শেবাচিমের করোনা ওয়ার্ডে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরেছে শেবাচিমের করোনা ওয়ার্ডে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরেছে - ajkerparibartan.com
শেবাচিমের করোনা ওয়ার্ডে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরেছে

3:02 pm , August 6, 2021

পরিবর্তন ডেস্ক ॥ বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) করোনা ওয়ার্ডে অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরেছে। এতে রোগীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। হাসপাতালের পরিচালক বলছেন, ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন আনায় এর সুফল পেতে শুরু করেছে রোগীরা।
গত জুলাই মাসের শুরু থেকে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তিকৃত রোগীর স্বজনরা অক্সিজেন সংকট এবং অক্সিজেনের অভাবে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ করে আসছিলেন প্রতিদিনই। গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ প্রতিদিনে এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং প্রশাসনের। সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তারা।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম জানান, করোনা ওয়ার্ডে বিভিন্ন ধরনের ৬১২টি অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে। কিন্তু ব্যবস্থাপনা ত্রুটির কারণে রোগীরা প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সিলিন্ডার পাচ্ছিলেন না। এ অবস্থায় ৫ সদস্যের অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবস্থাপনা কমিটি করা হয়। তাদের দায়িত্ব হচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিত করা। তাদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ফলে আগের চেয়ে রোগীদের অক্সিজেন সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ তুলানামূলক কমে এসেছে।
তিনি আরও জানান, আগে রোগীর অক্সিজেনের চাহিদা একটি রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করা হতো। অক্সিজেন সিলিন্ডারের গাড়ি আসার পর ওই সিরিয়াল অনুসারে রোগীর স্বজনদের হাতে সিলিন্ডার তুলে দেয়া হতো। এই প্রক্রিয়ায় রোগীর প্রভাবশালী স্বজনরা একজন রোগীর বিপরীতে একাধিক অক্সিজেন সিলিন্ডার কব্জায় নিয়ে মজুদ করে রাখতেন। এতে অনেক নিরীহ সাধারণ রোগীরা অক্সিজেন সিলিন্ডার সেবা থেকে বঞ্চিত হতো। তারাই মূলত অক্সিজেন সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ করতেন গণমাধ্যমের কাছে। বিষয়টি নজরে আসার পর কমিটি গঠন করায় ওই কমিটি এখন ভিন্ন পদ্ধতিতে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরাসরি রোগীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। বর্তমানে সিলিন্ডারবাহী গাড়ি করোনা ওয়ার্ডের সামনে পৌঁছার পর পুলিশের সহায়তায় সেগুলো করোনা ওয়ার্ডের দ্বিতীয় থেকে ৫ম তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীর কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। ওইসব ফ্লোরে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজনরা ওই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীর কাছে গিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডারের চাহিদা জানায়। এরপর সংশ্লিষ্ট ফ্লোরের দায়িত্বরত নার্স ওই রোগীর অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা তদারকি করেন। অক্সিজেন প্রয়োজন আছে নিশ্চিত হলেই কেবল তাকে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে। অক্সিজেন সিলিন্ডারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কারণে এখন রোগীদের অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে অভিযোগ কমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার এই হাসপাতালের ৩শ’ শয্যার করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৩৪৩ জন রোগী। এর মধ্যে আইসিইউ সুবিধা পাচ্ছেন ২৬ জন রোগী। হাই ফ্লো ন্যাসল ক্যানোলা সেবা পাচ্ছেন ৬৯ জন রোগী। সেন্ট্রাল অক্সিজেন সেবা পাচ্ছেন ১০৭ জন রোগী। বাকী রোগীদের সিলিন্ডার অক্সিজেন সেবা প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে আলাপকালে বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, শের-ই বাংলা মেডিকেলের করোনা ওয়ার্ডে ভবিষ্যতে যাতে অক্সিজেন সিলিন্ডারের অব্যবস্থাপনা না হয় সে ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগ এবং প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি রোগীর স্বজনদের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

এই বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT