3:25 pm , July 16, 2021
বিশেষ প্রতিবেদক ॥ নমুনা পরীক্ষা বৃদ্ধির সাথে দক্ষিনাঞ্চলে করোনা সংক্রমন ও মৃত্যুর সংখ্যা ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে আবারো বেড়েছে। প্রতিদিনই এ অঞ্চলে মৃত্যুর মিছিল ক্রমশ লম্বা হচ্ছে। শুক্রবার দুপুরে পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় বরগুনা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ভোলাতে আরো ৫ জনের মৃত্যুর সাথে এ অঞ্চলে ২ হাজার ৫৮২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫৩৫ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৩ জনই নারী। আগের দিন শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৫শ। এনিয়ে দক্ষিনাঞ্চলে মৃত্যুর মিছিলে ৩৭ জনের নাম যুক্ত হয়েছে। আর এ পর্যন্ত সর্বমোট ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৫ হাজার ১৩১ জনের দেহে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। গড় শনাক্তের হার এখন ১৮.৬৬%। যা ১৫ দিন আগের চেয়ে ৩% বেশী। এরমধ্যে চলিত মাসের প্রথম ১৫ দিনেই দক্ষিণাঞ্চলে ২২ হাজার ৮৮৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৭ হাজার ৫৫৮ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। আর এ মাসের প্রথম ১৫ দিনে মারা গেছেন ৬৯ জন। এ সময়ে নগরীতেই ১ হাজার ৬৫৮ জন শনাক্তের মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
লকডাউন শিথিলে ফলে আগামী সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ রূপ লাভ করবে তা নিয়ে ইতোমধ্যেই শংকা প্রকাশ করেছেন একাধিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল মহলেও। শুক্রবার দুপরের পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় পটুয়াখালী,বরগুনা, ভোলা ও ঝালকাঠীতে সংক্রমনের সংখ্যা যথেষ্ট বৃদ্ধি পেলেও এখনো মহানগরী সহ বরিশাল জেলায় সংক্রমন সংখ্যা তুলনামূলক বেশী। এ সময়ে মহানগরীতে ৮৪ জন সহ বরিশাল জেলায় শনাক্তের সংখ্যা ছিল ১৮৪। যা পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টার চেয়ে ৬জন কম হলেও ইতোমধ্যে বরিশাল জেলায় সংক্রমন ১০ হাজার ছাড়িয়ে আরো ৬৮৪ যোগ হয়েছে। যারমধ্যে মহানগরীতে ৭ হাজার ৪৪৩ জন আক্রান্তের বিপরীতে ৭৪ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলাটিতে সংক্রমনের গড়হার দক্ষিণাঞ্চলের তৃতীয় সর্বোচ্চ ২১.৩৭%। গত ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে ছোট জেলা ঝালকাঠীর পরিস্থিতির আরো অবনিত ঘটেছে। ৪ উপজেলার এ জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ৩৩০ জনের নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে ১০৪ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। সংখ্যাটা আগের ২৪ ঘন্টায় ছিল ৮৫। তবে গত ৪৮ ঘন্টায় জেলাটিতে কোন মৃত্যু সংবাদ নেই। দক্ষিণাঞ্চলের সর্বোচ্চ সংক্রমন ২৬.৫২%-এর ঝালকাঠীতে এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৫৫০ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ২১০ জনের। মারা গেছেন ৪৫ জন। জেলাটিতে মৃত্যুহারও তৃতীয় সর্বোচ্চ, ১.৪০%। ভোলাতে ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে সংক্রমন সংখ্যা প্রায় দ্বিগুন বৃদ্ধি পেয়ে আগের দিনের ৪৭ থেকে ৭১-এ উন্নীত হয়েছে। জেলাটিতে গত ২৪ ঘন্টায় ১৭১ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৭৩৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৮৭ জনের। মারা গেছেন ২৭ জন। দ্বীপজেলাটিতে মৃত্যুহার এখনো দক্ষিণাঞ্চলের সর্বনি¤œ, ১.০৯%। তবে গত এক মাসে বৃহস্পতিবারেই জেলাটির পৌর এলাকার দুই নম্বর ওয়ার্ডের এক নারী জেনারেল হাসপাতালে মারা গেলেন। তবে ভোলাতে শনাক্তের হরা তুলনামূলকভাবে বেশী ১৪.৩৩%। আরেক ছোট জেলা বরগুনাতেও ক্রমবর্ধমান সংক্রমন মারাত্মক ঝুকি সৃষ্টি করছে। জেলাটিতে এ পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যুর ফলে শতকরা হারে এখন পটুয়াখালীর সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ স্থানে। গত ২৪ ঘন্টায় জেলাটিতে ২০৯ জনের নমুনা পরিক্ষায় ৬৬ জনের দেহে করোনা পজিটিভ শনাক্তের সাথে তালতলী ও সদর উপজেলার এক নারী ও পুরুষের মৃত্যু হয়েছে সরকারী হাসপাতালে। এ নিয়ে বরগুনার ১৫ হাজার ৯২২ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ সনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ১৫৫ জনের দেহে। জেলাটিতে সনাক্তর হার গত ১৫ দিনে ৩% বেড়ে এখন ১২.৯৯%। ফলে বরগুনা সর্বনি¤œ সনাক্তের নাম থেকে দ্বিতীয় সর্বনি¤œ স্থানে উঠে এসেছে। পটুয়াখালীতেও গত ২৪ ঘন্টায় ৩৪১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৪১ জনের দেহে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে জেলাটির বাউফলের মদনপুরাতে ৩০ বছর বয়স্কা এক নারী করোনা আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে মারা গেছেন। ফলে জেলাটিতে মৃত্যু সংখ্যা ৬১ জনে উন্নীত হয়েছে। জেলাটিতে এ পর্যন্ত ২৩ হাজার ৮৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ হাজার ১২৭ জনের দেহে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। সনাক্তের গড়হার দক্ষিণাঞ্চলের সর্বনি¤œ, ১২.৭১%। গড় মৃত্যুহার ১.৯৫%।
পিরোজপুরেও পরিস্থিতির তেমন উল্লেখযোগ্য কোন উন্নতি হচ্ছে না। গত ২৪ ঘন্টায় জেলাটিতে ৪৬৪ জনের নমুনা পরিক্ষায় আরো ৬০ জনের দেহে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। তবে জেলাটিতে দশদিনে সংক্রমন হার প্রায় ৫৫% থেকে শুক্রবারে ১৫%-এর নিচে নেমে এসেছে শুক্রবারে। বৃহস্পতিবার জেলা হাসপাতালে সদর উপজেলার রানীপুর এলাকার ৭৫ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তি মারা গেছেন। এ নিয়ে জেলাটিতে ৩ হাজার ৪৬৮ জন আক্রান্তের মধ্যে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলাটিতে এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৪ হাজার ৩০ জনের। শনাক্তের গড় হার দক্ষিণাঞ্চলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৪.৭২%। মৃত্যুহারও এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, ১.৫৯%। গত ২৪ ঘন্টায় দক্ষিনাঞ্চলে বিভিন্ন জেলায় আরো ১১১ জন সহ ১৬ হাজার ৭১১ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমিত হিসেবে বলা হয়েছে। সুস্থতার হার এখন ৬৬.৫০%। যা একমাস আগের তুলনায় ১২.২৫% এবং গত ১ জুুলাইয়ের চেয়ে ৮% কম।
