থানা কাউন্সিল এলাকার ব্যানার খুলে ফেলা নিয়ে সংঘর্ষে ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩০ থানা কাউন্সিল এলাকার ব্যানার খুলে ফেলা নিয়ে সংঘর্ষে ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩০ - ajkerparibartan.com
থানা কাউন্সিল এলাকার ব্যানার খুলে ফেলা নিয়ে সংঘর্ষে ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ৩০

3:25 pm , August 19, 2021

আ’লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ১৩

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল সদর উপজেলা কমপ্লেক্স (থানা কাউন্সিল) এলাকায় ব্যানার খোলাকে কেন্দ্র করে ইউএনও’র উপর হামলার চেস্টাকালে আনসার সদস্যদের গুলি ও পুলিশের সাথে ছাত্রলীগ-যুবলীগ-আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংঘর্ষে ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর উপরও গুলি চালানো হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে নেতাকর্মীরা তাকে আড়াল করে রক্ষা করেছেন। আহতদের মধ্যে ৩ পুলিশ ও ২ আনসার সদস্য রয়েছে। বুধবার রাত ১১টার পর সদর উপজেলার ইউএনও মুনিবুর রহমানের উপর হামলার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। এদিকে ঘটনার পর রাত দেড়টার দিকে বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল, মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান ও জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার উপজেলা কমপ্লেক্স সহ ইউএনও’র বাসভবন পরিদর্শন করেন।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র এ্যাড. রফিকুল ইসলাম খোকন’র বক্তব্য অনুযায়ী, ‘বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় কম্পাউন্ডে রাতে ব্যানার খুলতে যায় নগর ভবনের কর্মচারীরা। এ সময় বাসভবন থেকে বের হয়ে উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ড থেকে ব্যানার খোলার কারণ জানা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমানের সাথে সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাসের কথা কাটাকাটি হয়।’
উপজেলা কমপ্লেক্সে ইউএনও’র নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন আনসার সদস্য জানান, ‘কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ব্যানার খোলার কথা বলে কম্পাউন্ডে ২৫/৩০ জন প্রবেশ করে। পরে তারা ইউএনও স্যারের বাসভবনে প্রবেশ করে তাকে ঘিরে ফেলে। তাকে রক্ষায় এগিয়ে গেলে তাদের (আনসার) সাথে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে হামলা চালানো হলে তারা (আনসার) গুলি ছোড়েন। এতে ২/৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়।’
এদিকে, খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ নগর পরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। দলীয় নেতা-কর্মীদের উপর গুলির খবর শুনে কয়েক শ’ নেতা-কর্মীও জড়ো হয় সেখানে। তাদের নিয়ে মেয়র উপজেলা কমপ্লেক্সের ভেতরে প্রবেশ করতে গেলে দ্বিতীয় দফায় ভেতর থেকে গুলি ছোড়ে আনসার সদস্যরা। গুলির মুখে ভেতরে ঢুকতে না পেরে কমপ্লেক্সের বাইরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অবস্থান নেয় মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। দ্বিতীয় দফা এই গুলি বর্ষনেও ২/৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়। ছাত্রলীগ কর্মীরা এ সময় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধসহ একটি বাস ভাংচুর করে। পরে মেয়র ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। উপজেলা কমপ্লেক্সে এসব ঘটনা চলার মধ্যেই সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ আসে। তারা বাস ভাংচুরসহ সড়ক অবরোধ ঠেকাতে চেষ্টা করে। তখন পুলিশের সাথে ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ কর্মীদের ঘন্টাব্যাপী ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় পুলিশ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীদের বেধরক লাঠিপেঠা করে। এসময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও লাঠি পেটায় পুলিশসহ আহত হয় ৩০ জন। এক পর্যায়ে পিছু হটে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মীরা। এরইমধ্যে নগর ভবনের বেশ কয়েকটি ময়লা ফেলার গাড়ি এনে এলোপাথারী ফেলে রেখে অবরোধ করা হয় ঢাকা বরিশাল মহাসড়ক। স্তুপাকারে বর্জ্য ফেলা হয় মহাসড়কে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল। পরে রাত ৩ টার দিকে অবরোধ তুলে নিলে পূনরায় যানবাহন চলাচল শুরু হয়।
গুলিবিদ্ধ আহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা শাহরিয়ার বাবু, হারুন অর রশিদ ও তানভীর নামে তিনজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থায় অবনতি হলে তানভীরকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ৮/১০টি মোটর সাইকেলে করে ১৫/২০ জন উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে প্রবেশ করে ঘোরাফেরা করছিল। আমি তাদেরকে এখানে আসার কারন জিজ্ঞেস করলে, তারা জোর করে আমার ঘরে প্রবেশ করে। তাদের নেতৃত্বে ছিল জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দেয়া রাজীব। পরে আনসার সদস্যরা তাদেরকে বের করে দেয়। খানিকক্ষন পরে ৬০/৭০ জন যুবক বাসার ভেতরে প্রবেশ করে। তখন তিনি দোতলায় উঠে যান। এদের মধ্যে একজন নিজেকে মাহমুদ হাসান বাবু ও আরেকজন সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত নিজেদেরকে আওয়ামী লীগ নেতা বলে পরিচয় দেয়। তারা আমাকে উঠিয়ে নেয়ার চেস্টা করে। এ সময় আনসার সদস্যরা আমার প্রান বাঁচায়। এরপর কয়েক শ’ লোক এসে কমপ্লেক্সে হামলা চালায়। তারা গেট ভেঙ্গে ফেলাসহ অনেক ক্ষতি সাধন করেছে।’
রাত সাড়ে ৩ টায় সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ তার বাসভবনে এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বিসিসি’র কর্মীরা সেখানে তাদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিলেন। অথচ তাদের উপর ন্যাক্কার জনকভাবে গুলি চালানো হয়েছে। ঘটনা সর্ম্পকে জানতে আমি সেখানে গেলে আমার উপরও গুলি চালানো হয়েছে। আমার বহু নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। বিচার চাই। এভাবে তো দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়।’
এদিকে এ ঘটনায় পুলিশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ১৩ নেতা কর্মীকে আটক করেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ২ টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ বাবু, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন ফিরোজ, ছাত্রলীগের সহ সভাপতি অলিউল্লাহ অলি, বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ শাহরিয়ার বাবু, ৬ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ১৩ জন। ওদিকে হামলাকারী অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালীর

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT