দুর্নীতিবাজ-স্বেচ্ছাচারি অধ্যক্ষের অপসারণ চায় শিক্ষক পরিষদ দুর্নীতিবাজ-স্বেচ্ছাচারি অধ্যক্ষের অপসারণ চায় শিক্ষক পরিষদ - ajkerparibartan.com
দুর্নীতিবাজ-স্বেচ্ছাচারি অধ্যক্ষের অপসারণ চায় শিক্ষক পরিষদ

3:01 pm , August 30, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ২০১৮ সালে জাতীয়করণকৃত কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এই অধ্যক্ষের হাত থেকে কলেজটিকে রক্ষা করতে ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রলালয়, শিক্ষা অধিদফতর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর এবং জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে কলেজটির শিক্ষক পরিষদের নেতারা। পিরোজপুরের কাউখালী সরকারি মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেখ নজরুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে বিসিএস ক্যাডারের মাধ্যমে অধ্যক্ষ নিয়োগের সুপারিশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরিশাল।
অভিযোগে সূত্রে জানা গেছে, মহাবিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেখ নজরুল ইসলাম ওই প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ এডহক গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তে যে দায়িত্ব পেয়েছেন তাকে সরকারি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম লঙ্ঘন বলে অভিযোগ ওই একই কলেজের শিক্ষক পরিষদের নেতাদের। এছাড়া, তাকে এ পদে দায়িত্ব দেয়ার সময় ৯ জন শিক্ষকের জ্যেষ্ঠতা লংঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে এ পদে আসার পর থেকে তিনি একাডেমিক ও প্রশাসনিক যেসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তা একাডেমিক কাউন্সিলের কোনো সভা ছাড়াই প্রভাব খাটিয়েই করেছেন। এইচএসসি টেস্ট ও একাদশ অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় কোনো কোনো ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করার ক্ষেত্রে সরকারি কাউখালী মহাবিদ্যালয় ও কাউখালী মহাবিদ্যালয় নামে দুইটি পৃথক রশিদ ব্যবহার করে ইচ্ছামতো ব্যয় করেছেন। এভাবে তিনি একই বিষয়ে দু’ভাবে টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করেছেন। সরকারি নিয়মে গেজেট হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া প্রাপ্য পরিশোধের অনুমোদন না থাকলেও তা না দিয়ে নিজের ইচ্ছামতো অর্থ ব্যয় করছেন। পরে তা নিজের পছন্দের কয়েকজন শিক্ষককে ওই ভাতা প্রদান করেছেন। এসব ঘটনার প্রতিবাদে ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি কলেজের শিক্ষক পরিষদ থেকে ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এএইচএম শহীদ সরওয়ার, সংস্কৃত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুদেব হালদার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রভাষক মো. মনিরুজ্জামান এবং ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. মনিরুল ইসলাম নামের চারজন শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন।
এই অধ্যক্ষ যোগদান থেকে নানা ভাবে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। ২০০২ সালের ২৯ জুন তিনি এই কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করলেও তিনি ২০০৩ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত পূর্বের কলেজ সরকারি নলছিটি ডিগ্রি কলেজ থেকে বেতন ভাতাদি উত্তোলন করে আসছিলেন। এ বিষয়ে সরকারি নলছিটি ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ লিখিত ভাবে ইউএনও নলছিটিকে অবহিত করেছেন। দুই কলেজ থেকে বেতন ভাতা উত্তোলন চাকুরি বিধির চরম পরিপন্থী। তথ্য গোপণ করে শেখ নজরুল ইসলাম দুই কলেজ থেকে একই সময় মোট ১৭ মাসের বেতন ভাতা উত্তোলন করেছেন। জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাউখালী মহাবিদ্যালয়ে ২০০৩ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে কারিগরি শাখায় প্রথম এমপিও ভুক্ত হলেও, উক্ত ছকে প্রথম এমপিও দেখান হয়েছে ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল। পরে ২০০৪ সালের ২৮ এপ্রিল নীরিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত পরিদর্শনের প্রতিবেদনে তিনি অতিরিক্ত শিক্ষক হিসেবে বিবেচিত হয়। যার কারণে যোগদানের পর থেকে ২০০৪ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত গৃহীত অর্থ ফেরতযোগ্য বলে বলা হয়। অতিরিক্ত শিক্ষক বিবেচিত হওয়ায় উল্লেখিত ছক মতে তার নিয়োগকালীন বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের প্রশাসনিক অদক্ষতা, স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিরেপেক্ষ ভূমিকার জন্য কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এ মতাবস্থায় শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ন্যয়বিচার নিশ্চিত করার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেন। ২০১৮ সালে শেখ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ক্ষমতা আসার পর থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে অন্য শিক্ষকরা অনিরাপদ বলে মনে করেন। তারা অবৈধ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেখ নজরুল ইসলাম এর অপসারন পূর্বক শিক্ষা ক্যাডার থেকে একজন যোগ্য ও দক্ষ অধ্যক্ষ নিয়োগেরও দাবী জানান। পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন না হলে তারা সকল প্রকার একাডেমিক কর্মবিরতিতে বা এ ধরনের কোন আন্দোলনে যাবার এবং আর্থিক দূর্নীতি ও তার চাকুরির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে জাবারও আভাস দেন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে। যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। শিক্ষক এমপিওভুক্তির জ্যেষ্ঠতা অনুযায়ী আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দুর্নীতি, অনিয়মের কোনো কাজ আমি করিনি, কলেজের নিয়ম অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাওশি তদন্ত করেছে। তদন্তে সব মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। আমিও এ ভাবে এই কলেজে অধ্যক্ষ থাকতে চাই না। আমি মাওশি পরিচালক স্যারকে বলেছি নতুন অধ্যক্ষ দেয়ার জন্য।’ এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘এই কলেজের বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে। সেখানে শিক্ষা ক্যাডার থেকে একজন নতুন অধ্যক্ষ দিলেও সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। নতুন অধ্যক্ষ দেয়ার বিষয়ে আমরা সুপারিশ করেছি।’
জন্মাষ্টমী পালন
নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসব পালিত হয়েছে। করোনা মহামারীর কারনে কোনো র‌্যালী বের না করে সংক্ষিপ্ত পরিসরে মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের পূজা করা হয়। সোমবার সকাল থেকেই নগরীর রাধা শ্যাম সুন্দর মন্দির ও রামকৃষ্ণ মিশনে নানা আয়োজন করা হয়। দিনভর সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে উৎসব পালিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

এই বিভাগের আরও খবর

বসুন্ধরা বিটুমিন

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT