সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও মহানগর আ’লীগের নেতাদের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও মহানগর আ’লীগের নেতাদের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী - ajkerparibartan.com
সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও মহানগর আ’লীগের নেতাদের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী

3:26 pm , August 19, 2021

হেলাল উদ্দিন ॥ শোকের মাসে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ও নেতাকর্মীদের উপর ইউএনও এবং পুলিশের এমন হামলা অমানবিক ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবী করেছেন বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। এই হামলাকে ৭৫ এর ১৫ আগস্ট কালো রাতের বর্বরচিত হামলা থেকে বেচে ফেরা তৎকালীন শিশু সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে প্রানে মেরে ফেলার চক্রান্ত বলে ধারনা করছেন তারা। এছাড়া হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ ইউএনও এর প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দাবী করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবী করা হয়।
নগরীর কালী বাড়ী রোডে মেয়রের বাসা “সেরনিয়াবাত ভবন” এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুছ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি গাজী নইমূল হোসেন লিটু বলেন, শোকের মাস। তাই আমাদের হাতপা আটকে রেখেছে। না হলে আমরা গুলি খেলাম পুলিশের লাঠি পেটা খেলাম অথচ আমরা আন্দোলন তো দুরের কথা কোন কর্মসূচীও ঘোষনা করতে পারছি না।
সংবাদ সম্মেলনের প্রথম অংশে গাজী নইমূল হোসেন লিটু বলেন, বুধরাত রাতে যে ঘটনা ঘটেছে তা পরিস্কার ও বাস্তব বর্ননা দিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের রুটিন ওয়ার্ক পরিচ্ছন্নতা কাজের অংশ হিসাবে বুধবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস চত্বরে প্রবেশ করে সিটি করপোরেশনের একটি পরিচ্ছন্ন দল। যার নের্তৃত্বে ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস। পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ইউএনও অফিস থেকে বিভিন্ন পোষ্টার ব্যানার খোলার কাজ শুরু করতেই পাশেই অবস্থিত নিজ বাসভবন থেকে বিষয়টি প্রত্যক্ষ করে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদেরকে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মী বলে পরিচয় দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউএনও বলেন, তোমরা যারাই হও আমার অফিস চত্বরে কোন কাজ করতে হলে আমার অনুমতি নিতে হবে। এখানে মেয়রের কোন হুকুম চলবে না। এই বলে সবাইকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। বিষয়টি ফোনে মেয়রকে অবহিত করা হলে সিটি মেয়র বিষয়টি দেখার জন্য মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবুকে ঘটনাস্থলে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। হাসান মাহমুদ বাবু ঘটনাস্থলে পৌছে ইউএনওকে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করলে ইউএনও তার উপর চড়াও হয়। তাকে গুন্ডা বলে অবহিত করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। এরই মধ্যে বাবুকে হাত ধরে টেনে নিজ বাস ভবনের নিয়ে যান ইউএনও। তাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে বাসভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে ইউএনও দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের গুলি করার নির্দেশ প্রদান করেন। খবর পেয়ে সিটি মেয়র ও সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী ঘটনা স্থলে হাজির হলে তাদের লক্ষ্য করে এক আনসার সদস্যের কাছ থেকে শর্টগান নিয়ে ইউএনও নিজেই গুলি ছোড়েন। নেতা কর্মীরা মেয়রকে রক্ষা করে নিরাপদে পাঠিয়ে দেন। খবর পেয়ে দলীয় হাজার হাজার নেতাকর্মী ঘটনা স্থলে হাজির হয়। এর পর আসনার সদস্যরাও এলোপাথারী গুলি ছুড়লে ৬০ জনের বেশী সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দলীয় নেতা কর্মী গুলবিদ্ধ হন। যাদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশংকা জনক। এর পরই শুরু হয় পুলিশের লাঠি পেটা। এতেও অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ১২ জন নেতাকর্মীকে আটক করে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষের অংশে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মোঃ ইউনুছ বলেন, এমন কোনো ঘটনার উদ্ভব হয়নি যে গুলি চালানোর নির্দেশ দিতে হবে। এর পর গুলি খেয়ে আহত হয়ে পড়ে থাকা নেতাকর্মীদের উপর আছড়ে পড়লো পুলিশ। নির্মম ভাবে পেটালো তাদেরকে। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, এই শোকের মাসে প্রশাসনের কেন এই আচারন ? আমরা বরিশাল বাসী সুখে শান্তিতে আছি, ভাল আছি এটা কি তাদের ভাল লাগে না। তিনি বলেন, একটি পক্ষের আশির্বাদপুষ্ট হয়ে ইউএনও এই কান্ড ঘটিয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই।
তিনি আরো বলেন, বিগত যে কোন সময়ের চেয়ে বরিশাল আওয়ামী লীগ এখন অনেক পরিপক্ক ও শক্তিশালী। আমরা এর উপযুক্ত জবাব দিতে জানি। কিন্তু শোকের মাস বলে নিশ্চুপ আছি। এটা আমাদের দূর্বলতা ভাববেন না।
তিনি অভিযোগ করে বলেন পুলিশ কার ইশারায় এসব করছে। আহত নেতাকর্মীরা হাসপাতালে গিয়েও চিকিৎসা নিতে পারছে না। সেখানে গিয়েও পুলিশ তাদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করছে। হয়রানী করছে। এসব কিসের আলামত। তিনি আরো বলেন আমরা বিষয়টি হাই কমান্ডকে এবং প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে জানিয়েছি। দেখি কি ব্যবস্থা নেয়া হয়। তার পরই আমরা মামলা সহ অন্যান্য কর্মসূচীতে যাব।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT