হত্যা চেষ্টার শিকার গৃহবধূর ন্যায় বিচার পেতে সংবাদ সম্মেলন হত্যা চেষ্টার শিকার গৃহবধূর ন্যায় বিচার পেতে সংবাদ সম্মেলন - ajkerparibartan.com
হত্যা চেষ্টার শিকার গৃহবধূর ন্যায় বিচার পেতে সংবাদ সম্মেলন

2:57 pm , August 31, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ যৌতুকের দাবীতে হত্যা চেষ্টায় জড়িত স্বামী, শাশুরী, ভাসুর ও জায়ের বিচার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে দুই সন্তানের জননী গৃহবধূ। গতকাল মঙ্গলবার নগরীর ফকির বাড়ী রোডে বাসদ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে গৃহবধূ নাজমুন্নাহার। সে চাঁদপুরা ইউনিয়নের তালুকদারহাট গ্রামের সোহেল রানা মৃধার স্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিতভাবে গৃহবধূ জানায়, ২০০৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর তাদের পারিবারিক বিয়ে হয়। বর্তমানে সাফিন (৯) ও সাফাত(২) নামের দুই সন্তান রয়েছে। তিনি জানান, তার মা ছোট বেলায় মারা গেছে। পক্ষাঘাতগ্রস্থ বাবা ও আত্মীয় স্বজন বিয়ের সময় স্বর্নালংকার ও ফার্নিচার দিয়েছে। এছাড়াও শ্বশুড় বাড়ীতে ভবন নির্মানের সময় এক লাখ টাকা এনে দিয়েছে। তবুও আরো বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য নানাভাবে চাপ দেয়া হতো। টাকা আনতে না পারলে নির্যাতন করতো। ঢাকায় স্বামীর সাথে থেকে একটা স্কুলে শিক্ষকতা করে টাকা এনে দিতেন গৃহবধূ।
তিনি অভিযোগ করেন, স্বামী পরকীয়ায় আসক্ত ছিল ও একাধিক মেয়ের সাথে তার সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে মারধর করা হতো। সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারি মাসে স্বামী তার মা ও ভাইদের পরামর্শে তাকে মারধর করে স্টীলের আলমারি ভেঙে সব স্বর্ণালংকার নিয়ে বাসা থেকে চলে যায়। করোনার কারণে আমার স্কুল বন্ধ থাকায় হাতে টাকা না থাকায় নিরুপায় হয়ে দুই ছেলে নিয়ে ঢাকা থেকে শ^শুরবাড়ি চাঁদপুরা ইউনিয়নের তালুকদারহাট গ্রামে আসেন। শ^শুরবাড়ি আসার পর থেকে তার উপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। এমনকি পরিবারের কারো সাথে দেখা করতে বা কথা বলতে দিত না। সর্বশেষ গত ১০ আগস্ট বিকাল ৪টায় স্বামী, মেজ ভাসুর আতিকুর রহমান জাকির, মাহামুদুল বাদশা, শ^াশুড়ি, সেজ ভাসুরের বউ লায়লাসহ ৫-৬ জন মিলে বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায়ে আমি অজ্ঞান হলে তারা সবাই মিলে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গলায় ফাঁস দিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে বেঁধে ঝুলিয়ে দেয়। এই অবস্থায় আমার বড় ছেলে সাফিন চিৎকার করে লোক ডাকতে থাকে ও বুদ্ধি করে ৯৯৯ এ ফোন দেয়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার করার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বামী ও ভাসুরেরা চেয়েছিল তাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা। আমার সেজ ভাসুর আতিকুর রহমান জাকির বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে পিয়ন পোস্টে চাকরি করে এবং এই চাকরির জোরে তার এলাকায় অনেক প্রভাব রয়েছে। তার ভয়ে আমি আর এলাকায় যেতে সাহস পাই না। নিরুপায় হয়ে আমি গত ১৮ আগস্ট স্বামী সোহেল রানা ও ভাসুর আতিকুর রহমান জাকিরসহ ৫ জনকে আসামী করে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যৌতুক ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। প্রায় ১৫ দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মামলার আসামীরা কেউই গ্রেফতার হয়নি। গৃহবধু আশংকা প্রকাশ করে বলেন, স্বামী ও ভাসুরের প্রভাবে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার পাবেন না। ওই বাড়ীতে থাকা তার বিধবা বোনকে ভাসুর আতিকুর রহমান জাকির হুমকি দিচ্ছে। এতে বোনও অনিরাপত্তায় ভুগছে। ন্যায় বিচার পেতে প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছেন গৃহবধূ নাজমুন্নাহার। সংবাদ সম্মেলনে গৃহবধুর পরিবার ও বাসদ সদস্য সচিব ডা. মনিষা চক্রবর্তিসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT