‘আল্লাহ যা করেন তাই হবে’ ‘আল্লাহ যা করেন তাই হবে’ - ajkerparibartan.com
‘আল্লাহ যা করেন তাই হবে’

3:36 pm , July 24, 2021

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ করোনার সংক্রমন প্রতিরোধ দ্বিতীয় দফায় ১৪ দিনের কঠোর বিধি নিষেধ পালন তেমন জোড়ালো নয়। সাদামাটাভাবে চলছে কঠোর লগডাউন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার প্রধান শর্ত পালনে আগ্রহী নয় নগরবাসী। গতকাল শনিবার নগরীর বাজার থেকে শুরু করে অলিগলি ও প্রধান সড়কে জনসমাগম দেখা গেছে। নগরীর পোর্ট রোড, বাংলা বাজার, সদর রোড, আমতলার মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। সবচেয়ে বেশি মানুষের জটলা ছিল কাঁচাবাজারে। সিংহভাগের মাস্ক থুতনিতে ঝুলিয়ে রেখেছেন। প্রধান সড়কগুলোতে গণপরিবহন না চললেও রিকশা, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত পরিবহন সবই চলছে। কাকলির মোড় কথা হয় মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়া ফিরোজের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বাজারে মাছ কিনতে এসেছিলাম। ভালো মাছ পাইনি তাই বাসায় চলে যাচ্ছি।’ মোটরসাইকেলে পরিবার নিয়ে বের হওয়া জাহিদের সঙ্গে কথা হয় শিশু পার্কের সামনে। তিনি বলেন, ‘শ্বশুর অসুস্থ। তাই পরিবার নিয়ে শ্বশুরকে দেখতে নলছিটি যাচ্ছি।’
নগরীর চৌমাথায় কথা হয় জহিরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কেমন লকডাউন চলছে তা দেখতে এসেছি। এখানে এসে তো দেখছি গনপরিবহনের সিংহভাগ যানবাহন চলছে। মানুষও ঘর থেকে বের হচ্ছে। তাহলে লকডাউন দিয়ে লাভ কী ?’
পোর্ট রোড মৎস্য বিতরন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, মানুষের প্রচন্ড ভিড়। বাজারটি থেকে কেউ ভিড় করে মাছ কিনছেন। আবারও কেউ বিনা কারণেও ঘোরাঘুরি করছেন। অধিকাংশের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি।
মাস্ক ছাড়া মাছ বাজারটিতে আসা নারী ফরিদা বেগম বলেন, ‘আমার কোনো ঠান্ডা-জ্বর নেই। আমি করোনা ভাইরাস ভয় পাই না। আল্লাহ যা করেন তাই হবে।
এখানে কেন এসেছেন ? এমন প্রশ্ন করলে তিনি রেগে গিয়ে বলেন, কাজ ছাড়া তো আমি এখানে চেহারা দেখাতে আসি নাই। কোরবানীর মাংস খেতে আর ভালো লাগে না। তাই মাছ কিনতে এসেছি। বিনা কারনে এখানে আসিনি বুঝলেন।
বাজারে ভিড় ঠেলে সবজি কিনে বাইরে আসা কহিনুর বেগম বলেন, ‘ঘরে কোনো সবজি নেই। তাই সবজি কিনতে এসেছি। এখানে তো সব দোকানেই ভিড়। সবাই আসছে। আমি এলে সমস্যা কী?’
নগরীর সদর রোডে রিকশাচালক আলম বলেন, ‘গতকালের চেয়ে আজ রাস্তায় মানুষ বেশি। তবে ভাড়া হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে দুই-একটা ভাড়া পাচ্ছি। বেশিরভাগ মানুষ হাঁটাহাঁটি করছে।
একমাত্র দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস ও লঞ্চ ছাড়া বরিশাল – ঢাকা মহাসড়কে বিভিন্ন পণবাহি যানবাহনে ও মোটর সাইকেল চলাচল করছে। এসব যানবাহনে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে চাকুরীজীবীরা।
বরিশাল- ঢাকা মহাসড়কের শিক্ষা বোর্ড অফিসের সামনে একদল মোটর সাইকেল চালক অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে মাওয়ার উদ্দেশ্যে ছুটতে দেখা গেছে। তারা সংবাদ কর্মী দেখলে তারা যাত্রীদের দুরে সরিয়ে দেয়। সংবাদ কর্মীরা সরে গেলেই পুনরায় যাত্রী নিয়ে যাত্রা করে।
এছাড়া এসময় বেশ কিছু পন্যবাহী পিকাপ ও পথে পথে বিনা বাধায় যাত্রী উঠাতে দেখে গেছে। এক চালককে যাত্রী উঠানোর কারন জানতে চাইলে তারাও খোড়া অজুহাত দেখান।
বরিশাল- ঢাকা মহাসড়কে সেনাবাহিনী ও ট্রাফিক পুলিশ ছিল তৎপর। তারা বিভিন্ন যানবাহন, মোটর সাইকেল ও রিক্সায় অতিরিক্ত যাত্রী নামিয়ে দিতে দেখা গেছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনিটি ভ্রাম্যমান আদালত দোকান খোলার কারনে জরিমানা করেছে।
পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বলেন, কঠোর লকাডাউন বাস্তবায়নে পুলিশের ২০টি দল অবিরত কাজ করে যাচ্ছে। কঠোরতম লকডাউনের বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, করোনার সংক্রমণ রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি সহ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচী চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক দল প্রতিদিন মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিধি অমান্য হলে দেওয়া হচ্ছে দ-।

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন    
সম্পাদক ও প্রকাশক: কাজী মিরাজ মাহমুদ
 
বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ কুশলা হাউজ, ১৩৮ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক,
সদর রোড (শহীদ মিনারের বিপরীতে), বরিশাল-৮২০০।
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Developed by NEXTZEN-IT