লালমোহনে সাবেক ইউপি সদস্যের কাছে জিম্মি সরকারি আদর্শ গ্রামের ৩০ পরিবার লালমোহনে সাবেক ইউপি সদস্যের কাছে জিম্মি সরকারি আদর্শ গ্রামের ৩০ পরিবার - ajkerparibartan.com
লালমোহনে সাবেক ইউপি সদস্যের কাছে জিম্মি সরকারি আদর্শ গ্রামের ৩০ পরিবার

12:01 am , August 16, 2021

 

মো. জসিম জনি, লালমোহন ॥ লালমোহনে ৩২ বছর ধরে ভূমি ও গৃহহীনদের বঞ্চিত করে একটি আদর্শ গ্রাম দখল করে ভোগ করে আসছে এক সাবেক ইউপি সদস্য। উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের চাম্পার মোড় এলাকায় অবস্থিত ওই আদর্শ গ্রামের কিছু অংশ ৩২ বছর পর দখলমুক্ত করেন লালমোহনের সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. জাহিদুল ইসলাম। তবে এখনও কিছু অংশ সাবেক ওই ইউপি সদস্য মো. ইমাম হোসেনের দখল থেকে মুক্ত করা যায়নি। অভিযোগ রয়েছে টাকার বিনিময়ে এসব ঘর ও জমি বিভিন্ন লোকজনের কাছে বিক্রি করেন তিনি। এক জমি বা এক ঘর একাধিকবারও বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।
আদর্শ গ্রামবাসীদের অভিযোগে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের চাম্পার মোড় এলাকায় সরকারিভাবে একটি আদর্শ গ্রাম নির্মাণ করা হয়। এই আদর্শ গ্রামে তখন ৩০টি পরিবারকে ১০ শতাংশ করে জমি ও একটি ঘর বন্দোবস্ত দেয়া হয়। তৎকালীন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইমাম হোসেনকে এসব ঘরের কাগজপত্র পরিবারগুলোকে বুঝিয়ে দেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু তিনি সে সময় পরিবারগুলোকে কোনো কাগজপত্র বুঝিয়ে দেননি। পরবর্তীতে তিনি ওই জমি ও ঘর বিভিন্ন লোকজনের কাছে বিক্রি করা শুরু করেন।
ওই আর্দশ গ্রামের বাসিন্দা বিবি ছালেখা বলেন, প্রথমে এখানেও আমার একটি ঘর ছিল। পরে কাজের সন্ধানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চট্টগ্রাম যাই। সেখান থেকে ফিরে এসে দেখি আমার ঘরে অন্য পরিবার থাকছে। জানতে পেরেছি ওই পরিবার ইমাম হোসেন মেম্বারের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময় ঘরটি কিনেছে। এছাড়াও সেখানের মসজিদ, কবরস্থান ও কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য বরাদ্দকৃত ২০ শতাংশ জমির ১৩ শতাংশই টাকা নিয়ে বহিরাগত লোকজনকে দখল করিয়ে দেন। এমনকি আর্দশ গ্রামের পুকুরটি সেখানের বাসিন্দাদের ভোগ করতে না দিয়ে অন্য মানুষের কাছে লিজ দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন ইউপি সদস্য ইমাম হোসেন।
ওই আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা সবুজ এসবের বিচার চাইতে গেলে তাকে ইমাম হোসেন ও তার লোকজন ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এতে করে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন সবুজ।
অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য মো. ইমাম হোসেন বলেন, এতোদিন ধরে কেউ ওইসব ঘরের কাগজপত্র চায়নি, তাই আমার কাছে কাগজগুলো রেখে দিয়েছি। তবে আমি কারও কাছ থেকে টাকা নিয়ে এক ঘর দুইবার বিক্রি করিনি। এছাড়াও অন্য যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, ওই আদর্শ গ্রামের বাসিন্দারা লালমোহনের সাবেক ইউএনও স্যারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। তখন ইউএনও স্যার আমাকে ঘটনাটি তদন্ত করার নির্দেশ দেন। তদন্ত করে আমি ঘটনার সত্যতা পাই। এরপর ওই ইউপি সদস্যের কাছ থেকে সেখানের প্রকৃত বাসিন্দাদের কিছু কাগজপত্র উদ্ধার করে তা হস্তান্তর করি, তবে এখনও কয়েকটি ঘরের কাগজ পাওয়া যায়নি। তবে পুকুরটি সেখানের বাসিন্দাদের ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করেছি। এরপরও যদি ওই ইউপি সদস্য সেখানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে তাহলে বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT