লঞ্চের টিকেট সোনার হরিণ লঞ্চের টিকেট সোনার হরিণ - ajkerparibartan.com
লঞ্চের টিকেট সোনার হরিণ

3:42 pm , August 11, 2021

 

সাঈদ পান্থ ॥ “তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার সোনার হরিণ চাই” বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মত এখন সবাই ছুটছে সেই সোনার হরিণের পিছে। দীর্ঘ ১৯ দিন বন্ধ থাকার পর চলাচল শুরু করেছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অন্যতম যাতায়াত মাধ্যম লঞ্চ। তাই ঢাকা ও বরিশাল উভয় প্রান্ত থেকে মানুষের আসা যাওয়ার জন্য লঞ্চ কাউন্টারগুলোতে টিকেট পাওয়ার জন্য ঘুরছেন যাত্রীরা। কিন্তু গতকাল বুধবার থেকে আগামী ১৫ আগষ্ট পর্যন্ত ৫ দিনের লঞ্চ টিকেট যেন সোনার হরিনে রূপ নিয়েছে। মিলছে না টিকেট।
ঢাকা বরিশাল নৌ রুটের ২৩টি লঞ্চের মধ্যে অধিকাংশ লঞ্চ কাউন্টার বলছে তাদের ১৫ আগষ্ট পর্যন্ত টিকেট নেই। তবে কোন কোন লঞ্চ জানিয়েছে ১৩ ও ১৪ আগষ্টের টিকেট আছে। তবে ১১, ১২ ও ১৫ আগস্টের টিকেট নেই। নগরীর বাসিন্দা ঔষধ কোম্পানীতে চাকুরী করা আহসান হাবিব জানান, বুধবার সকাল ১০ টায় লঞ্চ কাউন্টারগুলো খুলেছে। বেলা ১১ টা ৫ মিনিটে সুরভী লঞ্চ কাউন্টারে গিয়ে শুনি ১৫ আগস্ট পর্যন্ত টিকেট নেই। পরে একে একে কীর্তনখোলা, পারাবাত, কালাম খান, এ্যাভেঞ্চার লঞ্চের কাউন্টারে গিয়ে শুনতে পাই সেখানেও টিকেট নেই। পরে সুন্দরবন লঞ্চ কাউন্টারে গিয়ে ১৩ আগষ্টের টিকেট পেয়েছি।
লঞ্চ কাউন্টারগুলোতে টিকেট না পাওয়া গেলেও টিকেট মিলছে কালোবাজারে দালালের কাছে। অতিরিক্ত পাঁচশ’ থেকে এক হাজার টাকা বেশি দিয়ে বিলাসবহুল লঞ্চের কেবিনের টিকেট সংগ্রহ করতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীকে। যাত্রী মাহমুদ মিলন জানান, সকাল থেকে বিভিন্ন লঞ্চ কাউন্টারে গিয়ে টিকেট পাইনি। পরে লঞ্চঘাট থেকে দালালের মাধ্যমে একটি ডাবল টিকেট সংগ্রহ করেছি। তবে নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে ৭শ টাকা বেশি দিতে হয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে প্রতিদিন কমপক্ষে দশটি লঞ্চ আসা যাওয়া করছে। বিলাসবহুল লঞ্চের মধ্যে রয়েছে এমভি মানামী, কুয়াকাটা, সুন্দরবন, সুরভী, কীর্তনখোলা, এ্যাডভেঞ্চার, পারাবত, ফারহান, কালাম খান ইত্যাদি। এসব লঞ্চে সিঙ্গেল, ডবল, ভিআইপি, সেমি ভিআইপি, শৌখিন, ফ্যামিলি ও ভিভিআইপি ক্যাটাগরিতে কয়েক হাজার কেবিন রয়েছে। যাত্রীদের প্রশ্ন কয়েক হাজার কেবিনের টিকেট কোথায় যাচ্ছে লঞ্চ কাউন্টারে গিয়ে কোন কেবিনের টিকেট পাওয়া যায় না। তবে সন্ধ্যার পূর্বে নদী বন্দরের পন্টুনে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করলেই দেখা যায় টিকেটের ছড়াছড়ি। অনেকটা প্রকাশ্যেই হাঁকডাক দিয়ে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হয় বিলাসবহুল লঞ্চের কেবিনের টিকেট। এ বিষয়ে তদন্ত করা দরকার বলে যাত্রীরা জানিয়েচেন। অতীতে ঈদের পূর্বেই দেখা যেত লঞ্চের কেবিন সঙ্কট। সে সময় রমজান শুরুর পর থেকেই সাধারণ যাত্রী ও তাদের স্বজনরা কেবিনের টিকেট পেতে লঞ্চের অফিস ও কাউন্টারে দৌড়ঝাঁপ শুরু করতেন। কিন্তু এখন ঈদ নেই। লকডাউনের কারণে ১৯ দিন বন্ধ থাকার পর খুললে ঈদের মত সোনার হরিণ হয়ে যায় ঢাকা বরিশাল রুটের লঞ্চের টিকেট। সুন্দরবন লঞ্চ কাউন্টারের দায়িত্বে থাকার মো: শাকিল জানান, অন্য সব লঞ্চের বিষয়ে জানা নেই। তবে তাদের লঞ্চে ১৩ ও ১৪ আগষ্টের টিকেট রয়েছে। দীর্ঘ দিন লঞ্চ বন্ধ থাকার কারণে হঠাৎ করে লঞ্চ টিকেটের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে দুই এক দিন পর সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিআইডব্লিউটিএ এর নৌ নিরাপত্তার ও ট্রাফিক বিভাগের পরির্দশক মো: কবির হোসেন জানান, ‘দীর্ঘদিন লকডাউনের কারণে চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। যার কারণে টিকেট পাওয়া যায়না। পাশাপাশি সিন্ডিকেট রয়েছে। টিকেট কালোবাজার রুখতে বিআইডব্লিউটএ বিভিন্ন সময় প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান চালায়। বিভিন্ন সময় তাদের আটকও করে। অভিযানের পর কিছু দিন ভালো থাকলেও আরো যেই সেই হয়ে যায়।
বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা বলেন, ‘প্রতিবছর ঈদ মৌসুমে দালালের দৌরাত্ম্যের কথা শোনা গেলেও এবার করোনার মধ্যেই দালাল কর্তৃক যাত্রী হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া দরকার বলে তিনি জানান। পাশাপাশি স্বচ্ছতার মাধ্যমে টিকেট সরবরাহের বিষয়েও আমাদের ভাবতে হবে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার সিনিয়র সহ সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, ‘করোনার লকডাউনের কারণে এই চাপটি দুই একদিনের জন্য। আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। লঞ্চঘাট থেকে কালোবাজারে টিকেট বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু কিছু লঞ্চের টিকেট দালালদের হাতে চলে যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ। আর সংশ্লিষ্ট লঞ্চ মালিকদেরও বোঝা উচিৎ এতে করে তার লঞ্চের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT