১৫ আগস্টের শহীদদের সাথে সাদিক আবদুল্লাহর ছবিও আজ হয়তো স্থান পেতো ! ১৫ আগস্টের শহীদদের সাথে সাদিক আবদুল্লাহর ছবিও আজ হয়তো স্থান পেতো ! - ajkerparibartan.com
১৫ আগস্টের শহীদদের সাথে সাদিক আবদুল্লাহর ছবিও আজ হয়তো স্থান পেতো !

1:00 am , August 15, 2021

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই কালো রাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্ব-পরিবারে নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিলেন। তাদের পাশাপাশি রাজধানীর মিন্টো রোডের বাসভবনে কৃষককূলের নয়নমনি মন্ত্রী শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাতসহ বরিশালের বেশ কয়েকজন শহীদ হয়েছিলেন। ১৫ আগস্ট মিন্টো রোডের বাসভবনে অবস্থানকালে ভাগ্যের জোরে বেঁচে গিয়েছিলেন আবদুর রব সেরনিয়াবাতের জ্যেষ্ঠ পুত্রবর্তমানে পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন ও নিরীক্ষন কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল জেলার সভাপতি, সাবেক চীফ হুইপ আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। তবে ঘাতকের বুলেট যেমন তার পিতা, দুই বোন, ভাই, পুত্রকে কেড়ে নিয়েছে তেমনি বুলেটের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে সেই দিনের ভয়াবহ স্মৃতি দীর্ঘ ৪৫ বছর বয়ে বেড়িয়েছেন তাঁরই সহ-ধর্মিনী বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কার্যকরী কমিটির সিনিয়র সহÑসভাপতি সাহান আরা বেগম। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের প্রত্যক্ষদর্শী শহীদ জননী বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহান আরা বেগম ২০২০ সালের ৭ জুন ইন্তেকাল করেন। আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর মতোই পরম করুনাময়ের ইচ্ছায় বেঁচে গিয়েছিলেন আরেকজন। সেদিনের সেই ছোট্ট শিশুর নাম সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। আজ তিনি তারুন্যদীপ্ত এক যুবক। তার যখন মাত্র দেড় বছর বয়স তখন বাঙালীর জীবনে ঘটে যায় এক বিভীষিকাময় ঘটনা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঢাকার মিন্টো রোডে দাদা আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসভবনে মা-বাবাসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ছিলেন সাদিক আবদুল্লাহও। ঘাতকরা ওই বাসায় প্রবেশ করে যখন নির্বিচারে গুলি চালিয়ে একে একে লোকজনকে হত্যা করছিলো তখন মমতাময়ী সাহান আরা বেগম তাঁর দুই শিশু পুত্র সুকান্ত বাবু ও সাদিক আবদুল্লাহকে বাঁচানোর জন্য প্রানপন চেষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু ঘাতকের ছোড়া বুলেট সুকান্ত বাবুকে মায়ের কাছ থেকে চিরতরে কেড়ে নিলেও বুলেটবিদ্ধ হয়েও পরম যতেœ সাদিক আবদুল্লাহকে বুকের মধ্যে আগলে রেখেছিলেন শহীদ জননী সাহান আরা বেগম। তারপর অনেক ইতিহাস। প্রান বাঁচাতে সাদিক আবদুল্লাহসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের যাযাবর জীবন যাপন। পরিচয় গোপন রেখে দেশের বাইরে গিয়ে আশ্রয় গ্রহনসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাঁদের পথ চলতে হয়। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান সাদিক আবদুল্লাহ প্রবাস জীবন শেষে বরিশালে এসে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত হন নিবিড়ভাবে। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহন করে বিপুল ভোটে তিনি নির্বাচিত হন। পাশাপাশি দায়িত্ব পান বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের। রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে সাদিক আবদুল্লাহ মাঝেমধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কথা স্মরণ করে বলেন, ঘাতকের ছোড়া বুলেটের আঘাতে বড় ভাই সুকান্ত বাবুর মতো তিনিও প্রান হারাতে পারতেন। হয়তো ১৫ আগস্টের শহীদদের ছবির পাশে তার ছবিও স্থান পেতে পারতো। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি প্রানে বেঁচে গিয়েছিলেন। সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, হয়তো মানুষের সেবা করার সুযোগ দানের জন্যই মহান সৃষ্টিকর্তা তাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন। তিনি বলেন, যতো দিন এই পৃথিবীতে বেঁচে আছি ততোদিন মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT