বুধবার থেকে সপ্তাহে ৪ দিন রাজধানীর সাথে দক্ষিণাঞ্চলে যাত্রী পরিবহন করবে স্টিমার বুধবার থেকে সপ্তাহে ৪ দিন রাজধানীর সাথে দক্ষিণাঞ্চলে যাত্রী পরিবহন করবে স্টিমার - ajkerparibartan.com
বুধবার থেকে সপ্তাহে ৪ দিন রাজধানীর সাথে দক্ষিণাঞ্চলে যাত্রী পরিবহন করবে স্টিমার

3:12 pm , August 10, 2021

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ করোনা মহামারীর লকডাউনের দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বুধবার রাতের প্রথম প্রহর থেকে দক্ষিনাঞ্চলের সাথে রাজধানীর নৌ যোগাযোগ পুণ. প্রতিষ্ঠার লক্ষে বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সব প্রস্তুতি শুরু করলেও রাষ্ট্রীয় নৌ-বানিজ্য প্রতিষ্ঠানটির তৎপরতা এখনো সীমিত। দুটি নতুন ও ৪টি পুরনো প্যাডেল জাহাজ সচল থাকার পরেও বিআইডব্লিউটিসি ঢাকা থেকে চাঁদপুর বরিশাল হয়ে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ পর্যন্ত সপ্তাহে মাত্র ৪ দিন ‘রকেট স্টিমার সার্ভিস’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এ সার্ভিসটিও চালু করা হচ্ছে ব্যয়বহুল স্ক্রু-হুইল জাহাজ ‘এমভি মধুমতি’ ও ‘এমভি বাঙালী’র সাহায্যে। এসব নৌযানে প্রতি ট্রিপে সংস্থাটিকে লোকসান গুনতে হবে ৩ লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। করোনা মহামারীর কারনে গত বছরের মার্চ-এর মধ্যভাগ থেকে রাজধানীর সাথে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীবাহী নৌ যোগাযোগ বার বারই বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। সর্বশেষ গত ২৭ মার্চ থেকে এসব সার্ভিস পুনরায় বন্ধ করার পর ঈদ উল আজহার সময় ৩ দিন সর্ভিসটি চালু হলেও তা আবার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে সরকারী নির্দেশনার আলোকে বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে বিআইডব্লিউটিসি’ও তার কথিত রকেট স্টিমার সার্ভিসটি চালু করতে যাচ্ছে। তবে দৈনিক সার্ভিসটি চলবে সপ্তাহে ৪ দিন। সার্ভিসটি নিয়মিত পরিচালনে ৪টি নৌযানের প্রয়োজন হলেও সংস্থাটির হাতে বর্তমানে ৬টি নৌযান রয়েছে। মূলত দীর্ঘদিন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষন বিহীন প্যাডেল জাহাজ ‘পিএস লেপচা’ ও পিএস টার্ণ’ জাহাজ দুটি নিয়ে সংস্থার বানিজ্য ও কারিগরি পরিদপ্তর ঝুকি নিতে চাচ্ছে না। এসব নৌযানে ১৯৯৬ ও ২০০২ সালে নতুন ইঞ্জিন সংযোজনের পরে অদ্যাবধি কোন ‘মেজর ওভারহলিং’ হয়নি। এমনকি ব্যয় সাশ্রয়ী নৌযান দুটির উপরিকাঠামো এবং হালেরও কোন যথাযথ রক্ষণাবেক্ষন হয়নি গত ১৫ বছরে। ফলে ঝড়ঝঞ্ঝার মৌসুমে বাধ্য হয়েই তিনগুন পরিচালন ব্যয়ের এমভি মধুমতি ও এমভি বাঙালী জাহাজ দুিট সপ্তাহে ৪ দিন যাত্রী পরিবহনে দিচ্ছে সংস্থাটি। এ রুটের অপর নৌযান ‘পিএস মাহসুদ’ মেরামতের নামে যাত্রী পরিবহনের বাইরে বিগত প্রায় সোয়া দু বছর। গত এপ্রিলের শেষভাগে নৌযানটি মেরামতে সংস্থার ডকইয়ার্ডে নেয়া হলেও কবে যাত্রী পরিবহনে ফিরবে তা বলতে পারছেন না কেউ।
সংস্থাটির ঐতিহ্যবাহী ‘পিএস অষ্ট্রিচ’ জাহাজটি বছর পাঁচেক আগে বিনা দরপত্রে এক ব্যক্তিকে দীর্ঘ মেয়াদী ইজারা প্রদান করা হয় যাত্রী পরিবহন থেকে প্রত্যাহার করে। অপরদিকে রেলওয়ে থেকে ভর্তুকি মূল্যে সংগ্রহ করে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় করে পূণর্বাসনের পরেও ‘এমভি সোনারগাঁ’ নামের অপর যাত্রীবাহী নৌযানটিও এক ব্যক্তি ইজারা নিয়ে রাষ্ট্রীয় অপর একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে তা ভাড়া দিয়েছেন। সংস্থাটির জন্য আরো দুটি স্ক্রু-হুইল নৌযান তৈরীর কাজ বছর পাঁচেক আাগে শুরু হলেও কবে শেষ হবে তা বলতে পারছেন না সংস্থাটির দায়িত্বশীল মহল। অথচ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কারিগরি বিশেষজ্ঞর মতে, সংস্থাটির হাতে থাকা ৪টি প্যাডেল জাহাজের মূল ইঞ্জিনসমুহ ‘মেজর ওভারহলিং’ সহ এর উপরিকাঠামো ও হালসমুহ পরিপূর্ণ মেরামত করলে এসব নৌযানের সাহায্যে লোকসান এড়িয়ে আরো অন্তত ২০ বছর রাজধানীর সাথে দক্ষিণাঞ্চলের নিরাপদ যাত্রী পরিবহন সম্ভব।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT