চাকরী করেন ভান্ডারিয়ায় ॥ বাস করেন বিএম কলেজ কোয়াটারে ! চাকরী করেন ভান্ডারিয়ায় ॥ বাস করেন বিএম কলেজ কোয়াটারে ! - ajkerparibartan.com
চাকরী করেন ভান্ডারিয়ায় ॥ বাস করেন বিএম কলেজ কোয়াটারে !

3:16 pm , August 23, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বিএম কলেজে চাকরি না করেও কলেজের চতুর্থ শ্রেনীর কোয়াটারে অবৈধভাবে বসবাস করছেন মৃধা নাসির উদ্দীন নামের এক কর্মচারী। তিনি বর্তমানে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে হিসাবরক্ষক পদে কর্মরত আছেন। শুধু তাই নয় বিএম কলেজ কোয়াটারে বসবাসের জন্য মাসে এক হাজার টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও তিনি তা পরিশোধ করছেন না। নাসির উদ্দিন অষ্টম শ্রেণি পাসের সনদ দিয়ে ঝালকাঠি মহিলা কলেজে (কলেজ সরকারীকরণের আগে) এম.এল.এস.এস. পদে (২০ গ্রেডে) চাকরিতে প্রবেশ করেন। ঝালকাঠি মহিলা কলেজ সরকারিকরণ হলে এম.এল.এস.এস. পদে আত্মীকৃত হয়ে চাকরি সরকারি হয়। পরবর্তীতে ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজে কর্মরত থাকা অবস্থায় অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে (১৬ গ্রেডে) পদোন্নতি পেয়ে বিভিন্নভাবে লবিং এর মাধ্যমে বিএম কলেজে বদলি হয়ে আসেন। অফিস সহকারি কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে কর্মরত থাকাকালীন অদক্ষতাসহ বিভিন্ন অনিয়ম এবং দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কলেজের কিছু মজুরীভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়ে একটি চক্র গঠন করে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন নাসির উদ্দীন। নাসির উদ্দীন ২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর পদোন্নতি (১৪ গ্রেডে) পেয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে হিসাবরক্ষক পদে যোগদান করেন। সরকারি বিএম কলেজে কর্মরত থাকাকালীন কলেজ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে পকেট গেট সংলগ্ন কলেজের মাতৃমন্দির নামক বাসায় প্রতি মাসে এক হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া সাপেক্ষে বসবাস করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল তাকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি সরকারি বাসায় বসবাস করলেও বাসা ভাড়া বাবদ কোন টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেননি। কলেজের মাতৃমন্দির নামক বাসাটিতে দুইটি বৈদ্যুতিক লাইন নিয়ে কলেজের বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন কিন্তু কলেজে কোন বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেননি। সরকারি বিধি ভঙ্গ করে তিনি সরকারি বাসায় বসবাস করছেন ও সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন। এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া কোন ধরণের ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। নাসির উদ্দিন ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর বিএম কলেজ থেকে বিমুক্ত হয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করে অদ্যবধি কর্মরত আছেন কিন্তু সরকারি বিএম কলেজের মাতৃমন্দির নামক বাসাটি ছাড়েননি যা সম্পূর্ন অবৈধ। কলেজের অধ্যক্ষ বহুবার মৌখিকভাবে বাসাটি ছাড়তে বলেন। কলেজের আবাসন কমিটির আহবায়কসহ কমিটির সদস্যরা নাসির উদ্দিনকে বাসা ছাড়ার বিষয়ে বহুবার তাগিদ দিলেও কোন কাজ হয়নি। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সরকারি বিএম কলেজে পদ শূন্য না থাকার পরও নাসির উদ্দিন বিএম কলেজে পুনরায় আসার জন্য লবিং করছেন কিছু দালালের মাধ্যমে। কলেজের কয়েকজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ও কলেজের ইলেকট্রিশিয়ান বাসা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। কলেজের অধ্যক্ষ মৌখিকভাবে কলেজের অফিস সহকারী মোঃ মনিরুল ইসলামকে বাসায় থাকার অনুমতি দিলেও মৃধা নাসির উদ্দিন তোয়াক্কা করছেন না। এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, মৌখিকভাবে নাসির উদ্দীনকে বাসা ছাড়তে বলা হয়েছে। তিনি কিছু সময় নিয়েছেন। তবে সরকারী কোষাগারে টাকা জমা দেয়া না দেয়ার ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT