শেবাচিম হাসপাতালে চলছে স্থায়ী-অস্থায়ী কর্মচারীদের নৈরাজ্য শেবাচিম হাসপাতালে চলছে স্থায়ী-অস্থায়ী কর্মচারীদের নৈরাজ্য - ajkerparibartan.com
শেবাচিম হাসপাতালে চলছে স্থায়ী-অস্থায়ী কর্মচারীদের নৈরাজ্য

3:30 pm , August 27, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে স্থায়ী ও অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের নৈরাজ্য চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকলেও কতিপয় কর্মচারী এসব অপকর্ম করছে। আর এসব অপকর্মের শেল্টার দিচ্ছে হাসপাতালের কতিপয় ওয়ার্ড মাষ্টার-ওয়ার্ড সরদার ও ওয়ার্ড জোমাদ্দার। এই হাসপাতালের ৫ তলার পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের অস্থায়ী কর্মচারী শহিদ ও রনি টাকার বিনিময়ে মিনি অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) সার্জারি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শহিদ ও রনি শুধু সার্জারি করছে না, ফিজিক্যাল এ্যাসাল্টের ইনজুরি নোট চুরি করে টাকার বিনিময়ে তা রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছে ফটোকপি করে বিক্রি করছে। অভিযোগ রয়েছে এখানকার রোগী ও তাদের স্বজনরা কর্মচারীদের চাহিদা মত টাকা না দিলে তারা যাওয়ার সময় ছাড়পত্রও পাচ্ছে না। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শহিদ ও রনি বলেন,‘আমারা ডাক্তারদের সঙ্গে থেকেই তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করছি।’
এদিকে ডাক্তারের অনুপস্থিতে ৪ তলার পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের অস্থায়ী কর্মচারী মিজান মিনি ওটি সামলে থাকেন। তাই মিজান নিজেকে সার্জারি ওয়ার্ডের ডাক্তার পরিচয় দিয়ে থাকেন। মিজান ডাক্তারের অনুপস্থিতে রোগীর জখমি স্থান সেলাই করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি ফিজিক্যাল এ্যাসাল্টের ইনজুরি নোটও চুরি করে বিক্রি করছে। কাজ শেষে মিজান ওয়ার্ড থেকে চলে যাওয়ার পর রোগীরা নার্সের রুমে তাকে খুঁজ গিয়ে ডাক্তার মিজান বলে সম্বোধন করে।
হাসপাতালের এসব বেআইনী কাজে জড়িত রয়েছে ৩ তলার পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের অস্থায়ী কর্মচারী মারুফ, মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডের অস্থায়ী আয়া নুুপুর ওরফে পোটকা নুপুর, খাদিজা আক্তার ওরফে চোঁখ খোলা মাসি, পপি আক্তার ও এনি বেগম। কাজ ফাঁকি দিয়ে রোগীদের বেডে বসে খোশ গল্প করে। এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে। মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডের অতিরিক্ত আয়া নুুপুর বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের ডিরেক্টর স্যারও এ বিষয়ে জানে। আমরা বেতন পাই না। এই কাজ করেইে আমাদের পেট চলে। এমনকি আয় করা টাকা থেকে এখানকার ওয়ার্ড মাষ্টারদেরও ভাগ দেই।’
তাছাড়া হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে অতিরিক্ত আয়ারা টাকা ছাড়া অক্সিজেন দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। নবজাতক ওয়ার্ডের অতিরিক্ত আয়া রেখা হালদার, মারথা বেগম, ভিবা ও প্রীতিলতা চিকিৎসাধীন শিশুদের কাছে সরকারের দেওয়া অক্সিজেন পাইপ বিক্রি করছে। এদিকে হাসপাতালের গাইনী অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) অস্থায়ী আয়া মিনু বেগম টাকা ছাড়া কিছুতেই সদ্য ভূমিষ্ট শিশুকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেয় না। আর ছেলে নবজাতক হলে কোনো কথা নেই। এ সময় টাকার পরিমান আরও বেশি দিতে হয়। এই মিনু বেগমেরই ছেলে কালাম ওরফে ডিডি কালাম গাঁজাসহ আটক হওয়ায় এই হাসপাতালরে চাকুরী থেকে বহিস্কার হয়েছে। দ্বিতীয় তলায় এক্স-রে বিভাগের স্থায়ী কর্মচারী অহিদুল রোগীদের রশিদ না দিয়ে টাকা পকেটে ভর্তি করেন। এক্স-রে করতে আসা রোগী ও স্বজনদের গালমন্দ করারও অভিযোগ রয়েছে অহিদুলের বিরুদ্ধে। এখানকার এক্স-রে ফ্লিম সেক্টরের স্থায়ী কর্মচারী হলেও বাবুল আক্তার হাসপাতালের রোগী বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নেয়। বাবুল আক্তার নিজেই রোগীর দালাল হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে বাবুল আক্তারের এসব অপকর্ম নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) হারুন ওরফে পান হারুন ও মিজান রোগীদের জিম্মি করে পান খাওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তারাও রয়েছে বহাল তবিয়তে। ৪ তলার পুরুষ মেডিসিনের ওয়ার্ড বয় স্থায়ী কর্মচারী জুয়েল হোসেন, রোজী আক্তার, সুমনা আক্তার ও সুমন মিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীদের ডিম চুরি বরে। পরে রোগী ও হাসপাতালের বাইরে বিক্রি করছে। অভিযোগ রয়েছে স্থায়ী কর্মচারী হলেও ওয়ার্ড বয় জুয়েল কাজ না করে বসে থাকে। ওয়ার্ড বয় জুয়েলের সঙ্গে সখ্যতা থাকার কারনে এখানকার অস্থায়ী আয়া সুমনা আক্তারও কাজে ফাঁকি দিচ্ছে। এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সরকারী কর্মচারীদের ফ্রী টিকিট দিচ্ছে না তথ্য অনুসন্ধান কেন্দ্রের সবুর। সবুর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সরকারী কর্মচারীদের অযথা ভোগান্তিতে ফেলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তথ্য অনুসন্ধান কেন্দ্রের সবুর জানান, আমি বিধি বহির্ভুত কোনো কাজ করছি না।’
নাক-কান-গলা বহি:বিভাগের কর্মচারী সাইফুলও রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করছে। এসব কর্মচারীরা চিকিৎসাধীন রোগীদের কাছে বলে থাকে হাসপাতালের মেশিনে ভালো পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় না। হাসপাতালের অভ্যন্তরে চিকিৎসাধীন রোগীদেরও বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নেয় তারা। পরে তারা কমিশন নেয় বিভিন্ন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার থেকে। ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ভিডিও ফুটেজ চেক করলেই কর্মচারীদের এমন অপকর্ম বেরিয়ে আসবে। তাছাড়া হাসপাতালের রোগী নেওয়ার কমিশনের জন্য একটা খাতাও রয়েছে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারগুলোতে। অল্প টাকা বেতন হলেও এখানকার অধিকাংশ পুরুষ কর্মচারী নামিদামী গাড়িতে চড়েন। হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার কমিশন দিয়ে এখানকার তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেনীর অধিকাংশ পুরুষ কর্মচারী সুজুকি জিক্সার, এ্যাপাচি, পালসার, ডিসকভার মটরসাইকেল চালিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা হলে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, “হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার কমিশনের ঘটনায়
সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT