দক্ষিণাঞ্চলে বেড়েছে মালটা’র আবাদ দক্ষিণাঞ্চলে বেড়েছে মালটা’র আবাদ - ajkerparibartan.com
দক্ষিণাঞ্চলে বেড়েছে মালটা’র আবাদ

3:10 pm , August 28, 2021

বিদেশ থেকে আমদানী কমার আশাবাদ কৃষিবিদদের

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বিপুল সম্ভাবনাময় রসালো ফল ‘মালটা’র আবাদ ক্রমশ বাড়ছে। গত কয়েক বছরে বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও পটুয়াখালীর বেশ কিছু এলাকায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এ ফলের আবাদ যথেষ্ট সম্প্রসারন ঘটেছে। পারিবারিক পর্যায়ের বাইরে এখন বানিজ্যিক ভাবেও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্নস্থানে মালটা’র আবাদ হচ্ছে। তবে এ অঞ্চলে ভাল জাত ও মানের মালটা’র কলম বা চারা সরবরাহ এখনো সহজলভ্য নয়। অথচ আমাদের কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট ‘বারি’ ইতোমধ্যে ‘বারি মালটা-১’ ও বারি মালটা-২’ নামের দুটি উন্নতমানের মালটা’র জাত উদ্ভাবন করেছে। ইতোমধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্নস্থানে ‘বারি মলটা-১’ এর আবাদ শুরু হয়েছে। সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও ইতোমধ্যে দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত ৩ হাজার হেক্টরে মালটার আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমেই বানিজ্যিকভাবে এর বিপননও শুরুর হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের মালটা এ এলাকা ছাড়িয়ে রাজধানী সহ দেশের বিভিন্নস্থানেও বাজারজাত হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদদের মতে ভাল জাতের ও মানের গাছের চারা এবং কলমের সরবারহ নিশ্চিত করতে পারলে দক্ষিণাঞ্চলে খুব দ্রুত এ ফলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে টেকসই বাজার গড়ে উঠবে। ফলে অদুর ভবিষ্যতেই বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে মালটার আমদানী বাহুলাংশে হ্রাস করাও সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছেন কৃষিবিদগন।
গত কয়েক বছরে বরিশাল সদরের কয়েকটি এলাকা ছাড়াও উজিরপুর ও আগৈলঝাড়া এবং পিরোজপুরের নেছারাবাদ, নাজিরপুর সহ ঝালকাঠির সদর উপজেলার বিপুল সংখ্যক গ্রামে মালটা’র আবাদ হয়েছে। তবে এ ফলের ভাল মানের কলম কিছুটা দুস্প্রাপ্য হওয়ায় কোন কোন এলাকায় এর উৎপাদন মানসম্মত হচ্ছে না।
বরিশালে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের রহমতপুর হর্টিকালচার নার্সারী ভালজাত ও মানের চারা উত্তোলন ও বিক্রি করলেও প্রচারনার অভাবে তা বেশীরভাগ কৃষকেরই অজানা। আবার সেখানে চারার দুস্প্রাপ্যতাও রয়েছে। এবার বর্ষা মৌসুম শেষ হবার আগেই ঐ নার্সারীতে মালটার চারা বিক্রি শেষ হয়েছে।
ভালমানের চারা রোাপন করলে দুই বছরের মাথায়ই গাছে ফল আসছে। সঠিক বালাই ও সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারলে প্রতিটি গাছে বছরে ২শর ওপরে মালটা ধরে থাকে। বরিশালের বাজারে এখন দেশী মালটা সর্বনি¤œ ১শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা কৃষক পর্যায়ে পাইকাররা ৬০-৬৫ টাকা দরে কিনছেন। কৃষিবীদদের মতে সঠিক পরিচর্যা করলে প্রতিটি গাছ থেকে মৌসুমে ৪০ কেজি পর্যন্ত মালটা পাওয়া সম্ভব। এতে করে জমি তৈরী, চারা সংগ্রহ এবং সার ও বালাই ব্যবস্থাপনা সহ পরিচর্যার ব্যয় প্রথম ফলন থেকেই তুলে আনা সম্ভব।
কিন্তু চারা সহজলভ্য করা সহ আবাদ প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে পৌছে দেয়ার অভাবে এখনো দক্ষিনাঞ্চলের কৃষক পর্যায়ে অত্যন্ত অর্থকরী ফসল মালটা’র আবাদ সম্পর্কে যথাযথ বার্তা পৌছছে না। ফলে এ ফল আবাদ যতটা সম্প্রসান হবার কথা, ততটা না হলেও গত ২-৩ বছরে আবাদ বেড়েছে আশাব্যঞ্জক ভাবে। এ ব্যাপরে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের বরিশাল কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জানান, দক্ষিনাঞ্চলে এ ফলের আবাদ সম্প্রসারনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি কৃষক পর্যায়ে এর অবাদ প্রযুক্তি সহ উন্নতমানের চারা পৌছে দিতে।
বাবুগঞ্জের রহমতপুরে ডিএই’র হর্টিকালচার নার্সারীর দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-পরিচলক জানান, আমরা চলতি বর্ষা মৌসুমে বিপুল সংখ্যক ‘বাড়ি-১ মালটা’র চারা সরবরাহ করেছি। আগামীতে তা আরো বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি। তার মতে মালটা আবাদের বর্তমান ধরা অব্যাহত থাকলে আগামী দশ বছরের মধ্যে এ ফল আমদানীর প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যেতে পারে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT