শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠদানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যক্রম শুরু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠদানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যক্রম শুরু - ajkerparibartan.com
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠদানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যক্রম শুরু

3:05 pm , September 5, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেনী কক্ষে পাঠদান শুরু হচ্ছে। প্রায় ১৭ মাস বন্ধ থাকার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাঠদানের উপযোগি করতে কার্যক্রম শুরু করেছে সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় প্রায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কঠোর পরিশ্রম করতে হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘুরে দেখা গেছে প্রায় সিংহভাগের বেহাল অবস্থা। দীর্ঘদিন কার্যক্রম পরিচালনার অভাবে শ্রেনী কক্ষে ও বেঞ্চে জমেছে ধুলার পুরু আস্তরন। কোন কোন বিদ্যালয় দেয়ালে নোনা ধরে খসে পড়েছে প্লাস্টার। বদ্ধ ক্লাসরুমে হয়েছে ব্যাঙ, টিকটিকি এমনকি সাপের আস্তানা। কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৌচাগার পরিত্যক্ত অবস্থায় পৌছে গেছে। খেলার মাঠে বেড়ে উঠেছে বড় বড় ঘাস। ঘুনে ধরেছে আসবাব পত্রে। এমন নানা সমস্যা নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেখা গেছে। এসব সমস্যা এতদিনের বন্ধের সময় তদারকির অভাবেই হয়েছে বলে মনে করেন অভিভাবকরা। তবে প্রতিষ্ঠান র্কতৃপক্ষ তথা শিক্ষকদের ভাষায় এগুলো খুব স্বাভাবিক। প্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশনা আসা মাত্র এসব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। এগুলোকে তুচ্ছ সমস্যা উল্লেখ করে তারা বলেণ, এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে প্রতিটা শিক্ষার্থীর সু-স্বাস্থ্য নিশ্চিত করে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া। শিক্ষা মন্ত্রালয়ের নির্দেশনা মেনে তা তত্ত্বাবধানেও প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা। তবে এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সামনে। বর্তমানে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘রিওপেনিং’ (পুনরায় ক্লাস চালু করা) পরিকল্পনা তৈরি করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এ ছাড়া করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিও এ নিয়ে বেশকিছু সুপারিশ দিয়েছে। এসব নির্দেশনা মেনে প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম শুরুর ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চ্যালেঞ্জগুলো হলো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত রাখা, শিক্ষার্থীদের টিকার (এক ডোজ) আওতায় আনা, শিখন ঘাটতি দূর করা, ঝরে পড়া, স্থানান্তরিত ও স্কুলবিহীন শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনা। মূলত দেড় বছর বন্ধ থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র অনেক কিছুই নষ্ট হয়ে গেছে। ঝোপ ঝাড়ে ছেয়ে গেছে শ্রেণিকক্ষ। বাথরুমসহ ওয়াশ ব্লক নষ্ট হওয়ার পথে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। খোলার পর ধারাবাহিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণও কঠিন। ১০-১৫ শতাংশ শিক্ষক-কর্মচারী এবং ১৮ বছরের বেশি বয়সী বেশির ভাগ শিক্ষার্থী এখনো টিকা পায়নি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে জ্ঞানগত ঘাটতি। অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। তাদের মধ্যে কারও বিয়ে হয়ে গেছে। আবার কেউ অর্থ উপার্জনে কাজে জড়িয়ে গেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করা খুবই কঠিন। তবুও কাজটি করতে হবে এর সঙ্গে জড়িতদের। বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন শিক্ষা কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে করোনা সংক্রমণের নি¤œগতি ধরে রাখা। স্কুলের গেটেই দৈনিক প্রত্যেকের তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থা করতে হবে। যাদের মাস্ক পড়ানোর নিয়ম করা হবে তাদের সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আগের মতো স্কুল চালানো যাবে না। একটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একদিন স্কুলে আনা ও তাদের তিন ভাগে বসানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। বাথরুমসহ গোটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কারের পর প্রস্তুত করা আরেকটি চ্যালেঞ্জ। এটা নিশ্চিতে মাঠ প্রশাসনকে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। এদিকে, ১২ বছরের ওপরের শিশুদেরও প্রয়োজনে করোনার টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এ সকল বিষয়গুলো আমলে নিয়ে পূনরায় শ্রেনীকক্ষে পাঠদান শুরু হলে যুদ্ধ অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করেন অভিভাবকরা। তারা জানান, এতদিন পর সন্তানকে ঝুকি নিয়ে হলেও বিদ্যালয়ে পাঠাতে রাজি রয়েছেন। তবে অবশ্যই সরকারের যথাযত নির্শেদনা থাকা উচিৎ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করনের জন্য সচেষ্ট হতে হবে। এছাড়া নিজেদেরও স্বাস্থ্যবিধি পালনে আরও সজাগ হতে হবে এবং শিক্ষার্থীরা যাতে শতভাগ সুরক্ষিত থাকে তা তদারকির জন্য মনিটরিং সেল গঠন করে নরজদারি করতে হবে।
এ বিষয়ে আব্দুর রব সেরনিয়াবাত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পাপিয়া জেসমিন বলেন, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর নির্দেশনা মোতাবেক ক্লাসে পাঠদান কার্যক্রম শুরুর জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহন করেছেন। এক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার বিষয়টি সর্বপ্রথম বিবেচ্য বলেন তিনি। ক্লাস ও কম্পাউন্ডে নির্দিষ্ট দুরুত্ব বজায় রাখা, ওয়াস ব্লক, তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা, জীবানুনাশক স্প্রে সহ সকল প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। এছাড়া যদি কোন শিক্ষার্থী অসুস্থ বোধ করে তবে তার জন্য আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা সহ একজন শিক্ষক আলাদা রাখা হবে সার্বক্ষনিক সকল শিক্ষার্থীদের তদারকির জন্য। কোন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তার জন্য তাৎক্ষনিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হবে বলে জানান তিনি। সরকারে আরও কিছু নির্দেশনা চুড়ান্ত মিটিং এর পরে পাওয়া গেলে তা মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ বিষয়টি কিছুটা কঠিন হবে, তবে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা জীবনে ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ক্লাসে পাঠদান শুরু করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এই শিক্ষক।
একই বিষয়ে বরিশাল ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, তৃনমূলের শিক্ষক সংগঠন গুলোর সাথে পরামর্শ করে দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাসে পাঠদান শুরু করা দরকার। তা না হলে হঠাৎ করে আসা সিদ্ধান্তগুলো হজম করা কঠিন হয়ে যায়। কারন দীর্ঘ সময় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি একটু কঠিন হয়ে আছে। এর পরেও অবশ্যই সকল নির্দেশনা মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত পাঠদান শুরু করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
উল্লেখ্য করোনাভাইরাসের কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকবার চেষ্টা করেও এই মহামারির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আর খোলা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দ্রুত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন সংশ্লিষ্টরা।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT