মুলাদীর নদী থেকে হিজলার শীর্ষ সন্ত্রাসীর লাশ উদ্ধার মুলাদীর নদী থেকে হিজলার শীর্ষ সন্ত্রাসীর লাশ উদ্ধার - ajkerparibartan.com
মুলাদীর নদী থেকে হিজলার শীর্ষ সন্ত্রাসীর লাশ উদ্ধার

3:31 pm , August 11, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ হিজলা উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরু বাবুর্চি লাশ উদ্ধার করেছে মুলাদী থানা পুলিশ। হিজলা ও মুলাদী উপজেলার মধ্যবর্তী নয়া ভাঙ্গুলি নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। গত শনিবার নুরু বাবুর্চির শ্বশুর বাড়ি থেকে নিখোঁজের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিকে নদীর মুলাদী ব্রিজ সংলগ্ন কিনারায় ভাসমান লাশ দেখে স্থানীয়রা। পরে হিজলা ও মুলাদি থানা পুলিশকে অবহিত করে। উভয় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে মুলাদী থানা পুলিশ ভাসমান লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এদিকে নুরু বাবুর্চি মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বস্তি ফিরে আসে এলাকাবাসীর মাঝে।
জানা গেছে, নুরু বাবুর্চি নব্বই দশক থেকে একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসী তার নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছে। তিনি প্রকাশ্যে মাঝে কাউরিয়া বাজারে তার দাদা শ্বশুরের কান কেটে উল্লাস করেছে। নুরু বাবুর্চি নির্যাতনের শিকার হয়ে মাউলতলা সিনিয়র মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাসকাটা গ্রামের আলহাজ্ব হযরত মাওলানা নজরুল ইসলাম এর পরিবারের উপর যে ধরনের নির্যাতন করা হয়েছে তা সহ্য না করতে পেরে স্ত্রী-পুত্র সন্তানদের নিয়ে ভিটেবাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছে। এরপর পুলিশ অস্ত্র ও ডাকাতি মামলায় নুরু বাবুর্চিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ জেলহাজতে প্রেরণ করলে ওই মামলায় আদালত তাঁকে ১৩ বছরের সাজা প্রদান করে। ২০১৪ সালে সাজা কেটে বের হয়েই পূর্বের ন্যায় বেপরোয়া হয়ে ওঠে। পুনরায় তিনি মাদক পাচার সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি ও ডাকাতিসহ নানা ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। হিজলা উপজেলা সর্বস্তরের মাঝের এক আতঙ্কের নাম হয় নুরু বাবুর্চি।
ছয় মাস পূর্বে নুরু বাবুর্চি তার চাচা কাঞ্চন বাবুর্চিকে নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করে। তিনি এখনো মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ৪ মাস পূর্বে নুরু বাবুর্চি তার বড় ভাই দুলাল বাবুর্চির পা কর্তন ও তার স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম করে। তারা এখনো পঙ্গুত্ব জীবনযাপন করছে। দুই মাস পূর্বে কাঞ্চন বাবুর্চির ছেলে শহীদ বাবুর্চির শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কুপিয়ে জখম করে পায়ের রগ কেটে দেয়। গত ছয় মাসের মধ্যে নুরু বাবুর্চি ৭ জনকে কুপিয়ে জখম করার পরে হিজলা থানা পুলিশ নুরু বাবুর্চি এর উপর রেড অ্যালার্ট জারি করে। এক পর্যায়ে হিজলা থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি করে উপজেলার দুর্গম এলাকা হিজলা গৌরব দি ইউনিয়নের চরাঞ্চল থেকে নুরু বাবুর্চি ও তার তিন ছেলেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে হিজলা থানা পুলিশ। ওই মামলা থেকে জামিন নিয়ে চাচতো ভাই খোকন বাবুর্চিকে কাউরিয়া বাজার থেকে নুরু বাবুর্চি ও তার তিন ছেলে অস্ত্র দেখিয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে মারধর করে ছেড়ে দেয়। তার বিরুদ্ধে হিজলা থানা সহ বিভিন্ন থানায়।
এদিকে নিহত নুরু বাবুর্চি স্ত্রী বাদী হয়ে মুলাদী থানা ৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মুলাদী থানার ওসি মাকসুদুর রহমান বলেন, নিহতের স্ত্রী খাদিজা বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। আমরা আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছি। আর নুরু বার্বুচীর লাশ বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT