3:01 pm , July 4, 2021
হেলাল উদ্দিন ॥ ঝড় কিংবা প্রখর রোদ। দিনের আলো কিংবা রাতের আধার। নগরীতে ট্রাকে করে সড়কে জীবানু নাশক স্প্রে ছিটানো নিয়মিত দৃশ্যে পরিনত হয়েছে। শুরুর দিকে অনেকের কাছে দূর্বোধ্য ছিলো। ছিলো প্রশ্ন। কেন এই পানি ছিটানো। এর উপকারিতাই বা কি? যারা জেনেছেন বা বুঝেছেন তাদের মধ্যে অনেকই এ কার্যক্রম কে নিয়ে হাস্য রসে মেতেছেন। বিদ্রুপ করে বলেছেন জীবানু নাশক নয় ছিটানো হচ্ছে সাধারন পানি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন এই জীবানু নাশক স্প্রেই নগরবাসীকে করোনা সংক্রমন থেকে মুক্ত রাখতে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করছে। করোনার সংক্রমন রোধে নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন তার মধ্যে এই পদক্ষেপটি অতিক্ষুদ্র হলেও সার্বিক মূল্যায়নে এর গুরুত্ব সর্বাগ্রে। কারন করোনা সংক্রমনের বড় একটি মাধ্যম সড়ক। আর এই সড়ক নগরবাসীর জন্য নিরাপদ করা হয়েছে জীবানু নাশক স্প্রে ছিটিয়ে। সিটি মেয়রের এমন সিদ্ধান্তকে দূরদর্শী ও বিচক্ষন বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন মেয়রের এমন পদক্ষেপ নগরবাসীকে সংক্রমনের ঝুকি থেকে এক ধাপ দুরে রেখেছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে করোনা সংক্রমন শুরু হবার পর নগরীর সড়কে সড়কে জীবানু নাশক স্প্রে ছিটানোর কার্যক্রম শুরু হয়। এই কার্যক্রম এক দিনের জন্যও বন্ধ রাখা হয়নি। চলছে অদ্যাবধি। প্রতিদিন গড়ে নগরীতে ৪০ হাজার লিটার জীবানু নাশক স্প্রে করা হয়। সে হিসাবে মাসে ১২ লাখ লিটার এবং গত ১৪ মাসে ১ কোটি ৬৮ লাখ লিটারের অধিক স্প্রে করা হয়েছে নগরীর সড়ক গুলোতে। বিসিসির পানি শাখার দায়িত্বরত কর্মকর্তা পান্না বলেন, ৪০ হাজার লিটার পানিতে উচ্চ মাত্রায় ব্লিসিন পাউডার এবং অন্যান্য জীবানু নাশক ঔষধ মেশানো হয়। যা প্রতিদিন ৩ টি ট্রাকে করে নগরীর সড়কে সড়কে ছিটানো হয়। তিনি বলেন অনেক সময় প্রয়োজনে ৪০ হাজার লিটারের বেশীও ছিটানো হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা বিশেষ দিন কোন কারনেই শুরু থেকে এখন পর্যন্ত একদিনের জন্য স্প্রে ছিটানো বন্ধ রাখা হয়নি। বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন বলেন সড়ক করোনা সংক্রমনের বড় একটি উৎস। এখান থেকে নানা ভাবে সংক্রমিত হওয়ার ঝুকি থাকে। মেয়র মহোদ্বয় সড়কে জীবানু নাশক স্প্রে ছিটানোর যে কাজটি করছেন তা প্রশংসার উর্ধ্বে। দেশের অনেক সিটি করপোরেশনে এমনটি দেখা যায় না বলেও জানান তিনি। সিটি মেয়রের এমন পদক্ষেপ প্রসংশা কুড়িয়েছে নগরীর সচেতন মহলে।
