর ভাসমান হাট থাকে মুখরিত। মৌসুম যুড়ে বিভিন্ন ধরনে দেশী নৌকায় চাষিরা এ ভাসমান হাটে পেয়ারা নিয়ে এসে তা বিক্রি করছেন। গত বছর করোনা মহামারী সংকটে ভিমরুলীর হাটে যেখানে চাষীরা ১৫ টাকায়ও এক কেজি পেয়ারা বিক্রি করতে পারেন নি, এবার সেখানে মূল মৌসুমে ৩০ টাকা এবং মৌসুমের শেষ প্রান্তে এখন ৪০ টাকায়ও বিক্রি করতে পারছেন। তবে প্রকৃত উৎপাদকগন পাচ্ছেন প্রতি কেজিতে ৫Ñ১০ টাকা কম।
করোনা মহামারীর কারণে গত বছর বাইরের পাইকাররা পেয়ারার বাগান কেনার ঝুকি নেননি। ক্রেতা বিক্রেতা সবার মধ্যেই এক ধরনের আতংক কাজ করলেও এবার পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। সারা দেশ থেকেই পাইকাররা ছুটে এসেছেন ভিমরুলির ভাসমান বাজারে। তাই উৎপাদকরাও গত বছরের চেয়ে অনেকটাই ভাল দাম পেয়েছেন।
সারা দেশের পাইকাররা ভিমরুলীর ভাসমান হাট থেকে পেয়ারা কিনে সড়ক ও নৌ-পথে নিজ নিজ মোকামে নিয়ে বিক্রি করছেন। গত প্রায় তিনমাস ধরে ভীমরুলী ও আটঘরÑকুড়িয়ানার ভাসমান বাজারে পেয়ারা চাষি ও পাইকারদের ভীর লেগে আছে। ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, নোয়াখালী ও ফরিদপুর সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বেপারীরা নৌকা থেকেই পেয়ারা কিনে সড়ক ও নৌ-পথে তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে নিয়ে পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন। প্রতিদিন সকালে ভরপুর এ বাজারে পেয়ারার বেচাকেনা শুরু হয়ে দুপুরের মধ্যেই শুনশান হয়ে যাচ্ছে। ঝালকাঠির ১২টি গ্রামের প্রায় এক হাজার হেক্টর এলাকায় এই অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে শতবর্ষ জুড়ে পেয়ারা চাষ হচ্ছে। প্রতিদিন পেয়ারা চাষিরা খুব ভোরে বাগান থেকে ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় করে ৩-১০ মন করে পেয়ারা ভিমরুলির হাটে নৌকায় বসেই বিক্রি করছেন।
বাজারে দেশী-বিদেশী অনেক উচ্চ ফলনশীল পেয়ারার মধ্যেও স্বাদ ও গন্ধের কারণে সারা দেশেই আটঘর-কুড়িআনার পেয়ারার বিশেষ কদর রয়েছে দীর্র্ঘদিন ধরে। আর এখানের পেয়ারা ইতোমধ্যে ভারতের কোলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তি বিভিন্ন বাজার ছাড়াও ত্রিপুরার আগরতলাতেও অবস্থান করে নিয়েছে।
পিরোজপুর ও ঝালকাঠির বিভিন্ন এলাকায় অপেক্ষাকৃত নিচু জমিতে মাটি কেটে লম্বা ঢিবি তৈরী করে ‘সার্জন’ পদ্ধতিতে পেয়ারার চাষ হয়ে আসছে। তবে গত কয়েক বছর ধরে ‘অ্যানথ্রাকনোজ’ নামে এক ধরনের সংক্রমক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে পেয়ারা বাগান। এতে গাছের পাতা ও ফলে দাগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ রোগ দমনে প্রতি সপ্তাহ ‘কম্পেনিয়ন’ প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম ওষুধ মিশিয়ে স্প্রে করার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষিবিদগন।
তবে দক্ষিণাঞ্চলের এ কৃষি পণ্যের সঠিক বাজার সহ উৎপাদকদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করনে সরকারী পর্যায়ে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন কৃষিবিদগন। দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশ, পেয়ারা, আমড়া সহ আরো কয়েকটি কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানীর লক্ষ্যে এ অঞ্চলে একটি রপ্তানী প্রক্রিয়াকরন অঞ্চল গড়ে তোলার দাবী দীর্ঘদিনের। দেশে আহরিত ৫.৬০ লাখ টন ইলিশের ৬৬%-ই পাওয়া যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদী সহ উপকুলীয় এলাকায়। এক সময়ে ইপিজেড-এর চেয়ারম্যান সহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগন দক্ষিনাঞ্চল ঘুরে ইতিবাচক মতামত দিলেও পরবর্তীতে সব স্থিমিত হয়ে গেছে। এমনকি দক্ষিণাঞ্চলে দুটি ‘একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত এখনো কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT