3:28 pm , July 10, 2021
সাঈদ পান্থ ॥ মেঘনা, সুগন্ধা, সন্ধ্যা ও র্কীতণখোলা নদীর অভ্যাহত ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পরেছে বরিশালের মানুষ। বিশেষ করে মেঘনা ঘেরা মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা উপজেলাবাসী এই দুর্ভোগে রয়েছে। পাশাপাশি সুগন্ধা ও সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে নিরঘুম দিন কাটাচ্ছে বানারীপাড়া, বাবুগঞ্জ ও উজিরপুরের মানুষ। তবে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল জাহিদ ফারুক শামীম এমপি বলেন, নদী ভাঙন নিয়ে আমাদের বেশ কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে। সেগুলো পাশ হলে এই দুর্ভোগ কমে যাবে। জানা গেছে, এই জেলার মধ্যে প্রাকৃতিক সৌন্দয্যের এক অপরুপ লীলাভূমি মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই উপজেলার উত্তরে মেঘনা নদীর ওপাড়ে লক্ষিপুর, দক্ষিনে বরিশাল, পূর্বে ভোলা ও পশ্চিমে হিজলা ও মুলাদী। প্রতি বছর এই উপজেলার প্রায় সবগুলো ইউনিয়নই নদী ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে। এই অব্যাহত নদী ভাঙ্গনের ফলে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে এই উপজেলার মানচিত্র। ইতিপূর্বে উলানিয়া মেঘনা নদীর তীর রক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে বাঁধ নির্মানের ফলে ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ি, উলানিয়া বাজার, উলানিয়া করনেশন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহ ভাঙ্গনকোলে থাকা কয়েকটি গ্রাম রক্ষা পেয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে পানি নেমে আসায় রাক্ষুসী মেঘনা, গজারিয়া, তেতুলিয়া ও ইলিশা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশী নদী ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে মেহেন্দিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের রুকুন্দি ও সাদেকপুর গ্রাম। এখানে প্রতিদিনই নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে কোন না কোন বসত বাড়ি ও ফসলি জমি। এছাড়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের লেঙ্গুটিয়া, শিন্নিরচর, চরশেফালী, ভাষানচর ইউনিয়নের বাগরজা, লঞ্চঘাট এলাকা, চরগোপালপুর ইউনিয়নের আমীরগঞ্জ রাস্তার মাথা, গাজীরচর, গোবিন্দপুর ইউনিয়নের তেতুলিয়া, আলীমাবাদ ইউনিয়নের মাঝকাজী, গাগুরিয়া, শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর বাজার, বগিরচর এবং উলানিয়া, চানপুর, চরএককরিয়া ও দড়িরচর খাজুরিয়া ইউনিয়নে অব্যাহত নদী ভাঙ্গনের ফলে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকার লোকজন এরই মধ্যে বসত বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। অনেকে আবার সড়কের পাশেই খড়কুটো দিয়ে ছাপরা ঘর বানিয়ে মানবেতর ভাবে জীবন যাপন করছে। সচেতন মহল জানান, নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনই কোন কার্যকরি ব্যবস্থা না নিলে হারিয়ে যেতে পারে মেহেন্দিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন হাট-বাজার, মাধ্যমিক-প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, বসত বাড়ি, ফসিল জমি সহ গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা। নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে অচিরেই একটি কার্যকরি পদক্ষেপগ্রহণের জন্য সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন এলাকাবাসী।
এদিকে মেঘনা নদীর কড়ালগ্রাসে বিলীন হয়ে যাচ্ছে হিজলা উপজেলা। উপজেলা সংলগ্ন ৮নং বাউশিয়া, ৭ নং ওয়ার্ড বাহেরচর, ৯ নং ওয়ার্ড উত্তর বাউশিয়া, পুরাতন হিজলা বন্দর এলাকা নদী ভাঙন কবলিত। বেশ কয়েকবার এই স্পটগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ড এর প্রকৌশলীরা পরির্দশন করলেও কোন সুফল পায়নি এই উপজেলাবাসী। হুমকীর মুখে রয়েছে হিজলা উপজেলা পরিষদ, প্রশাসনিক ভবন ও ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যদিও পরির্দশনের পর কয়েকবার জিও ব্যাগ ফেলেও তেমন কোন উপকায় হয়নি উপজেলাবাসীর।
অপর দিকে সন্ধ্যা ও সুগন্ধ্যা নদীর ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পরেছে বাবুগঞ্জ, বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলা। নতুন করে তান্ডব চালাচ্ছে আড়িয়াল খাঁ নদী। বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ ফেরিঘাট সংলগ্ন রহমতপুর-চাঁদপাশা ইউনিয়ন সড়কের ২০০ মিটার ইটের সলিং আড়িয়াল খাঁ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে পাঁচ গ্রামের মানুষ। পাশাপাশি হুমকিতে পরেছে মীরগঞ্জসহ ১০টি বসতবাড়ি। রহমতপুর ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার মাহমুদ বলেন, গত বছর একদিনে পাঁচটি বসতবাড়ি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ সড়কের একাংশ বিলীন হয়ে যায়। তৎকালীন সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদার সঠিকভাবে ভাঙন রক্ষাবাঁধ মেরামত করেনি। চলতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড সংযোগ সড়ক রক্ষার্থে আবারও ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করলেও ঠিকাদার নির্দিষ্ট সময় বালুভর্তি বস্তা নদীতে না ফেলার কারণে সড়কটি রহমতপুর-চাঁদপাশা সড়কটি আড়িয়াল খাঁ নদীর গর্ভে চলে যায়। হুমকির মুখে রয়েছে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট ও মীরগঞ্জ বাজার।
সম্প্রতি বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলা উপজেলায় মেঘনাসহ অন্যান্য নদীর ভাঙন রোধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মুখেও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ উলানিয়া, শুকনাকাঠি, চাঁনপুর, রুকুন্দী সাদেকপুর, শ্রীপুর, চর গোপালপুর, জাঙ্গালিয়া, দরিরচর খাজুরিয়া ও ভাসানচর ইউনিয়নসমূহ এবং হিজলা উপজেলার বড়জালিয়া, হরিনাথপুর, ধূলখোলা, হিজলা গৌরবদী, ইউনিয়নসমূহের প্রধান নদী মেঘনা ও উপ নদী ছাড়াও তেতুলিয়া, গজারিয়া, কালাবদর, মাসকাটা ও লতা নদীদ্বারা ব্যাপক নদী-ভাঙনে স্থানীয়রা আজ রিক্ত নিঃস্ব ছিন্নমূল হয়ে পড়েছেন বলে জানানো হয়। তাই তারা অবিলম্বে দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও মানুষের জান-মাল রক্ষা দাবী জানিয়েছে।
