প্যারারা রোডের হাওলাদার ম্যানশন বোনের ফ্লাট দখলে মরিয়া দুইভাই প্যারারা রোডের হাওলাদার ম্যানশন বোনের ফ্লাট দখলে মরিয়া দুইভাই - ajkerparibartan.com
প্যারারা রোডের হাওলাদার ম্যানশন বোনের ফ্লাট দখলে মরিয়া দুইভাই

2:26 pm , September 7, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর প্যারারা রোডের হাওলাদার ম্যানশনে বোনের ফ্লাটের ভাড়া ও ধার বাবদ সর্বমোট ৩০ লাখ টাকা হজম করে এখন পুরো ফ্লাট দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে আপন দুই ভাই। তাদের অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে মা ও চাচা কথা বলায় তাদেরকে চাকু দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেয়া হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি পুলিশের সাথেও তারা লুকোচরি খেলছে। অভিযুক্তরা হচ্ছে প্যারারা রোডের মৃত মিছির আলী হাওলাদারের দুই ছেলে হাসান মাহমুদ এবং নজরুল ইসলাম বিপ্লব। অভিযোগকারী মিছির আলীর একমাত্র মেয়ে এবং সন্তানদের মধ্যে বড় রোকেয়া বেগম নিরু বলেন, দুই ভাইকে ছোট রেখে ১৯৮০ সালে তার বাবা মারা যান। ওই সময় মাহমুদ ছিল দেড় বছরের এবং বিপ্লবের বয়স ছিল ৬ মাস। বাবার রেখে যাওয়া অর্থ দিয়ে জমি ক্রয়ের জন্য চাচা ইসমাইল হোসেন হাওলাদারকে বলা হয়। তখন চাচা প্যারারা রোডে ৩ শতাংশ জমি ক্রয় করতে তাদের সহযোগিতা করেন। একই সাথে চাচাও একই দাগের ৩ শতাংশ জমি নেন। কিন্তু জমি দুই ভাইয়ের নামে ক্রয় করা তা তারা জানতো না। দলিলকালে মাহমুদের বয়স ছিল ৮ বছর এবং বিপ্লবের ৬ বছর। জমি মালিকানা জানার পর ২০১১ সালে ওই জমি বিক্রির জন্য দুই ভাই মরিয়া হয়ে ওঠে। জমি বিক্রি করলে আমাদের মাথা গোজার ঠাইটুকু শেষ হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী বিপদে পড়বে আমার মা। এ কারনে তাদের প্রয়োজনীয় টাকার জন্য জমির আধাশতাংশ ক্রয়ের প্রস্তাব দেয়। ২ লাখ টাকায় সাবকবলা দলিলমূলে সেখানকার আধাশতাংশ জমি ক্রয় করে। এদিকে মিছির হাওলাদার মারা যাওয়ার পর তার রেখে যাওয়া অর্থ দিয়ে পাচতলা ভবনের ভীত করে একতলা নির্মান করা হয়। দোতলার ছাদ দেয়া ছিল। ওই দোতলার কাজ সম্পন্নে নিরু ভাইদের ৩ লাখ টাকা দেন। এরপর নতুন ফন্দি আটে দুইভাই। তারা জমির পরিবর্তে নিরুকে দোতলার ছাদ লিখে দেয়ার প্রস্তাব দেয়। এমনকি সেখানে ফ্লাট করার পরামর্শ দেয়। লিখিতভাবে ওই ছাদ নেয়ার পর চাচার কাছে টাকা দেন নিরু। চাচা ১০ লাখ টাকা খরচ করে দেড় হাজার বর্গফুট ছাদের উপর ফ্লাট নির্মান করে দেন। ফ্লাট নির্মান করে দেয়ার পর সুচতুর দুই ভাই বোনকে টাকা আয় করার পথ দেখায়। তারা তাদের মাধ্যমে ওই ফ্লাট মাসিক ২৫ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়। এমনকি এককালীন ৪ লাখ টাকা নেয় অভিযুক্ত মাহমুদ ও বিপ্লব। এরপর ধীরে ধীরে তাদের আসল রূপ বের হতে থাকে। মাসের ভাড়া চাইলে তারা ঘুরাতে থাকে। এভাবে গত ছয় বছরের অধিক সময়ে ওই দুই ভাই ভাড়া বাবদই আত্মসাৎ করেছে ২০ লাখ টাকা। এখন তাদের টার্গেট হচ্ছে বোনের পুরো ফ্লাটটি হজম করা। এ জন্য বোন এবং তার স্বামী ও সন্তানদের বাসায়ও আসতে দিচ্ছে না। অপরদিকে তিনতলার পর চার ও পাচতলা করতে দুই ভাই ব্যাংক থেকে ঋণ উত্তোলন করে। চারতলা সম্পন্ন হলেও পাচতলার কাজ শেষ করতে পারেনি। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সালিশীতে সত্যতা পাওয়া গেলেও মাহমুদ ও বিপ্লব তা মানতে নারাজ। কোনভাবে ভাইদের মানাতে না পেরে কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের তদন্তেও সত্যতা পান তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই রুমা বেগম। এরপর দুই ভাইকে একাধিকবার থানায় তলব করা হলেও তারা থানা এড়িয়ে চলছেন। এ কারনে ভাইদের কাছ থেকে ফ্লাট উদ্ধারে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান নিরু। চাচা ইসমাইল হোসেন হাওলাদার ও মা ফিরোজা বেগম ঘটনার সত্যতা স্বিকার করে জানান, দুই ভাইকে নিরুর ফ্লাট বুঝিয়ে দেয়ার জন্য বলা হলেও আমাদের মারতে আসে। এ ব্যাপারে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই রুমা বেগম বলেন, নিরু লিখিতভাবে যে অভিযোগ করেছেন তদন্তে তার সত্যতা মিলেছে। এরপর সালিশীর মাধ্যমে মিমাংসা করার জন্য তাদের থানায় মাহমুদ ও বিপ্লবকে আসতে বললেও তারা আসেননি। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য নজরুল ইসলাম বিপ্লবের মোবাইলে কল দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT