2:52 pm , July 4, 2021
গৌরনদী প্রতিবেদক ॥ গৌরনদী পৌর কৃষকলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন উকিল (৫৫) সালিশ বৈঠকে উপস্থিত হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে হুমকি দেয়া ও হামলা করায় আতংকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নাঠৈ গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধার আলমগীর বেপারী (৬৬)। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার বরিশালের গৌরনদী উপজেলার উত্তর বিজয়পুর এলাকায়। নিহত আলমগীর বেপারী চাঁদশী ইউনিয়নের দক্ষিণ নাঠৈ গ্রামের বাসিন্দা। নিহতের পুত্র জাহিদ হোসেন (৪৫) অভিযোগ করে বলেন,শনিবার উত্তর বিজয়পুর গ্রামে বসবাসরত আমার আপন চাচা সিরাজুল ইসলাম বেপারীর বাড়ীতে পারিবারিক দ্বন্দ মীমাংসার জন্য সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে যোগ দিতে যান আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন (৬৬), আরেক চাচা মোক্তার হোসেন (৬০) ও নিকট আত্মীয় কাঞ্চন সরদার (৪৫)। সালিশ বৈঠকে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে স্থানীয় প্রতিপক্ষ গৌরনদী পৌর কৃষকলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ আলমগীর উকিল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাবা মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেনের উপর চড়াও হয় এবং বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদান করে। এক পর্যায়ে আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন প্রান ভয়ে আতংকিত হয়ে চাচা সিরাজুল ইসলামের ঘরের মধ্যে আশ্রয় নেন। কৃষকলীগ নেতা আলমগীর হোসেন (৫৫) ওই ঘরের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ সময় ভয়ে আতংকিত হয়ে বাবা আলমগীর বেপারী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি প্রতিপক্ষ আলমগীর উকিলের শাস্তি দাবী করেন। মুক্তিযোদ্ধাকে হুমকি দেয়া ও ঘরে ইট পাটকেল হামলা করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কৃষকলীগ নেতা আলমগীর হোসেন উকিল। গৌরনদী মডেল থানার ওসি মোঃ আফজাল হোসেন বলেন, বিষয়টি শুনেছি কিন্তু এ বিষয়ে এখনো কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলমগীর হোসেন বেপারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে গৌরনদী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলাম প্রিন্স ও মডেল থানার ওসি আফজাল হোসেনসহ পুলিশের চৌকশ সদস্যরা।
